Antoine Griezmann

অঁতোয়ান গ্রিজম্যান

সেন্টার ফরোয়ার্ড
  • জাতীয়তা: ফ্রান্স
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত:
  • মোট খেলা: ১৯
  • বয়স: ৩৫
  • উচ্চতা: ১১০ মিটার
  • ওজন: ৭৩ কেজি
  • পা: বাম পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

সেন্টার ফরোয়ার্ড

ফ্রান্সের ছোট্ট শহর মাকোঁ থেকে শুরু। তারপর স্পেনের ফুটবল মঞ্চে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা, ইউরোপের বড় বড় ম্যাচে নায়ক হয়ে ওঠা এবং বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অঁতোয়ান গ্রিজমানের গল্পটা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। ক্যারিয়ারের শুরুতে শারীরিক গঠনের কারণে অনেক ক্লাবের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা এবং গোল করার দক্ষতা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে।

মাকোঁর ছেলে থেকে স্পেনের পথে

১৯৯১ সালের ২১ মার্চ ফ্রান্সের মাকোঁ শহরে জন্মগ্রহণ করেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার প্রবল ভালোবাসা। কিন্তু শারীরিকভাবে ছোট হওয়ায় ফ্রান্সের অনেক ক্লাবই তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখায়নি। তবে ভাগ্য বদলে যায় স্পেনে। একটি যুব টুর্নামেন্টে তার খেলা দেখে মুগ্ধ হয় রিয়াল সোসিয়েদাদের স্কাউটরা। এরপর খুব অল্প বয়সেই তিনি স্পেনে পাড়ি জমান এবং সেখানেই শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা।

রিয়াল সোসিয়েদাদে উত্থান

২০০৯ সালে রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় গ্রিজমানের। প্রথমদিকে উইঙ্গার হিসেবে খেললেও তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা দ্রুতই তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করে। ২০০৯-১০ মৌসুমে সেহুন্দা দিভিসিওন শিরোপা জিতে ক্লাবকে লা লিগায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তী কয়েক বছরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে চলে আসেন।

আতলেতিকো মাদ্রিদে তারকাখ্যাতি

২০১৪ সালে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন গ্রিজমান। অনেকেই ভেবেছিলেন নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে, কিন্তু তিনি শুরু থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত। আতলেতিকোতে এসে তিনি উইঙ্গার থেকে ধীরে ধীরে সেন্টার ফরোয়ার্ডে রূপান্তরিত হন। গোল করা, সুযোগ তৈরি করা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা তাকে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করে। ২০১৪-১৫ মৌসুমেই তিনি ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং লা লিগার বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নেন। ২০১৬ সালে লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।

ইউরোপের সেরাদের কাতারে

২০১৬ সাল ছিল গ্রিজমানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছর। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে তিনি ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় এবং ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের মনোনয়নে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। দুই বছর পর ২০১৮ সালেও তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নিজের নাম ধরে রাখেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করে।

বার্সেলোনায় নতুন অধ্যায়

২০১৯ সালের জুলাইয়ে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর বার্সেলোনায় যোগ দেন গ্রিজমান। প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের একজন বানায়। যদিও বার্সেলোনায় তার সময়টা প্রত্যাশামতো সফল ছিল না, তবুও গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচে তিনি দলের হয়ে অবদান রেখেছেন। পরে আবার আতলেতিকো মাদ্রিদে ফিরে এসে নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পান।

ফ্রান্সের জার্সিতে সোনালি অধ্যায়

ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে সফল সময় কাটানোর পর ২০১৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয় গ্রিজমানের। খুব দ্রুতই তিনি দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে ওঠেন। ২০১৬ উয়েফা ইউরোতে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স ফাইনালে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি।

বিশ্বকাপ জয় ও অমরত্ব

২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ গ্রিজমানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি ছিলেন ফ্রান্স দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ৪ গোল করে তিনি জেতেন সিলভার বুট এবং ব্রোঞ্জ বল। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও অর্জন করেন। সেই বিশ্বকাপ জয় তাকে ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল খেলোয়াড়দের কাতারে নিয়ে যায়।

ফুটবল বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব

গ্রিজমানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু গোল করা নয়। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করেছে। তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একই সঙ্গে গোল করতে পারেন, অ্যাসিস্ট করতে পারেন এবং দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

এক অনন্য উত্তরাধিকার

বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপ জয় এবং ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের মাধ্যমে অঁতোয়ান গ্রিজমান নিজের নাম লিখিয়েছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায়। মাকোঁর সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ শুধু ফ্রান্সের নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত এবং সফল ফুটবলারের নাম।