কাতার
গ্রুপ বি
রাঙ্কিং: ৫৫
অংশগ্রহণ: ১
দলের পরিচিতি
কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করে নিখুঁত আয়োজন ও অসাধারণ আতিথেয়তার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে উপসাগরীয় অঞ্চলকে তুলে ধরেছিল। নিজেদের মাটিতে এবং সমর্থকদের সামনে প্রথমবারের মতো এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়ে কাতারের খেলোয়াড়রা বিশ্বমানের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
এখন কাতার নতুন একটি অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত, কারণ তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। এবার আয়োজক হিসেবে নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণে গড়া এই দল প্রমাণ করতে চায় যে ২০২২ ছিল শুরু মাত্র।
জুলেন লোপেতেগির অধীনে নতুন কাতার
২০২৫ সালের মে মাসে কাতার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগি। অভিজ্ঞ এই কোচ দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান।
স্পেন জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ ২০১৬-২০১৮ সালে কোচিং করান এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিলেন। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদ, সেভিয়া, উলভারহ্যাম্পটন ও ওয়েস্ট হ্যামের মতো ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেভিয়ার হয়ে ২০২০ সালে ইউরোপা লিগও জিতেছেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন গোলরক্ষক। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে উঠে এসে বার্সেলোনা ও রায়ো ভায়েকানোতেও খেলেছেন। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৯৯০-এর দশকে খেলেছেন। তার শান্ত স্বভাব ও কৌশলগত বিশ্লেষণ কাতারের নতুন ধাপে বড় ভূমিকা রাখছে।
দলের ভরসা আকরাম আফিফ
আধুনিক এশীয় ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ আকরাম আফিফ এখনো কাতার জাতীয় দলের প্রাণভোমরা। ক্ষিপ্র গতি ও ড্রিবলিংয়ের কারণে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য এক আতঙ্কের নাম। স্পেনের লা লিগায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
২০১৯ এশিয়ান কাপে রেকর্ড ১০টি অ্যাসিস্ট করে তিনি কাতারকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৩ এশিয়ান কাপে তিনি সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। স্পেনের লা লিগায় খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বে কাতারের ২০২৬ বিশ্বকাপ সূচি
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী) |
| ১৩ জুন | সুইজারল্যান্ড | সান ফ্রান্সিসকো | রাত ১টা |
| ১৯ জুন | কানাডা | ভ্যানকুভার | ভোর ৪টা |
| ২৪ জুন | বসনিয়া | সিয়াটল | রাত ১টা |
এবার আয়োজক নয়, যোগ্যতার লড়াইয়ে সফলতা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কাতার এবার আর স্বাগতিক সুবিধায় নয়, বরং কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। এটি কাতারের ইতিহাসে প্রথমবার, যখন তারা নিয়মিত বাছাইপর্বের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পৌঁছেছে।
এশিয়ান অঞ্চলের চতুর্থ রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। ম্যাচে বুলায়েম খুখি ও পেদ্রো মিগুয়েলের হেডে করা গোল কাতারের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করে।
বাছাইপর্বে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে কাতার। দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫ জয়, ১ ড্র ও ১ হারে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে ছিল।তৃতীয় রাউন্ডে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও চতুর্থ রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।
কাতারের বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: এএফসি
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫৫
* সেরা ফল: গ্রুপ পর্ব (২০২২)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ২০২২
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০২২
* বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ২ বার (২০২২, ২০২৬)
* টানা যোগ্যতা: ২
* আয়োজক ছিল: ২০২২
* মোট রেকর্ড: ৩ ম্যাচ, ০ জয়, ০ ড্র, ৩ হার, ১ গোল, ৭ গোল হজম
কাতারের প্রথম বিশ্বকাপ
আল বায়ত স্টেডিয়ামে ৬৭,০০০ এর বেশি দর্শকের সামনে কাতারের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়। ফেলিক্স সানচেজের অধীনে তারা ইকুয়েডরের কাছে ২-০ গোলে হারে।
দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে তারা ৩-১ গোলে পরাজিত হয়, যদিও আক্রমণে উন্নতি দেখা যায়। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেললেও ২-০ গোলে হারে।
কাতারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা
মোহাম্মদ মুনতারি কাতারের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন সেনেগালের বিপক্ষে ৭৮তম মিনিটে হেডের মাধ্যমে। যদিও ম্যাচটি তারা হারে, এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
কাতারের রেকর্ড খেলোয়াড়রা
আব্দুলকরিম হাসান, বুলায়েম খুখি এবং আকরাম আফিফ এই তিনজনই কাতারের একমাত্র বিশ্বকাপে সব ম্যাচে (২৭০ মিনিট) মাঠে ছিলেন।


