
এসমির বজরক্তারেভিচ
রাইট উইঙ্গার ২০- জাতীয়তা: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
- মোট গোল: ০
- মোট অ্যাসিস্ট: ০
- মোট দলভুক্ত: ০
- মোট খেলা: ০
- বয়স: ২১
- উচ্চতা: ৮০০ মিটার
- ওজন: ৭৪ কেজি
- পা: বাম পা
- হলুদ কার্ড: ০
- লাল কার্ড: ০
রাইট উইঙ্গার
নতুন প্রজন্মে যে তরুণ প্রতিভারা দ্রুত আলোচনায় উঠে আসছে, তাদের মধ্যে এসমির বজরক্তারেভিচ অন্যতম। গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নজর কেড়েছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় দল এবং ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে তিনি রাইট উইঙ্গার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন।
২০০৫ সালের ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অ্যাপলটন শহরে বসনিয়ান শরণার্থী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এসমির বজরক্তারেভিচ। ছোটবেলা থেকেই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান। বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত গতি এবং এক-এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার ক্ষমতা তাকে দ্রুতই আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (MLS) ক্লাব নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের যুব একাডেমিতে। সেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে একজন প্রতিশ্রুতিশীল আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০২২ সালে তিনি ক্লাবটির হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পদক্ষেপ ছিল।
এমএলএস-এ অল্প সময়েই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনে যোগ দেন। ইউরোপের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক লিগ এরেডিভিসিতে এসে তিনি নিজের খেলাকে আরও উন্নত করার সুযোগ পান।
পিএসভির হয়ে তিনি দ্রুতই দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। উইং থেকে আক্রমণ তৈরি করা, দ্রুত ড্রিবল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলা এবং গোলের সুযোগ সৃষ্টি করার দক্ষতা তাকে সমর্থকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। ক্লাবের হয়ে তিনি এরেডিভিসি শিরোপা এবং সুপার কাপ জয়ে অবদান রাখেন, যা তার তরুণ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এসমির বজরক্তারেভিচের যাত্রা ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুব পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ২০২৪ সালে মার্কিন জাতীয় দলের সিনিয়র দলে অভিষেকও ঘটে। তবে একই বছরের মধ্যে তিনি তার পারিবারিক শিকড়ের দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে বেছে নেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
বসনিয়ার হয়ে খেলার পর তিনি দ্রুতই দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মার্চে ইতালির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের অন্যতম তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সেই ম্যাচটি বসনিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং বজরক্তারেভিচের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে।
তার খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আক্রমণভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। উইং থেকে কাট-ইন করে শট নেওয়া বা সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা দুই ক্ষেত্রেই তিনি সমান দক্ষ। আধুনিক ফুটবলের চাহিদা অনুযায়ী তিনি একজন সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছেন।
মাত্র কুড়ির কোঠার শুরুতেই ইউরোপের শীর্ষ লিগে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করে এসমির বজরক্তারেভিচ এখন ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত থাকলে তিনি বসনিয়ান ফুটবলের পরবর্তী বড় নাম হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


