নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ জি
রাঙ্কিং: ৮৫
অংশগ্রহণ: ২
দলের পরিচিতি
মাত্র তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ওশেনিয়া অঞ্চলের (ওএফসি) একমাত্র সরাসরি স্লট নিশ্চিত হওয়ার পর সহজ বাছাইপর্ব পার করে দলটি এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে নামছে নতুন আশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে, প্রথম জয় এবং শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়ার লক্ষ্য।
১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপে অভিষেক ছিল কঠিন অভিজ্ঞতার। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ফিরে কিছুটা হলেও নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় কিউইরা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও তারা তিন ম্যাচেই ড্র করে টুর্নামেন্ট শেষ করে অপরাজিত থাকার বিরল কীর্তি গড়ে।
২০১০-এর স্মৃতি, ২০২৬-এর অনুপ্রেরণা
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড খেলেছিল ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এর মতো এক চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে। সেখানে তারা তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি, প্যারাগুয়ে এবং স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে।
* স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল করে ১-১ ড্র
* ইতালির বিপক্ষে ১-১ ড্র
* প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ০-০ ড্র
এই তিন ড্রই আজও নিউজিল্যান্ড ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোচ ড্যারেন বাজলি: মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক ডাগআউটের নেতৃত্ব
ড্যারেন বাজলি ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডের হয়ে ২৫০টিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে পেশাদার ফুটবলে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড লিগেও খেলেন, যা পরবর্তী সময়ে তার কোচিং ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ধীরে ধীরে কোচিংয়ে যুক্ত হয়ে গত দেড় দশকের বেশি সময় তিনি নিউজিল্যান্ড ফুটবলের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার অধীনে অনূর্ধ্ব–২০ দল ২০১৫, ২০১৭ ও ২০২৩ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে পৌঁছায়, যা তাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৩ সালে তিনি নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের স্থায়ী দায়িত্ব নেন। পরের বছরই তার অধীনে দলটি ওশেনিয়া নেশনস কাপ জেতে এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা পাঁচটি জয় তুলে নিয়ে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে।
২০২৬ বিশ্বকাপে বাজলি নিউজিল্যান্ডের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে একটি ব্যতিক্রমী রেকর্ড গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনূর্ধ্ব–১৭ ও অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপের পাশাপাশি অলিম্পিক ফুটবলেও কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দাবি অনুযায়ী, ফিফা স্বীকৃত বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে চারটি আলাদা বৈশ্বিক মঞ্চে কোচিং করানো খুব কম মানুষেরই কৃতিত্ব—যেখানে তিনি অনন্য অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিউজিল্যান্ড ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই সাবেক ইংলিশ ফুটবলার দেশটিতে দেড় দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন এবং নাগরিকত্বও পেয়েছেন। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা এই দুইয়ের ওপর ভর করেই তিনি এখন কিউইদের বিশ্বকাপ মঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিতে চাইছেন।
ক্রিস উড: কিউই আক্রমণের ভরসা, তবে ঘিরে আছে অনিশ্চয়তা
ক্রিস উড নিউজিল্যান্ড ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা এবং বহু বছর ধরে দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা। ২০১০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি দলের অভিজ্ঞ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তার পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ ম্যাচে ৪৫ গোল, যা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলস্কোরিং রেকর্ড।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন তার অংশগ্রহণ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হাঁটুর চোট থেকে ফিরে আসার পর আবারও একই জায়গায় আঘাত পাওয়ায় তার ফিটনেস ও ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাব ও জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই তার পরিস্থিতি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
উডের অনুপস্থিতি নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আক্রমণভাগে তার বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
২০১০ সালে যিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য, ২০২৬ সালে এসে তিনিই হতে পারতেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের একজন। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখন চোট-সংশয়ের কারণে ঝুলে আছে। কিউইদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই তাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
বাছাইপর্বে দাপট
ওশেনিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় নিউজিল্যান্ড।
* তাহিতিকে ৩-০
* ভানুয়াটুকে ৮-১
* সামোয়া ৮-০
* ফিজিকে ৭-০
* নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০
টানা জয়ে তারা সহজেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সূচি
নিউজিল্যান্ডের সামনে এবার অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী) |
| ১৬ জুন | ইরান | লস অ্যাঞ্জেলেস | সকাল ৭টা |
| ২২ জুন | মিসর | ভ্যানকুভার | সকাল ৭টা |
| ২৭ জুন | বেলজিয়াম | ভ্যানকুভার | সকাল ৯টা |
বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: ওশেনিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৮৫
* সেরা ফল: গ্রুপ পর্ব (১৯৮২, ২০১০)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৮২ (স্পেন)
* শেষ বিশ্বকাপ: ২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* মোট অংশগ্রহণ: ৩ (১৯৮২, ২০১০, ২০২৬)
* মোট রেকর্ড: ৬ ম্যাচ, জয় ০, ড্র ৩, হার ৩
* গোল: ৪, বিপক্ষে: ১৪
লক্ষ্য এবার নতুন ইতিহাস
অতীতের অভিজ্ঞতা আর সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড এবার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিণত দল হিসেবে বিশ্বকাপে যাচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও দলটির লক্ষ্য স্পষ্ট প্রথম বিশ্বকাপ জয় এবং নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।
কিউইদের সামনে চ্যালেঞ্জ কঠিন, তবে ইতিহাস বলছে তারা বড় বাধার মধ্যেও চমক দেখাতে জানে।


