Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

Harry Kane

হ্যারি কেইন

ফরোয়ার্ড
  • জাতীয়তা:
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত: ১১
  • মোট খেলা: ১১
  • বয়স: ৩২
  • উচ্চতা: ৫৮৮ মিটার
  • ওজন: ০ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

ফরোয়ার্ড

লন্ডনের পূর্ব প্রান্তের শান্ত এলাকা লেইটনস্টোন। সেখানেই জন্ম হয়েছিল এক ছেলের, যাকে ছোটবেলায় খুব বেশি প্রতিভাবান মনে করেনি কেউ। আর্সেনালের একাডেমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিল মাত্র এক মৌসুম পর। শরীরী গঠন যথেষ্ট নয়, গতি কম এমন নানা সন্দেহ ছিল তাকে ঘিরে। অথচ সেই ছেলেই আজ ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার এবং ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা। তার নাম হ্যারি কেইন।

বর্তমান ফুটবলে গোল করা ও সুযোগ তৈরি দুই ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ খেলোয়াড় খুব বেশি নেই। কিন্তু কেইন সেই বিরল তালিকার অন্যতম। তিনি যেমন বক্সের ভেতরে শিকারির মতো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, তেমনি মাঝমাঠে নেমে খেলাও গড়তে পারেন নিখুঁতভাবে। ৩২ বছর বয়সেও নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকা এই ইংলিশ অধিনায়ক যেন অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিমত্তা ও গোলের মিশেলে এক পূর্ণাঙ্গ ফরোয়ার্ড।

টটেনহ্যামে জন্ম এক গোলমেশিনের
টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে কেইনের গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। মূল দলে জায়গা পেতে তাকে একের পর এক লোনে যেতে হয়েছে- লেইটন ওরিয়েন্ট, মিলওয়াল, নরউইচ সিটি, লেস্টার সিটি। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, হয়তো আর পাঁচজন সাধারণ ইংলিশ স্ট্রাইকারের মতোই হারিয়ে যাবেন তিনি।

কিন্তু ২০১৪-১৫ মৌসুম বদলে দেয় সবকিছু। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল, চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স খুব দ্রুতই তাকে টটেনহামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত করে। সেই মৌসুমেই তিনি জেতেন পিএফএ ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার।

এরপর যেন শুরু হয় একের পর এক রেকর্ড গড়ার অভিযান। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ টানা দুই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। গোল করার ধরনেও ছিল বৈচিত্র্য। কখনো দূরপাল্লার শট, কখনো হেড, কখনো সূক্ষ্ম ফিনিশ। দুই পায়েই সমান দক্ষ এই স্ট্রাইকার দ্রুতই ইউরোপের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।

গোলদাতার চেয়েও বেশি কিছু
কেইনকে শুধু ‘স্ট্রাইকার’ বললে ভুল হবে। আধুনিক ফুটবলে তিনি এক ধরনের ‘প্লেমেকিং ফরোয়ার্ড’। মাঝমাঠে নেমে ডিফেন্স চেরা থ্রু বল দেয়া কিংবা উইংয়ে থাকা সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা সবই করতে পারেন অসাধারণ দক্ষতায়।

২০২০-২১ মৌসুমে তিনি একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হন। গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি জেতেন প্লেমেকার অব দ্য সিজন পুরস্কারও। সেটিই প্রমাণ করে, তিনি শুধু ফিনিশার নন; আক্রমণের পুরো কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও রাখেন।

ওয়েইন রুনি একবার বলেছিলেন, “আমার মতে, সে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা নাম্বার নাইন।”

আর সাবেক কোচ থমাস টুখেলের ভাষায়, “হ্যারি মানসিক ও শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। সে শুধু গোলই করে না, দলের জন্য সমাধানও বের করে।”

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক
২০১৮ বিশ্বকাপ ছিল কেইনের প্রথম বিশ্বকাপ। আর প্রথম আসরেই নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন ইতিহাসে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক গ্রুপপর্বেই তিনি হয়ে ওঠেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ফরোয়ার্ডদের একজন।

শেষ পর্যন্ত ৬ গোল করে জেতেন অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট। ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে যান সেমিফাইনালে, যা ছিল ইংল্যান্ডের বহু বছরের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য।

২০২২ বিশ্বকাপেও আক্রমণের নেতৃত্ব ছিল তার কাঁধে। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় পেনাল্টি মিসের হতাশা আজও তাড়া করে তাকে। সেই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের স্বপ্ন থেমে যায়।

তবু জাতীয় দলের ইতিহাসে তার অবস্থান এখন আলাদা উচ্চতায়। ২০২৩ সালে ইতালির বিপক্ষে গোল করে ভেঙেছেন রুনির আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড। এখন তিনি ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বায়ার্নে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সাফল্য
২০২৩ সালে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। ১১০ মিলিয়নের বেশি ইউরোর ট্রান্সফার ফি তখন জার্মান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম বড় চুক্তি।

অনেকে ভেবেছিলেন, নতুন লিগে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। কিন্তু শুরু থেকেই যেন আগুন ঝরাতে থাকেন তিনি। প্রথম মৌসুমেই বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে জেতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।

এরপর ২০২৪-২৫ মৌসুমে অবশেষে আসে বহু প্রতীক্ষিত দলীয় সাফল্য। বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ট্রফি হাতে তোলেন কেইন। একই মৌসুমে আবারও লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও প্লেয়ার অব দ্য সিজন হন তিনি।

ম্যানুয়েল নুয়্যার তার সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমি যাদের সঙ্গে খেলেছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। গোলের সামনে সে একেবারে খুনি।”

ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প
কেইনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অনুপ্রেরণার জায়গা সম্ভবত এখানেই। আর্সেনালের একাডেমি থেকে বাদ পড়া, টটেনহামে প্রথম দিকে সুযোগ না পাওয়া, বড় ট্রফি না জেতার সমালোচনা সবকিছু পেরিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।

২০১৯ সালে হ্যারি কেইন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করা এই উদ্যোগ তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক তুলে ধরে।

মাঠের বাইরে পরিবারকেন্দ্রিক জীবন, শৃঙ্খলা আর ফিটনেসের প্রতি কঠোর মনোযোগ তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আশা?
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলে আছেন জুড বেলিংহাম, বুকায়া সাকা, ডেকার রিচের মতো তারকা। কিন্তু আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন সেই পুরোনো ভরসা হ্যারি কেইন।

বিশ্বকাপ জিততে ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের অপেক্ষা। আর সেই অপেক্ষা শেষ করার স্বপ্নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একসময় আর্সেনালের একাডেমি থেকে বাদ পড়া ছেলেটি।

হয়তো এটাই হ্যারি কেইনের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশ প্রত্যাখ্যান তাকে থামাতে পারেনি, বরং তৈরি করেছে আরও ভয়ংকর, আরও পরিণত এক কিংবদন্তি।