সৌদি আরব
গ্রুপ এইচ
রাঙ্কিং: ৬১
অংশগ্রহণ: ৬
দলের পরিচিতি
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে সৌদি আরব ফিফা বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাত্র দুইটি আসর ছাড়া সবগুলোতেই তারা অংশ নিয়েছে। এখন তারা তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ এবং টানা তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এই আসরে নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ‘দ্য গ্রিন ফ্যালকনস’ নামের দলটি মাঠে নামছে।
যদিও তারা এখন পর্যন্ত মাত্র একবার নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পেরেছে, তবুও তারা বিশ্ব আসরের একটি পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে বিবেচিত। উত্তর আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার এই যাত্রা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই মহাদেশেই ১৯৯৪ সালে তাদের বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল। তিন দশক পর আবারও সেই অঞ্চলে গিয়ে সৌদি দল চাইছে নতুন ইতিহাস রচনা করতে।
কোচিং দায়িত্বে জর্জিওস ডোনিস
সৌদি আরবের আশা নির্ভর করছে ৫৬ বছর বয়সী গ্রিক সাবেক ফুটবলার জর্জিওস ডোনিসের ওপর, যিনি ২৩ এপ্রিল হেরভে রেনার্ডের স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি সৌদি ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কোচ। সর্বশেষ তিনি সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল খালিজের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি আল হিলাল, আল ফাতেহ এবং আল ওয়েহদার মতো ক্লাবেও কাজ করেছেন।
এ কারণে তার কাছে এমন খেলোয়াড়দের সম্পর্কে গভীর পরিচিতি রয়েছে, যারা মূলত সৌদি লিগ থেকেই উঠে আসবে। তার প্রথম ম্যাচ হবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ, যা ৩০ মে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে।
দলের প্রধান ভরসা ফেরাস আল ব্রিকান
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের অন্যতম উজ্জ্বল নাম ফরোয়ার্ড ফেরাস আল ব্রিকান। তিনি বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ পাঁচটি গোল করেন, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোল ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরানো।
২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার সৌদি ক্লাব আল আহলিতে খেলেন। গতি, ফিনিশিং ও সঠিক পজিশনিংয়ের কারণে তিনি জাতীয় দলে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোল সংখ্যা ১৫।
বড় ম্যাচে চাপ সামলে পারফর্ম করার ক্ষমতা তাকে সৌদি আক্রমণের মূল ভরসায় পরিণত করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের ম্যাচ সূচি
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী) |
| ১৬ জুন | উরুগুয়ে | মায়ামি | ভোর ৪টা |
| ২১ জুন | স্পেন | আটলান্টা | রাত ১০টা |
| ২৭ জুন | কেপ ভার্দে | হিউস্টন | সকাল ৬টা |
যেভাবে সৌদি আরব বিশ্বকাপ ২০২৬-এ যোগ্যতা অর্জন করেছে
এশিয়ান (এএফসি) বাছাইপর্বে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ‘গ্রিন ফ্যালকনস’-দের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে তৃতীয় রাউন্ডে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হয়, যেখানে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে।
পরবর্তীতে চতুর্থ রাউন্ডে গিয়ে তারা লড়াই চালিয়ে যায়। শুরুতে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-২ গোলে হারায় এবং ১৪ অক্টোবর ইরাকের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করে। গোল ব্যবধানে ইরাককে পিছনে ফেলে তারা শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে।
সৌদি আরবের বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: এএফসি
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬১
* সেরা ফলাফল: রাউন্ড অব ১৬
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ (রাউন্ড অব ১৬)
* মোট অংশগ্রহণ: ৭ (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬)
* টানা অংশগ্রহণ: ৩ বার
* মোট রেকর্ড: ১৯ ম্যাচ, ৪ জয়, ২ ড্র, ১৩ হার, ১৪ গোল, ৪৪ গোল হজম
সৌদি আরবের সেরা বিশ্বকাপ (১৯৯৪)
সৌদি আরব প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৯৪ সালে, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। শুরুতে প্রত্যাশা কম থাকলেও তারা দ্রুত নিজেদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করে।
প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তারা প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় ফুয়াদ আনওয়ারের দারুণ গোলে। পরে ডাচরা ফিরে এসে ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। তবে সৌদি আরবের পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
পরের ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে তারা ঐতিহাসিক জয় পায়, যা ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয় তাদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে।
শেষ ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে তারা রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেয়, তবে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ অভিযান।
সৌদি আরবের শেষ বিশ্বকাপ (কাতার ২০২২)
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোচ হেরভে রেনার্ডের অধীনে সৌদি আরব একটি শক্তিশালী দল হিসেবে মাঠে নামে। আর্জেন্টিনা, পোল্যান্ড ও মেক্সিকোর গ্রুপে পড়েও তারা প্রথম ম্যাচে বিশ্বকে চমকে দেয়, আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয়। সালেহ আল শেহরি এবং সালেম আল দাওসারির গোল ম্যাচটিকে ঐতিহাসিক করে তোলে।
তবে পরের ম্যাচে পোল্যান্ডের কাছে ২-০ এবং মেক্সিকোর কাছে ২-১ গোলে হেরে তারা গ্রুপ থেকে বিদায় নেয়। তবুও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় তাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ গোলদাতা (বিশ্বকাপে)
* সামি আল জাবের এবং সালেম আল দাওসারি: ৩টি করে গোল
* ফুয়াদ আনওয়ার: ২টি গোল
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
* মোহাম্মদ আল দেয়ায়া: ১০ ম্যাচ (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২)
* সামি আল জাবের: ৯ ম্যাচ (চারটি বিশ্বকাপ)
* হুসেইন আবদুলঘানি: ৯ ম্যাচ
স্মরণীয় মুহূর্তসমূহ
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ছিল সৌদি ফুটবলের সূচনা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফুয়াদ আনওয়ারের গোল তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। মরক্কোর বিপক্ষে জয় ছিল তাদের প্রথম জাতীয় উদযাপনের মুহূর্ত।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাঈদ আল ওওয়ারাইনের ৭০ গজ দৌড়ে করা কিংবদন্তি গোলটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় তাদের সেই পুরনো গৌরবকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে।


