Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

Lamine Yamal

লামিনে ইয়ামাল

ফরোয়ার্ড
  • জাতীয়তা:
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত:
  • মোট খেলা: ২৫
  • বয়স:
  • উচ্চতা: ৫৮৮ মিটার
  • ওজন: ০ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

ফরোয়ার্ড

মাত্র কয়েক বছর আগেও যে ছেলেটি বার্সেলোনার একাডেমিতে নিজের স্বপ্ন বুনছিল, সেই লামিনে ইয়ামাল এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। বয়স এখনও ১৯-এ পৌঁছায়নি, অথচ এরই মধ্যে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। আগামী ১৩ জুলাই হবে ইয়ামালের ১৯তম জন্মদিন, ঠিক ২০২৬ বিশ্বকাপের  সেমিফাইনালের আগের দিন। তবে জন্মদিনের আনন্দের চেয়ে তার চোখ এখন একটাই লক্ষ্যেই স্থির স্পেনকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা।

স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই সাফল্যের সময় ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। ১৬ বছর পর সেই স্পেনই এখন নতুন স্বপ্ন দেখছে এক বিস্ময়বালককে ঘিরে। অনেকের মতে, আগামী বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে যাচ্ছেন ইয়ামাল।

বার্সেলোনা থেকে বিশ্বমঞ্চে
বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়া বহু কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ইয়ামাল। ছোটবেলা থেকেই তার অসাধারণ দক্ষতা নজর কেড়েছিল কোচদের। বলা হয়, বার্সেলোনার ট্রায়ালে তিনি এমন এক হ্যাটট্রিক করেছিলেন, যার পর ক্লাব কর্মকর্তারা আর দ্বিতীয়বার তাকে ডাকার প্রয়োজনই মনে করেননি।

২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল, মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর একে একে ভেঙেছেন আরও বহু রেকর্ড চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সী স্টার্টার, এল ক্লাসিকোতে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়, এমনকি সবচেয়ে কম বয়সে বার্সেলোনার হয়ে ৫০ ম্যাচ খেলার কীর্তিও গড়েছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামালের ঝুলিতে এখন ছয়টি বড় শিরোপা। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি স্পেনের হয়ে জিতেছেন উয়েফা ইউরো ২০২৪ এর শিরোপাও।

স্পেনের নতুন পোস্টারবয়
বর্তমান স্পেন দলটিকে অনেকেই ইউরোপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি মনে করেন। কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তের অধীনে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গড়ে ওঠা দলটি ইতোমধ্যেই ইউরো জিতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। আর সেই দলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইয়ামাল।

গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে তার গতি, ড্রিবলিং, দূরপাল্লার শট এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

এই মৌসুমে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি তুলে দেয়া হয়েছে তার হাতে। ক্লাবটির ইতিহাসে এই জার্সি পরেছেন লিওনেল মেসি, রোনালদিনহোর মতো কিংবদন্তিরা। তাই ইয়ামালের কাঁধে প্রত্যাশার ভারও অনেক বেশি।

কিংবদন্তিদের চোখেও ‘বিশেষ’ ইয়ামাল
ইয়ামালের প্রতিভা শুধু সমর্থকদের নয়, মুগ্ধ করেছে ফুটবল বিশ্বের সেরাদেরও।

লিওনেল মেসি বলেন, “লামিনে যা করছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এত কম বয়সেই সে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন।”

স্পেন কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, ইয়ামালের মধ্যে ঈশ্বরপ্রদত্ত এক বিশেষ প্রতিভা আছে।

বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক তাকে বলেছেন ‘জিনিয়াস’। আর পেপ গার্দিওলার মতে, এই বয়সে ইয়ামালের যে পরিণত মানসিকতা, তা সাধারণত ফুটবলাররা ২৪-২৫ বছর বয়সে অর্জন করে।

এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও মনে করেন, ইয়ামাল এমন এক পরিবেশে আছে যেখানে তার প্রতিভা আরও বিকশিত হবে।

রেকর্ড ভাঙাই যেন অভ্যাস
স্পেন জাতীয় দলের হয়েও ইয়ামাল শুরু থেকেই ইতিহাস গড়ছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ১৬ বছর ৫৭ দিন বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। সেই ম্যাচেই গোল করে স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হন।

ইউরো ২০২৪ এ এও তিনি গড়েছেন নতুন ইতিহাস। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত এক গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হন ইয়ামাল।

মাঠের বাইরেও ব্যতিক্রম
ফুটবল মাঠে পরিণত মনে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে ইয়ামাল এখনও একজন সাধারণ তরুণ। ইউরো চলাকালে তিনি অনলাইন ক্লাস করেছেন, স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তার উদ্‌যাপনের বিখ্যাত ‘৩০৪’ ইশারাটি এসেছে রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড থেকে, যেখানে তিনি বড় হয়েছেন।

তার জীবনের আরেকটি মজার ঘটনা শিশু অবস্থায় এক চ্যারিটি ফটোশুটে লিওনেল মেসির সঙ্গে তার একটি ছবি তোলা হয়েছিল। বহু বছর পর সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপ। কাতার বিশ্বকাপের সময়ও তিনি ছিলেন বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি এখন স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসা।

বিশ্বকাপে স্পেনকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ধরা হচ্ছে। আর ইয়ামালকে দেখা হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড  এবং লিওনেল মেসিদের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হিসেবে।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে এই বিস্ময়বালক কি পারবেন স্পেনকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে?