পানামা
গ্রুপ এল
রাঙ্কিং: ৩৩
অংশগ্রহণ: ১
দলের পরিচিতি
একসময় বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে যাদের পরিচয় ছিল শুধুই অংশগ্রহণকারী হিসেবে, সেই পানামাই এখন ধীরে ধীরে কনকাকাফ অঞ্চলের আলোচিত শক্তি হয়ে উঠেছে। বেসবলে বেশি আগ্রহী দেশটির ফুটবলে এই উত্থান অনেকের কাছেই বিস্ময়। ২০১৮ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও জায়গা করে নিয়েছে তারা।
স্বপ্ন জাগানো ২০১৮ থেকে নতুন যাত্রা
রাশিয়া বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল Panama। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেলিপে বালয়ের গোল তাদের ইতিহাসে আলাদা অধ্যায় যোগ করে দেয়। সেই ম্যাচই যেন পরবর্তী সময়ের জন্য নতুন বিশ্বাস তৈরি করে।
আট বছরের ব্যবধানে আবারও বিশ্বকাপে ফিরেছে দলটি।
থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের রূপান্তর
এই পরিবর্তনের মূল কারিগর ডেনিশ কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি দলের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন আনেন।
শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল থেকে বের করে তিনি পানামাকে গড়ে তোলেন বল দখলভিত্তিক এবং ৩-৪-৩ ফরমেশনের একটি ট্যাকটিক্যাল দলে। শুরুটা সহজ ছিল না ২০২১ গোল্ড কাপ থেকে বিদায় এবং ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থতা নিয়েও তাকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। তবে ফেডারেশন আস্থা রাখে।
পরবর্তীতে সেই আস্থার প্রতিদান দেয় দলটি ২০২৩ গোল্ড কাপ এবং ২০২৫ নেশনস লিগের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিকারাগুয়া, গায়ানা, মন্টসেরাট ও বেলিজকে সহজেই হারায় পানামা। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে এসে চ্যালেঞ্জ বাড়ে।
সুরিনাম ও গুয়াতেমালার বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর চাপের মুখে পড়ে দলটি। তবে শেষদিকে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। গুয়াতেমালার মাঠে ৩-২ ব্যবধানে জয় এবং ঘরের মাঠে এল সালভাদরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে পানামা।
দলের মূল ভরসা
মাঝমাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আদালবার্তো কারাসকিয়া। তার পাসিং ও ড্রিবলিং পুরো আক্রমণের গতি নির্ধারণ করে। তার সঙ্গে তরুণ কার্লোস হার্ভে মাঝমাঠে সহায়তা করেন। আক্রমণভাগে হোসে ফাজার্দো ও সিসিলিও ওয়াতারমান জুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অভিজ্ঞতার ভারসাম্য এনে দেন আনিবাল গদয় ও আলবার্তো কুইন্তেরো।
গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এল’-এ খেলবে পানামা। প্রতিপক্ষ হলো- ঘানা, ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড
ম্যাচ সূচি
* ১৭ জুন: ঘানার বিপক্ষে, টরন্টো (ভোর ৫টা)
* ২৩ জুন: ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে, টরন্টো (ভোর ৫টা)
* ২৭ জুন: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, নিউ জার্সি (রাত ৩টা)
কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন
ফুটবলার হিসেবে বার্সেলোনার জার্সিতে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। পরে বোখুমের হয়ে বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় স্তরে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন। কোচিংয়ে এসে সাইপ্রাস ও লিডস ইউনাইটেডের পর এখন তিনি পানামার দায়িত্বে। দেশটিতে তিনি এখন রীতিমতো জনপ্রিয় মুখ।
তারকা খেলোয়াড় কারাসকিয়া
পানামা সিটির অলিগলিতে বেড়ে ওঠা আদালবার্তো কারাসকিয়া এখন দলের প্রধান ভরসা। ২০২৩ গোল্ড কাপে সেরা খেলোয়াড় এবং কনকাকাফ বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশ্বকাপে পানামার ইতিহাস
অঞ্চল: কনকাকাফ
র্যাঙ্কিং: ৩৩
অংশগ্রহণ: ২
সর্বোচ্চ সাফল্য: ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব
বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স
তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই পরাজয়ের শিকার হয়েছে তারা।
পানামার ফুটবল যাত্রা তাই এখনো স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে। তবে ধাপে ধাপে এগোনো এই দলটি আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের গল্প নতুন করে লিখতে চায়।


