Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

ক্রোয়েশিয়া

ক্রোয়েশিয়া

গ্রুপ এল

রাঙ্কিং: ১১

অংশগ্রহণ: ৬

দলের পরিচিতি

ক্রোয়েশিয়া

স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া। মাত্র ৪০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপে যতবার খেলেছে, তার অর্ধেকবারই পৌঁছেছে সেমিফাইনালে। ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই তৃতীয় স্থান অর্জন, ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে আবারও তৃতীয় হওয়া; সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম সফল ছোট দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ‘ভাত্রেনি’রা।

৪০ বছর বয়সেও লুকা মদরিচ দলের প্রাণভোমরা। অভিজ্ঞতা ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে ক্রোয়েশিয়া।

কোচ: জ্লাতকো দালিচ

২০১৭ সালে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব নেওয়া জ্লাতকো দালিচ দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ। তার অধীনেই ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে দলটি।

দালিচ এখনও মদরিচ, ইভান পেরিসিচ ও আন্দ্রেই ক্রামারিচের মতো অভিজ্ঞদের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি তরুণ প্রতিভাদেরও সুযোগ দিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার লুকা ভুশকোভিচ, ইগর মাতানোভিচ, ফ্রানিও ইভানোভিচ ও মার্কো পাশালিচের মতো তরুণরা ইতোমধ্যেই জাতীয় দলে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেছেন।

যেভাবে বিশ্বকাপে জায়গা পেল

উয়েফা বাছাইপর্বের ‘এল’ গ্রুপে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় ও এক ড্র নিয়ে অপরাজিত ছিল দলটি।

ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দালিচের শিষ্যরা। পুরো বাছাইপর্বে ২৬ গোল করেছে ক্রোয়েশিয়া। জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ৭-০ এবং চেকিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আন্দ্রেই ক্রামারিচ ছয় গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, আর ইভান পেরিসিচ করেছেন চার গোল।

বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া
প্রথম বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১৯৯৮
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৭ বার
সেরা সাফল্য: রানার্সআপ (২০১৮)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (তৃতীয় স্থান)
টানা বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড: ৪ বার

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩০ ম্যাচ খেলে ১৩ জয়, ৮ ড্র ও ৯ হার ক্রোয়েশিয়ার। গোল করেছে ৪৩টি, হজম করেছে ৩৩টি।

সেরা বিশ্বকাপ: রাশিয়া ২০১৮

ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ ছিল রাশিয়া ২০১৮। গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণভাবে নকআউটে ওঠে তারা।

শেষ ষোলোতে ডেনমার্ক এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়াকে টাইব্রেকারে হারায় ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালে মারিও মানজুকিচের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে দলটি।

ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হারলেও সেই অর্জন পুরো দেশের জন্য ছিল গর্বের এক অধ্যায়।

কাতার ২০২২: আরেকটি পদক

রাশিয়ার সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাতার বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে জাপান ও ব্রাজিলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে তারা।

তবে শেষ চারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায়। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে পদক জিতে নেয় ক্রোয়েশিয়া।

প্রথম বিশ্বকাপের রূপকথা

১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই বিশ্বকে চমকে দেয় ক্রোয়েশিয়া। ডাভর শুকারের নেতৃত্বে দলটি সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

কোয়ার্টার ফাইনালে তৎকালীন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৩-০ গোলে হারানো আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। সেই আসরে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন শুকার।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা

ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা দুজন; ডাভর শুকার ও ইভান পেরিসিচ। দুজনেরই গোল সংখ্যা ছয়।

শুকার ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করেছিলেন। অন্যদিকে পেরিসিচ ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২;তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে ছয় গোল করেছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপে এককভাবে রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন অধিনায়ক লুকা মদরিচ। চারটি বিশ্বকাপে তিনি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন।

তার ঠিক পেছনেই আছেন ইভান পেরিসিচ, যার বিশ্বকাপ ম্যাচ সংখ্যা ১৭। ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া যত দূর যাবে, ততই এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হবে।

স্মরণীয় বিশ্বকাপ মুহূর্ত

ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি আসে ১৯৯৮ সালের সেমিফাইনালে। স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে ডাভর শুকারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হারে, তবুও সেই মুহূর্ত আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মারিও মানজুকিচের অতিরিক্ত সময়ের গোল ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দেয়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয়

ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় আসে ব্রাজিল ২০১৪-তে। গ্রুপ পর্বে ক্যামেরুনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। ইভিকা ওলিচ, ইভান পেরিসিচ এবং মারিও মানজুকিচের জোড়া গোলে সেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল ক্রোয়াটরা।

বিশ্বকাপ ২০২৬ গ্রুপ পর্বের সূচি

১৭ জুন: ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া
২৩ জুন: পানামা বনাম ক্রোয়েশিয়া
২৭ জুন: ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা

রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২-এর সাফল্যের পর এবারও ক্রোয়েশিয়া অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’। মদরিচের অভিজ্ঞতা, পেরিসিচের ধারাবাহিকতা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভার সমন্বয়ে গড়া দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপেও যে শিরোপার দাবিদারদের কাতারে থাকবে, তা বলাই যায়।

মূল খেলোয়াড়রা