
তাহিথ চং
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ২৪- জাতীয়তা: কুরাসাও
- মোট গোল: ০
- মোট অ্যাসিস্ট: ০
- মোট দলভুক্ত: ০
- মোট খেলা: ০
- বয়স: ২৬
- উচ্চতা: ১১৩ মিটার
- ওজন: ৭৫ কেজি
- পা: বাম পা
- হলুদ কার্ড: ০
- লাল কার্ড: ০
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার
তাহিথ চং: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে কুরাসাওর নতুন প্রজন্মের মুখ
ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাবের একাডেমি থেকে উঠে আসা অনেক ফুটবলারের মতো তাহিথ চংয়ের গল্পও শুরু হয়েছিল বড় স্বপ্ন নিয়ে। অসাধারণ গতি, বল নিয়ে দৌড়ানোর দক্ষতা এবং আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতার কারণে কৈশোরেই তিনি ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন। একসময় তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভবিষ্যৎ তারকাদের একজন হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।
কুরাসাওতে জন্ম নেওয়া চং শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসে চলে যান। সেখানে ফুটবলের মৌলিক শিক্ষা নেন ডাচ জায়ান্ট ফেইনুর্ডের বিখ্যাত যুব একাডেমিতে। খুব অল্প বয়সেই তার প্রতিভা এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তাকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামে।
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে দলে টেনে আনে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর চং দ্রুতই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। তার চুলের বিশেষ স্টাইল এবং আক্রমণাত্মক খেলার ধরন তাকে সমর্থকদের কাছেও পরিচিত মুখে পরিণত করে। ২০১৮ সালে অবশেষে ইউনাইটেডের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক ঘটে তার, যা ছিল দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল।
তবে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবে সুযোগ পাওয়া যতটা কঠিন, সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং। নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য চংকে জার্মানির ভের্ডার ব্রেমেন এবং বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজের মতো ক্লাবে ধারে খেলতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা তার খেলায় পরিণত ভাব এনে দেয় এবং তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধ্যায় শেষ করে ২০২২ সালে তিনি বার্মিংহাম সিটিতে স্থায়ীভাবে যোগ দেন। সেখানে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্য আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন। এরপর লুটন টাউনের জার্সিতে ইংলিশ ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেন।
ক্যারিয়ারের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে ২০২৫ সালে তিনি শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন। ক্লাবটির আক্রমণভাগে গতি, সৃজনশীলতা এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। মাঠে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও চংয়ের যাত্রা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলে তিনি ডাচ ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু সিনিয়র পর্যায়ে এসে তিনি নিজের শিকড়ের দেশ কুরাসাওকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
এই সিদ্ধান্ত কুরাসাও ফুটবলের জন্য বড় এক অর্জন হিসেবে দেখা হয়। ইউরোপের উচ্চ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে যোগ দেওয়া চং শুধু একজন দক্ষ খেলোয়াড়ই নন, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার উপস্থিতি কুরাসাওর আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়িয়েছে।
তাহিথ চংয়ের ক্যারিয়ার হয়তো এখনও বিকাশমান, তবে তার যাত্রাপথ ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রতিভা, ধৈর্য এবং সঠিক সিদ্ধান্ত একজন ফুটবলারের পরিচয় বদলে দিতে পারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ সম্ভাবনা থেকে কুরাসাও জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠা এটাই তার গল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য।


