কঙ্গো
গ্রুপ কে
রাঙ্কিং: ৪৬
অংশগ্রহণ: ০
দলের পরিচিতি
গুয়াদালাজারায় ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের রাত। অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলের জয়। প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। আর সেই জয়ের পরই যেন ইতিহাসের ভার নেমে আসে ডিআর কঙ্গোর কাঁধ থেকে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্লে-অফের পাথ এ ফাইনালে এই জয়েই ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে আফ্রিকার এই দলটি।
১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া কঙ্গো ডিআর (তৎকালীন নাম জাইরে) এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের পুনর্গঠিত পরিচয় তুলে ধরার।
১৯৭৪: শুরুটা ছিল গৌরব, শেষটা ছিল হতাশার
ডিআর কঙ্গোর (তৎকালীন জাইরে) বিশ্বকাপ ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৪ সালে, পশ্চিম জার্মানিতে। আফ্রিকার প্রথম সাব-সাহারান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করলেও মাঠের পারফরম্যান্স ছিল ভিন্ন গল্প।
গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০, যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ এবং ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হার। পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল না করেই বিদায় নেয় তারা। সেই সময়ের সেই ব্যর্থতা দীর্ঘদিন ধরে দলটির বিশ্ব ফুটবল পরিচয়কে নেতিবাচক ছায়ায় ঢেকে রাখে।
দীর্ঘ পতনের পর নতুন শুরু
এরপর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ দশক। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা আর ফুটবলের অব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ে কঙ্গো ডিআর।
তবে ২০২২ সালে দায়িত্ব নিয়ে দলটির নতুন অধ্যায় শুরু করেন ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন দেসাব্রে। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।
ধীরে ধীরে দলকে গুছিয়ে তুলেন তিনি। ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা কঙ্গোলিজ বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন শক্তি তৈরি করেন।
সাফল্যের পথচলা: প্লে-অফ থেকে বিশ্বকাপ
বাছাইপর্বে সেনেগালের সঙ্গে কঠিন লড়াই শেষে রানার্স-আপ হয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় কঙ্গো ডিআর।
এরপর শুরু হয় নাটকীয় যাত্রা-
* সেমিফাইনালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে জয়।
* ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়।
* অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে জয়সূচক গোল অ্যাক্সেল তুয়ানজেবের।
এই জয়েই নিশ্চিত হয় বিশ্বকাপ টিকিট।
দেসাব্রের প্রকল্প: ইউরোপীয় প্রবাসীদের নিয়ে নতুন দল
ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন দেসাব্রে, যিনি আগে উগান্ডা জাতীয় দলেও কাজ করেছেন, কঙ্গো ডিআরকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন। তার অধীনে দলে জায়গা পেয়েছেন ইউরোপে বেড়ে ওঠা অনেক খেলোয়াড়, যারা শিকড়ের টানে বেছে নিয়েছেন কঙ্গোকে। এই কৌশলই দলটিকে দিয়েছে নতুন স্থিতি ও ভারসাম্য।
তারকা ভরসা: বাকাম্বু ও অভিজ্ঞদের নেতৃত্ব
দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু। ফ্রান্স, স্পেন, চীন ও তুরস্কের লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ড এখনো গোল করার ধার ধরে রেখেছেন। তার সঙ্গে আছেন চ্যান্সেল এমবেম্বা, আর্থার মাসুয়াকু ও অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। এই অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই দলটি এবার বড় মঞ্চে কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে কঙ্গো ডিআরের গ্রুপ পর্বের সূচি
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী) |
| ১৭ জুন | পর্তুগাল | হিউস্টন | রাত ১১টা |
| ২৩ জুন | কলম্বিয়া | গুয়াদালাজারা | সকাল ৮টা |
| ২৭ জুন | উজবেকিস্তান | আটলান্টা | ভোর সাড়ে ৫টা |
গ্রুপটি কঠিন হলেও দলটির লক্ষ্য প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়া।
বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: সিএএফ
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪৬
* সর্বোচ্চ অর্জন: ১৯৭৪ (গ্রুপ পর্ব)
* শেষ বিশ্বকাপ: ১৯৭৪
* প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৭৪
* মোট অংশগ্রহণ: ১ বার
* মোট রেকর্ড: ৩ ম্যাচে ০ জয়, ০ ড্র, ৩ হার
* গোল করেছে: ০, খেয়েছে: ১৪
এই পরিসংখ্যানই দীর্ঘদিন ধরে তাদের জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে আছে।
নতুন প্রজন্মের আশা
দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার পর কঙ্গো ডিআর এখন নতুন স্বপ্নে এগোচ্ছে। অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে তারা চায় নতুন ইতিহাস লিখতে। দলটির লক্ষ্য এবার স্পষ্ট শুধু বিশ্বকাপে ফেরা নয়, বরং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়া।
গুয়াদালাজারার সেই ঐতিহাসিক রাত যেন শুরু করেছে এক নতুন অধ্যায় যেখানে অতীতের ‘জাইরে’ নয়, বর্তমানের ডিআর কঙ্গো নিজেদের নতুন পরিচয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে চায়।


