
আবদুকোদির খুসানভ
সেন্টার-ব্যাক ৪৫- জাতীয়তা: উজবেকিস্তান
- মোট গোল: ০
- মোট অ্যাসিস্ট: ০
- মোট দলভুক্ত: ০
- মোট খেলা: ০
- বয়স: ২২
- উচ্চতা: ৬৫২ মিটার
- ওজন: ৭৭ কেজি
- পা: ডান পা
- হলুদ কার্ড: ০
- লাল কার্ড: ০
সেন্টার-ব্যাক
তাসখন্দের এক ফুটবল পরিবার থেকে শুরু। তারপর বেলারুশ, ফ্রান্স পেরিয়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া। আবদুকোদির খুসানভের গল্পটা যেন উজবেক ফুটবলের নতুন যুগের প্রতীক। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছে গেছেন, যেখানে পৌঁছানো অনেক ফুটবলারের জন্যই স্বপ্নের মতো। শক্তিশালী ডিফেন্স, দুর্দান্ত শারীরিক সক্ষমতা আর অসাধারণ ম্যাচ রিডিংয়ের কারণে খুসানভ এখন উজবেকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের একজন।
তাসখন্দের ছেলে থেকে ইউরোপের পথে
২০০৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে জন্মগ্রহণ করেন আবদুকোদির খুসানভ। খেলাধুলার পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা। তার বাবা হিকমত হাশিমভ ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার, ফলে ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। খুসানভ নিজের ফুটবল শিক্ষা শুরু করেন এফসি বুনিয়াদকরের যুব একাডেমিতে। সেখানেই তার প্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তিনি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিফেন্ডারে পরিণত হন।
২০২২ সালে বেলারুশের ক্লাব এনার্গেটিক-বিজিইউতে যোগ দিয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন খুসানভ। ইউরোপে সেটিই ছিল তার প্রথম চ্যালেঞ্জ। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। দৃঢ় ডিফেন্স, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচে পরিপক্ব পারফরম্যান্সের কারণে দ্রুতই ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের নজরে আসেন।
ফ্রান্সে উত্থান
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফরাসি ক্লাব আরসি লেন্সে যোগ দেন খুসানভ। লিগ ওয়ানের মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরে নিজেকে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সময় নেননি। শক্তিশালী ফরোয়ার্ডদের বিপক্ষে তার আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স এবং ডিফেন্সিভ দক্ষতা ফুটবল বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরে ধীরে তিনি লেন্সের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
ম্যানচেস্টার সিটিতে ঐতিহাসিক অধ্যায়
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আসে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি প্রায় ৪ কোটি ইউরোর বিনিময়ে তাকে দলে ভেড়ায়। এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে খুসানভ ইতিহাস গড়েন। তিনি হয়ে ওঠেন প্রিমিয়ার লিগে খেলা প্রথম উজবেক ফুটবলার। ম্যানচেস্টার সিটির মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানো শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং পুরো উজবেক ফুটবলের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত ছিল। চেলসির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচ খেলেই তিনি আলোচনায় চলে আসেন। এরপর ফেব্রুয়ারিতে করেন নিজের প্রথম গোল, যা তার নতুন অধ্যায়ের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
ডিফেন্সে শক্তি ও নির্ভরতার প্রতীক
খুসানভের সবচেয়ে বড় শক্তি তার শারীরিক সক্ষমতা এবং রক্ষণভাগে দৃঢ় উপস্থিতি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙা, হেডে বল ক্লিয়ার করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করেছে। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেললেও প্রয়োজন হলে রাইট-ব্যাক পজিশনেও সমান কার্যকর তিনি। তার গতি এবং ট্যাকলিং দক্ষতা আধুনিক ফুটবলের ডিফেন্ডারদের মধ্যে তাকে বিশেষ করে তুলেছে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন এই উজবেক তারকা।
জাতীয় দলের ভরসা
উজবেকিস্তান জাতীয় দলের হয়েও খুসানভ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে তিনি এখন অন্যতম প্রধান মুখ। তার নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা উজবেকিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখছে।
নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায়
এখনও ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর পথে রয়েছেন আবদুকোদির খুসানভ। কিন্তু ইতোমধ্যেই তিনি এমন সব অর্জন করেছেন, যা অনেক ফুটবলার পুরো ক্যারিয়ারেও করতে পারেন না। ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করা, উজবেকিস্তানকে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য এনে দেওয়া এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হয়ে ওঠা এখন এটাই তার পরবর্তী লক্ষ্য। তাসখন্দের সেই ছেলেটি আজ শুধু উজবেকিস্তানের নয়, পুরো মধ্য এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আশার নাম।


