Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

Cristiano Ronaldo

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ফরোয়ার্ড
  • জাতীয়তা: পর্তুগাল
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত: ২২
  • মোট খেলা: ২২
  • বয়স: ৪১
  • উচ্চতা: ৫৮৮ মিটার
  • ওজন: ০ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

ফরোয়ার্ড

২০০২ সালে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপ থেকে উঠে আসা এক কিশোর আজ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো শাসন করা এই তারকা এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি অনন্য মাইলফলকের সামনে এক হাজার ক্যারিয়ার গোল। কিন্তু অসংখ্য রেকর্ড, ট্রফি আর ব্যক্তিগত সাফল্যের মাঝেও একটি স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে: পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানো।

গোলের মেশিন থেকে ফুটবলের আইকন
লিসবনের স্পোর্টিং সিপিতে প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর রোনালদোর ইউরোপজয় শুরু হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে তিনি কেবল একজন দ্রুতগতির উইঙ্গার ছিলেন না, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ আক্রমণভাগের অস্ত্র।

স্টেপওভার, গতি আর ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি তার খেলার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে গোল করার দক্ষতায়। দূরপাল্লার শট, ফ্রি-কিক, হেড প্রতিটি জায়গায় তিনি নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যান। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ছয় বছরে তিনি জেতেন নয়টি ট্রফি।

২০০৯ সালে বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফারে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। এরপরই শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর গোলযন্ত্রের অধ্যায়। মাত্র ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করে তিনি ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। পাঁচ মৌসুমে ৫০ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে জেতেন চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।

পরবর্তীতে জুভেন্টাসে তিন বছর কাটিয়ে আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরেন। বর্তমানে তিনি খেলছেন সৌদি আরবের আল নাসরে, যেখানে বয়সকে হার মানিয়েও গোল করে চলেছেন নিয়মিত।

সংখ্যার ভেতর এক কিংবদন্তি
রোনালদোর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান আধুনিক ফুটবলে এক বিস্ময়। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ১৩২৩ ম্যাচ, করেছেন ৯৭৩ গোল এবং ২৬১ অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ সরাসরি গোল অবদান ১২৩৪টি।

তার ক্যারিয়ারে রয়েছে ৬৬টি হ্যাটট্রিক। পেনাল্টি থেকে করেছেন ১৮৩ গোল, ফ্রি-কিক থেকে ৬৫ গোল। বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সক্ষমতারও অনন্য উদাহরণ তিনি। ক্যারিয়ারে ২২৮ বার জিতেছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার।

শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পর্তুগালের হয়ে ২২৬ ম্যাচে করেছেন ১৪৩ গোল।

বিশ্বকাপেও তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করেছেন। এছাড়া উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বাধিক গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে।

যেভাবে বদলেছেন নিজেকে
রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তার অভিযোজন ক্ষমতা। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন স্কিলনির্ভর উইঙ্গার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করেছেন ক্লিনিক্যাল স্ট্রাইকারে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তার ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমই তাকে দুই দশক ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকিয়ে রেখেছে। এখনও তার লাফ দেওয়ার ক্ষমতা, শরীরের নিয়ন্ত্রণ ও ফিনিশিং দক্ষতা অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য উদাহরণ।

২০১৯ সালে সাম্পদোরিয়ার বিপক্ষে জুভেন্টাসের হয়ে করা তার বিখ্যাত হেড গোলটি এখনো আলোচনায় আসে। প্রায় ২.৫৬ মিটার উচ্চতায় উঠে গোলটি করেছিলেন তিনি। সেই সময় কোচ মাউরিসি সারি মন্তব্য করেছিলেন, “সে যেন অসীম সময় আকাশে ভেসে ছিল।”

সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের চোখে রোনালদো
রোনালদোকে নিয়ে প্রশংসা করেছেন ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য কিংবদন্তি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি পর্যন্ত বলেছেন, “সে বিশ্বের সেরাদের একজন।”

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতে, রোনালদো ছিলেন “সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু”। জিনেদিন জিদান একবার বলেছিলেন, “দলে রোনালদো থাকলে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই আপনি ১-০ গোলে এগিয়ে থাকেন।”

ইউসেবিওর ভাষায়, “তার বুটে জাদু আছে।”

বিশ্বকাপে শেষ নৃত্য?
২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনালদো। সেই আসরে পর্তুগাল সেমিফাইনালে উঠেছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ প্রতিটি বিশ্বকাপেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি।

বিশেষ করে ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপ সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগাল এবার গড়েছে ভারসাম্যপূর্ণ শক্তিশালী দল। সেখানে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নাদো সিলভা, রাফায়েল লিও, জোয়াও নেভেস ও দিয়াগো কস্তার মতো তারকারা।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ হতে পারে রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। কারণ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অসম্পূর্ণ গল্পগুলোর একটি এখনো লেখা বাকি বিশ্বকাপ হাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।