Scott McTominay

স্কট ম্যাকটমিনে

সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার
  • জাতীয়তা: স্কটল্যান্ড
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত:
  • মোট খেলা:
  • বয়স: ২৯
  • উচ্চতা: ৪৬০ মিটার
  • ওজন: ০ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

স্কট ম্যাকটমিনে: ওল্ড ট্রাফোর্ডের ছায়া পেরিয়ে নেপলসের নতুন নায়ক

মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না। তারা গোল করেন, আবার গোল ঠেকানও। তারা আক্রমণ গড়েন, আবার প্রয়োজনে যুদ্ধ করেন নিজেদের বক্সের সামনেও। স্কট ম্যাকটমিনে ঠিক তেমনই একজন ফুটবলার যিনি মাঠে নামলে নিঃশব্দে দলের হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠেন।

 

পাঁচ বছর বয়সে শুরু হওয়া এক স্বপ্ন

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে যোগ দেন ম্যাকটমিনে। ছোট্ট ছেলেটির স্বপ্ন ছিল একদিন ওল্ড ট্রাফোর্ডে লাল জার্সি গায়ে মাঠে নামা। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোরে উচ্চতা কম হওয়ায় অনেকেই তাকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কেউ ভাবেনি, একদিন সেই ছেলেটিই ইউনাইটেডের মাঝমাঠে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠবেন। কিন্তু তিনি অপেক্ষা করেছেন। লড়াই করেছেন। আর নিজের সুযোগের জন্য প্রস্তুত থেকেছেন।

 

মরিনহোর বিশ্বাসের প্রতিদান

২০১৭ সালে হোসে মরিনহোর হাত ধরেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার। মরিনহো একবার বলেছিলেন, "ছেলেটার মধ্যে আমি হৃদয় দেখি।" সেই হৃদয় দিয়েই ম্যাকটমিনে জায়গা করে নেন সমর্থকদের মনে। বড় বড় তারকার ভিড়েও তিনি ছিলেন নির্ভরতার আরেক নাম। ওল্ড ট্রাফোর্ডে কাটানো সময়ে তিনি ১৭০টির বেশি ম্যাচ খেলেন। কখনো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, কখনো বক্স-টু-বক্স খেলোয়াড়—দলের প্রয়োজনে নিজেকে বদলে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি।

নেপলসে নতুন জন্ম

২০২৪ সালের আগস্টে অনেকটা চমক দিয়েই ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন তিনি। অনেকের কাছে এটি ছিল এক নতুন চ্যালেঞ্জ। আবার কারও কাছে, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। আর নেপলসে গিয়েই যেন বদলে গেল গল্পের মোড়। তার শক্তিশালী দৌড়, ট্যাকল, বক্সে ঢুকে গোল করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব খুব দ্রুতই সমর্থকদের মন জয় করে নেয়। ইতালিয়ান ফুটবলের কৌশলী পরিবেশেও তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। যে খেলোয়াড়কে একসময় শুধু "পরিশ্রমী" বলা হতো, তিনি এখন ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতেও অভ্যস্ত।

 

স্কটল্যান্ডের নীরব নেতা

ইংল্যান্ডে জন্ম হলেও বাবার সূত্রে স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাকটমিনে। ২০১৮ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন স্কটল্যান্ডের অন্যতম ভরসা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে, তখন মাঝমাঠে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন তিনি। তার আবেগ, লড়াই এবং নেতৃত্ব স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের নতুন করে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে।