Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

অষ্ট্রেলিয়া

অষ্ট্রেলিয়া

গ্রুপ ডি

রাঙ্কিং: ২৭

অংশগ্রহণ: ৬

দলের পরিচিতি

১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার পর দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দল। সেই প্রত্যাবর্তনের পর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি ‘সকারুজ’দের। টানা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়মিত অংশীদার হিসেবে।

২০২৬ সালে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ অংশগ্রহণ। শেষ দুই আসরে (২০১৮ ও ২০২২) শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দলটি।

নতুন নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়: টনি পপোভিচের দায়িত্ব
বর্তমান অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সাবেক এই ডিফেন্ডার খেলোয়াড়ি জীবনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং ছিলেন ২০০৬ বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ঐতিহাসিক দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ে এসে ঘরোয়া পর্যায়ে সফলতা অর্জনের পর তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব নেয়ার পর দ্রুতই দলকে পুনর্গঠিত করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সফলভাবে শেষ করান তিনি।

এই পথচলায় পপোভিচ এখন এমন এক বিরল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে তিনি খেলোয়াড় এবং কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাছাইপর্বের নাটকীয় পথচলা
এএফসি বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল দাপটের সঙ্গে। দ্বিতীয় রাউন্ডে টানা ছয় ম্যাচে জয় এবং কোনো গোল না হজম করে তারা পরের ধাপে যায়।

তবে তৃতীয় রাউন্ডে শুরুটা ছিল ধাক্কাধাক্কির। ঘরের মাঠে বাহরাইনের কাছে হার এবং ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর চাপ বাড়ে, যার পরই দায়িত্ব ছাড়েন তৎকালীন কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।

এরপর দায়িত্ব নিয়ে দলকে ঘুরিয়ে দেন পপোভিচ। চীনের বিপক্ষে জয়, জাপানের বিপক্ষে ড্র এবং পরবর্তী ধারাবাহিক ফলাফল দলকে স্থিতিশীল করে। ২০২৫ সালের জুনে শক্তিশালী জাপান জাতীয় ফুটবল দলকে হারানো এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় বিশ্বকাপ প্রায় নিশ্চিত করে দেয় অস্ট্রেলিয়ার।

সবশেষে জেদ্দায় সৌদি আরবকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। ওই ম্যাচে গোল করেন কনর মেটকালফ ও মিচ ডিউক।

তারকা ভরসা: জর্ডান বোস
দলের বাঁ প্রান্তে আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ভূমিকাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তরুণ লেফট ব্যাক জর্ডান বোস। ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ২৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন। তিন ডিফেন্ডারভিত্তিক কৌশলে উইং-ব্যাক হিসেবেও তিনি সমান কার্যকর। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডে খেলা এই ফুটবলারকে ভবিষ্যতের বড় সম্পদ হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া।

২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ সূচি
গ্রুপ পর্বে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সকারুজদের সামনে-

তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী)
১৩ জুন তুরস্ক বিসি প্লেস সকাল ১০টা
১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র সিয়াটল রাত ১টা
২৫ জুন প্যারাগুয়ে সান ফ্রান্সিসকো সকাল ৮টা

বিশ্বকাপ ইতিহাস: ওঠানামার গল্প
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে। তবে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হয় তাদের। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৬ সালে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল–এর মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করে তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায়।

সেই দলের নায়ক ছিলেন হ্যারি কিওয়েল, টিম কাহিল ও মার্ক শোয়ার্জারের মতো তারকারা। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আবারও শেষ ষোলোতে পৌঁছে আর্জেন্টিনার কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় দলটি।

কাতার ২০২২: নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম
২০২২ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এক আসরে দুটি ম্যাচ জয়ের নতুন ইতিহাস গড়ে। ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে তিউনিসিয়া ও ডেনমার্ককে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। শেষ ষোলোতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় তাদের।

পরিসংখ্যান ও অর্জন
* কনফেডারেশন: এএফসি (ওশেনিয়া অঞ্চলের ছিল, জানুয়ারি ২০০৬ পর্যন্ত)
* ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ২৭
* সেরা ফল: শেষ ১৬ (২০০৬, ২০২২)
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (শেষ ১৬)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৭৪, পশ্চিম জার্মানি
* মোট অংশগ্রহণ: ৭ (১৯৭৪, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
* টানা যোগ্যতা অর্জন: ৬
* মোট রেকর্ড: ২০ ম্যাচে ৪ জয়, ৪ ড্র, ১২ হার; গোল ১৭, হজম ৩৭

অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা
টিম কাহিল বিশ্বকাপে তিনটি আলাদা আসরে গোল করা বিরল খেলোয়াড়দের একজন। তিনি মোট ৫টি গোল করেন (২০০৬, ২০১০, ২০১৪)। ২০০৬ সালে জাপানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জয় নিশ্চিত করেন। ২০১০ ও ২০১৪ সালেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
ম্যাথিউ রায়ান এবং ম্যাথিউ লেকি, উভয়েই ১০টি করে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নেন।

স্মরণীয় মুহূর্ত
জাপানের বিপক্ষে ২০০৬ সালের ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ জয় হিসেবে ইতিহাসে আছে। শেষ মুহূর্তে টিম কাহিলের গোল ম্যাচটিকে সমতা এনে দেয়, এরপর আরও দুটি গোল করে তারা জয় পায়।

সবচেয়ে বড় জয়
২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ৩-১ জয়টি তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় এবং বড় জয়গুলোর একটি। কাহিলের দুই গোল এবং জন আলোইসির শেষ মুহূর্তের গোল ম্যাচটি নিশ্চিত করে।

সামনে লক্ষ্য: নতুন উচ্চতা
২০০৬ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে থাকা অস্ট্রেলিয়া এবার আরও বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ আসরে নামবে। কোচ পপোভিচের কৌশল, তরুণদের উত্থান এবং অভিজ্ঞদের মিশ্রণে দলটি এবার শেষ ষোলোর সীমা ছাড়াতে পারে কি না সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

মূল খেলোয়াড়রা