Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

Neymar

নেইমার

ফরোয়ার্ড
  • জাতীয়তা:
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত: ১৩
  • মোট খেলা: ১৩
  • বয়স: ৩৪
  • উচ্চতা: ৫৮৮ মিটার
  • ওজন: ০ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

ফরোয়ার্ড

ব্রাজিলের মোজী দাস ক্রুজেস শহর থেকে উঠে আসা নেইমার জুনিয়র আধুনিক ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। গতি, ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় তিনি অল্প বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া নেইমারের পুরো নাম নেইমার দ্য সিলভা সান্তোস জুনিয়র। ফুটবল পরিবারের সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই তার মধ্যে খেলাটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ গড়ে ওঠে। বাবার তত্ত্বাবধানেই তার ক্যারিয়ার ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে।

শৈশব ও গড়ে ওঠার গল্প
২০০৩ সালে পরিবারের সঙ্গে সাঁও ভিসেন্তে শহরে আসার পর নেইমার যোগ দেন স্থানীয় যুব ক্লাব পর্তুগিসা সান্তিস্তাতে। একই বছর তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসের যুব একাডেমিতে যুক্ত হন। খুব অল্প বয়সেই তার প্রতিভা সবার নজরে আসে। সতীর্থ পাওলো হেনরিক গানসোর সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি যুব পর্যায়েই আলো ছড়াতে শুরু করেন।

সান্তোসে উত্থান
২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের মূল দলে অভিষেক হয় নেইমারের। অভিষেক মৌসুমেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ২০১০ মৌসুমে তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ঝড় তোলেন। এক ম্যাচে পাঁচ গোলসহ একাধিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। সে বছরই তিনি ৬০ ম্যাচে ৪২ গোল করেন যা তার সম্ভাবনাকে বিশ্ব ফুটবলে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

২০১১ সালে সান্তোসের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস জিতে তিনি ক্লাবটিকে দীর্ঘদিন পর মহাদেশীয় শিরোপা এনে দেন। এই সময়েই তিনি দক্ষিণ আমেরিকার সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০১২ মৌসুমে নেইমার আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। সান্তোসের হয়ে শততম গোল, একাধিক হ্যাটট্রিক এবং লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব তাকে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর নজরে আনে।

ইউরোপ যাত্রা
২০১৩ সালে স্পেনের শীর্ষ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। ক্যাম্প ন্যুতে তাকে স্বাগত জানাতে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। বার্সেলোনায় লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে ওঠে ভয়ংকর আক্রমণভাগ ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। এই সময়ে ক্লাবটি একাধিক শিরোপা জেতে, যার মধ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অন্যতম। এ সময় নেইমার ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সক্ষমতা দেখান।

ব্রাজিল জাতীয় দলে উত্থান
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে তিনি জানান দেন বড় মঞ্চের জন্য তিনি প্রস্তুত। ২০১১ কোপা আমেরিকা থেকে শুরু করে ২০১২ অলিম্পিক পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তিনি ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন। ২০১৩ কনফেডারেশন কাপে তিনি ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিচিতি
অল্প বয়সেই বাবা হন নেইমার। তার ছেলে দাভি লুকা জন্ম নেয় ২০১১ সালে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ধর্মপ্রাণ হিসেবে পরিচিত এবং নিয়মিতভাবে দান-সদকা করেন বলেও জানা যায়। ফুটবলের বাইরে তার জীবনেও নানা সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আলোচনার বিষয় উঠে এসেছে, তবে মাঠের পারফরম্যান্সই তাকে মূলত বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলে।

একটি প্রজন্মের আইকন
গতি, স্কিল, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীল ফুটবলের কারণে নেইমারকে অনেকেই পেলে ও রোনালদিনহোর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করেন। সমালোচনা থাকলেও তার প্রতিভা ও প্রভাব তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।

ফুটবলবিশ্বে নেইমারের যাত্রা শুধু একজন খেলোয়াড়ের গল্প নয় এটি প্রতিভা, পরিশ্রম এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।