Luca Zidane

লুকা জিদান

গোলরক্ষক
  • জাতীয়তা: আলজেরিয়া
  • মোট গোল:
  • মোট অ্যাসিস্ট:
  • মোট দলভুক্ত:
  • মোট খেলা:
  • বয়স: ২৮
  • উচ্চতা: ১২০০ মিটার
  • ওজন: ৬৯ কেজি
  • পা: ডান পা
  • হলুদ কার্ড:
  • লাল কার্ড:

গোলরক্ষক

লুকা জিদান: বাবার ছায়া পেরিয়ে নিজের পরিচয় গড়ার লড়াই

 

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে জিনেদিন জিদান একটি কিংবদন্তি নাম। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃত। সেই কিংবদন্তির সন্তান হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লুকা জিদান। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের যোগ্যতায় একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এই ফরাসি গোলরক্ষক।

 

১৯৯৮ সালের ১৩ মে ফ্রান্সের বন্দরনগরী মার্সেইয়ে জন্মগ্রহণ করেন লুকা জিনেদিন জিদান ফার্নান্দেজ। তিনি জিনেদিন জিদান ও ভেরোনিক ফার্নান্দেজের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। ফুটবলময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা লুকা খুব অল্প বয়স থেকেই খেলাটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাবার মতো মিডফিল্ডার না হয়ে তিনি বেছে নেন গোলরক্ষকের কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান।

 

শৈশবেই তিনি স্পেনের অন্যতম সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’-তে যোগ দেন। সেখানে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, শট ঠেকানোর ক্ষমতা এবং বল নিয়ন্ত্রণে আত্মবিশ্বাসের কারণে তিনি একাডেমির অন্যতম সম্ভাবনাময় গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

 

২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে অভিষেকের সুযোগ পান লুকা জিদান। সে সময় তার বাবা জিনেদিন জিদান ক্লাবটির প্রধান কোচ ছিলেন। ফলে তাকে নিয়ে বাড়তি আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, বাবার প্রভাবের কারণেই তিনি সুযোগ পেয়েছেন। তবে মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সেই বিতর্কের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। রিয়ালের মূল দলে নিয়মিত জায়গা না পেলেও ক্লাবের বিভিন্ন শিরোপাজয়ী স্কোয়াডের অংশ ছিলেন।

 

রিয়াল মাদ্রিদে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে শুরু করেন। স্প্যানিশ ক্লাব রেসিং সান্তান্দের, রায়ো ভায়েকানো এবং পরে এসিবিসহ একাধিক ক্লাবে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রতিটি মৌসুমেই তিনি নিজের গোলরক্ষকসুলভ দক্ষতা আরও পরিণত করার সুযোগ পান।

 

পরবর্তীতে তিনি স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব গ্রানাডা সিএফে যোগ দেন। সেগুন্দা ডিভিসন তথা স্পেনের দ্বিতীয় স্তরের ফুটবলে গ্রানাডার হয়ে তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে তার পরিচয় শুধু ‘জিদানের ছেলে’ নয়, বরং একজন স্বতন্ত্র পেশাদার ফুটবলার হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত হতে চান।

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লুকা জিদান ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছেন তিনি। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার। সেই টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

 

তার পারিবারিক শিকড় আলজেরিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জিনেদিন জিদানের বাবা-মা ছিলেন আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল যে ভবিষ্যতে লুকা জিদান আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সের যুব পর্যায়েই খেলেছেন এবং সিনিয়র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছেন।

 

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের সন্তান হওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি বিশাল চাপেরও। সেই চাপ সামলে লুকা জিদান নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে। গোলবারের নিচে তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, প্রতিক্রিয়াশীল সেভ এবং অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী করে তুলেছে।

 

বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত এক পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তাকে নিয়ে আগ্রহ কখনোই কমবে না। তবে লুকা জিদানের লক্ষ্য একটাই—বাবার কিংবদন্তি পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের নামটিকেও ফুটবল ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করা। আর সেই লক্ষ্যে প্রতিদিনই তিনি এগিয়ে চলেছেন নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার পথে।