Unai Simon

উনাই সিমন

গোলরক্ষক
  • জাতীয়তা: স্পেন
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত:
  • মোট খেলা:
  • বয়স: ২৮
  • উচ্চতা: ৩৬৬ মিটার
  • ওজন: ৭৯ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

গোলরক্ষক

উনাই সিমন একজন স্প্যানিশ পেশাদার ফুটবলার, যিনি অ্যাথলেটিক বিলবাও ও স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। তিনি সমসাময়িক স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত।

 

সিমন তাঁর সমগ্র ক্লাবজীবন অ্যাথলেটিক বিলবাওতেই অতিবাহিত করেছেন। ক্লাবটির যুব একাডেমি, সহযোগী দল ও রিজার্ভ দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন এবং ২০১৮ সালে মূল দলে অভিষেক করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ক্লাবটির হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করেন।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ২০২০ সালে স্পেনের জ্যেষ্ঠ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করেন। এরপর তিনি ২০২০ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেন শিরোপা জয় করলে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

 

২০১৪–১৫ মৌসুমে তেরসেরা দিভিসিওনে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সহযোগী দল বাসকোনিয়ার হয়ে উনাই সিমনের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে অভিষেক ঘটে। ২০১৬ সালে তিনি ক্লাবের রিজার্ভ দলে উন্নীত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

 

২০১৭ সালে তাঁকে মূল দলের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি শিবিরে ডাকা হলেও তিনি রিজার্ভ দলের হয়েই খেলা অব্যাহত রাখেন। ২০১৮ সালে তিনি ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং পরবর্তীতে ধারে এলচে ক্লাবে যোগ দেন। তবে কেপা আরিজাবালাগার ক্লাব ত্যাগ ও ইয়াগো হেরেরিনের চোটের কারণে তাঁকে দ্রুত অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

২০১৮ সালের ২০ আগস্ট লেগানেসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর লা লিগায় অভিষেক ঘটে। শীর্ষ পর্যায়ে মাত্র তৃতীয় ম্যাচেই তিনি রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

 

২০১৯–২০ মৌসুমে তাঁকে দলের এক নম্বর জার্সি প্রদান করা হয় এবং তিনি প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে মৌসুম শুরু করেন। পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের খেলা উপহার দিয়ে তিনি ৩৩টি লিগ ম্যাচে অংশ নেন এবং মাত্র ২৯টি গোল হজম করেন। এর ফলে তিনি জামোরা পুরস্কারের তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

 

২০২০ সালের আগস্টে তিনি ক্লাবের সঙ্গে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেন। ২০২১ সালে গেতাফের বিপক্ষে একটি পেনাল্টি প্রতিহত করেন এবং একই মৌসুমে কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনালে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

 

২০২১–২২ ও ২০২২–২৩ মৌসুমেও তিনি প্রথম একাদশে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ইয়াগো আস্পাসের পেনাল্টি রুখে দিয়ে দলের জয়ে সহায়তা করেন। ২০২৪ সালের মার্চে আলাভেসের বিপক্ষে লুইস রিওহার পেনাল্টি প্রতিহত করার পর শুরু হওয়া আক্রমণ থেকে তাঁর দল গোল করে এবং ম্যাচ জয় করে।

 

যদিও ২০২০ ও ২০২১ সালের কোপা দেল রের ফাইনালে তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন, ২০২৪ সালে অ্যাথলেটিক বিলবাও যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জয় করে, তখন তিনি বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চে ছিলেন। একই বছরে তিনি নিজের চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ান।

 

২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের জন্য প্রদত্ত ইয়াশিন পুরস্কারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ইউরো ২০২৪ শেষে কব্জিতে অস্ত্রোপচারের কারণে ২০২৪–২৫ মৌসুমের প্রথম চার মাস মাঠের বাইরে থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফিরে এসে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলেন।

 

উনাই সিমন স্পেনের অনূর্ধ্ব–১৯ ও অনূর্ধ্ব–২১ জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব–১৯ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন, যদিও পুরো প্রতিযোগিতায় তিনি বিকল্প গোলরক্ষকের ভূমিকা পালন করেন।

 

২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইতালির বিপক্ষে অনূর্ধ্ব–২১ দলের হয়ে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরে ২০১৯ সালের ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব–২১ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন এবং স্পেন শিরোপা জয় করলে তিনিও সেই সাফল্যের অংশীদার হন।

 

২০২০ সালে স্পেনের জ্যেষ্ঠ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর তিনি দ্রুত দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকে পরিণত হন। তিনি ২০২০ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স স্পেনকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে।

 

উনাই সিমন দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত অবস্থান গ্রহণ, একক আক্রমণ প্রতিহত করার দক্ষতা এবং পেনাল্টি রক্ষার সক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। এছাড়া পায়ে বল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতাও তাঁকে আধুনিক যুগের একজন পূর্ণাঙ্গ গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্লাব ও জাতীয় দল—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।