
ইভান পেরিসিচ
লেফট উইঙ্গার ৪- জাতীয়তা: ক্রোয়েশিয়া
- মোট গোল: ৬
- মোট অ্যাসিস্ট: ০
- মোট দলভুক্ত: ১৭
- মোট খেলা: ৩
- বয়স: ৩৭
- উচ্চতা: ১৬৫ মিটার
- ওজন: ৭৩ কেজি
- পা: দুই পা
- হলুদ কার্ড: ০
- লাল কার্ড: ০
লেফট উইঙ্গার
ইভান পেরিশিচ: আড়ালে থেকেও ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের অন্যতম কারিগর
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে লুকা মদ্রিচের নাম যতটা উজ্জ্বল, ইভান পেরিশিচের অবদানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে পার্থক্য হলো, মদ্রিচকে ঘিরে যত আলোচনা হয়, পেরিশিচ প্রায়ই থেকে যান আড়ালে। অথচ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর পেছনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
ইউরোপের বিভিন্ন লিগে নিজেকে প্রমাণ করার পরও পেরিশিচ কখনও কেবল একজন উইঙ্গার ছিলেন না; তিনি ছিলেন দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকায় মানিয়ে নেওয়া এক যোদ্ধা। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগে থেকে শুরু করে জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ইতালির ইন্টার মিলান এবং ইংল্যান্ডের টটেনহ্যাম—প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
বিশেষ করে ইন্টার মিলানের হয়ে তার সময়টা ছিল অসাধারণ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্লাবটিকে সিরি আ শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের অংশ হওয়া তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে।
তবে পেরিশিচকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হবে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে তার পারফরম্যান্সের জন্য। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার গোল ও অ্যাসিস্ট দেশটিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দেয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও গোল করে তিনি দেখিয়ে দেন, বড় মঞ্চে তিনি কতটা কার্যকর।
২০২২ বিশ্বকাপেও তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ক্রোয়েশিয়াকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিকতা, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে ওঠা এবং দলের জন্য আত্মনিবেদন এই তিন গুণই তাকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে।
ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো তাকে সবসময় শিরোনামে দেখেন না, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের গল্প লিখতে গেলে ইভান পেরিশিচের নাম কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না। তিনি সেই নায়ক, যিনি আলোচনার কেন্দ্রে না থেকেও ইতিহাসের পাতায় নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন।


