Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

কুরাসাও

কুরাসাও

গ্রুপ ই

রাঙ্কিং: ৮২

অংশগ্রহণ: ০

দলের পরিচিতি

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এবারের আসরটি হবে ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপ। ১৯ জুলাই ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামবে এই বর্ধিত সংস্করণের টুর্নামেন্টের।

তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম- কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। বড় ফুটবল শক্তিগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের এই অর্জনকে অনেকেই বলছেন “অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা ছোট দেশের বড় বিস্ময়”।

আয়োজক দেশ ও নতুন সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ায় কনক্যাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে তৈরি হয় ভিন্ন সমীকরণ। সেই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগায় কুরাসাও। তুলনামূলক সহজ হয়ে আসা প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা জায়গা করে নেয় মূল আসরে।

নেদারল্যান্ডসের ছায়ায় গড়ে ওঠা দল
কুরাসাও ২০১০ সাল থেকে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ। ফুটবলে দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের প্রবাসী ও নেদারল্যান্ডসে গড়ে ওঠা খেলোয়াড়রা।

জাতীয় দলের মূল ভরসা অনেকেই ডাচ একাডেমি থেকে উঠে আসা। আয়াক্স, পিএসভি ও ফেইনুর্ডের মতো ক্লাবের যুব ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের নিয়েই গড়া হয় শক্তিশালী স্কোয়াড। লিয়ান্দ্রো বাকুনা, জুনিনহো বাকুনা, ইউর্গেন লোকাডিয়া, তাহিথ চং ও সন্টজে হ্যানসেনদের মতো খেলোয়াড়রা দলে যোগ দিয়ে শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

কনক্যাকাফে দাপুটে পথচলা
‘সি’ গ্রুপে কনক্যাকাফ বাছাইপর্বে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখায় কুরাসাও। জ্যামাইকা ও ত্রিনিদাদের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও তারা টেম্পো নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত ফুটবলে এগিয়ে থাকে।

ক্যারিবীয় ফুটবলে যেখানে অনেক সময় অস্থিরতা দেখা যায়, সেখানে কুরাসাও ছিল ব্যতিক্রম। রক্ষণে শৃঙ্খলা আর বল দখলে ধৈর্য এই দুইয়ের সমন্বয়ে তারা ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।

ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবল, ক্যারিবীয় পরিচয়
দলটির খেলার ধরন মূলত ইউরোপীয় ধাঁচের। বল নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবল, সংগঠিত রক্ষণ এবং পরিকল্পিত আক্রমণ সব মিলিয়ে এটি একটি ‘ডাচ-প্রভাবিত ক্যারিবীয় দল’।

দেশটির স্থানীয় লিগ সেমি-প্রফেশনাল। লিগা এমসিবিতে ১২টি দল খেললেও অধিকাংশ খেলোয়াড় ফুটবলের পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত থাকেন। জাতীয় দলের মাত্র দুই-তিনজন খেলোয়াড় স্থানীয় লিগ থেকে আসা। বাকিদের বড় অংশই ইউরোপে গড়ে ওঠা।

ডিক অ্যাডভোকাটের ছাপ
কুরাসাওকে বিশ্বকাপে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের। তার হাত ধরেই দলটি আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলের কাঠামোয় ঢুকে পড়ে।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিক কারণে দায়িত্ব ছাড়েন অ্যাডভোকাট। এরপর দায়িত্ব নেন আরেক ডাচ কোচ ফ্রেড রুটেন। তিনিও সম্প্রতি দায়িত্ব ছাড়েন। তাই এই মুহূর্তে কোনো কোচ নেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া দলটির। 

অধিনায়ক বাকুনা: দলের প্রাণভোমরা
কুরাসাওয়ের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের একজন লিয়ান্দ্রো বাকুনা। অ্যাস্টন ভিলার সাবেক এই মিডফিল্ডার ও রাইট ব্যাক জাতীয় দলের অধিনায়ক।

দলের হয়ে ৭০টির বেশি ম্যাচ খেলা বাকুনা এখন পর্যন্ত ১৬টি গোল করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দল খেললেও শেষ পর্যন্ত কুরাসাওকেই বেছে নেন তিনি।

গ্রুপ পর্বের সূচি
বিশ্বকাপে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে কুরাসাও। তাদের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষরা-

১৪ জুন: জার্মানি (হিউস্টন, রাত ১১টা)
২১ জুন: ইকুয়েডর (কানসাস সিটি, ভোর ৬টা)
২৫ জুন: আইভরি কোস্ট (ফিলাডেলফিয়া, রাত ২টা)

প্রত্যাশার চেয়ে বড় গল্প
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮২তম অবস্থানে থাকা কুরাসাওয়ের সামনে এবার কোনো গগনচুম্বী লক্ষ্য নেই। তাদের সবচেয়ে বড় অর্জনই হলো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া।

ছোট দ্বীপদেশের এই যাত্রা তাই শুধু একটি দলের নয়, বরং বিশ্বকাপের নতুন কাঠামোয় সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।

মূল খেলোয়াড়রা