অষ্ট্রিয়া
গ্রুপ জে
রাঙ্কিং: ২৪
অংশগ্রহণ: ৭
দলের পরিচিতি
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে অস্ট্রিয়া। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রিয়ার অষ্টম বিশ্বকাপ আসর। সবশেষ তারা খেলেছিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে।
অস্ট্রিয়ার সেরা সাফল্য আসে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে, যেখানে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। এবার বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে দলটি। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্র করে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা।
রালফ রাংনিকের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন
বর্তমান কোচ রালফ রাংনিক ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। জার্মান এই কোচ এর আগে শালকে, স্টুটগার্ট, হ্যানোভার ও হফেনহাইমের মতো ক্লাবে কাজ করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন আরবি লাইপজিগে তার সফল সময়ের জন্য, যেখানে তিনি ক্লাবটিকে জার্মান ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে আনেন।
প্রেসিং ফুটবলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত রাংনিক অস্ট্রিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটিকে ইউরো ২০২৪-এ তুলেছিলেন। এরপর বিশ্বকাপ বাছাইয়েও একই সাফল্য এনে দিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটান।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অস্ট্রিয়ার সূচি
১৬ জুন: অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান; সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম
২২ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া; ডালাস স্টেডিয়াম
২৭ জুন: আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া; কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
যেভাবে বিশ্বকাপে সুযোগ পেল অস্ট্রিয়া
উয়েফা বাছাইপর্বের এইচ গ্রুপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, রোমানিয়া, সাইপ্রাস ও সান মারিনোর সঙ্গে ছিল অস্ট্রিয়া। প্রথম পাঁচ ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত সূচনা করে রাংনিকের দল। এর মধ্যে সান মারিনোর বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয় ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে চার গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন মার্কো আরনাটোভিচ।
তবে রোমানিয়ার বিপক্ষে ১-০ হারে গ্রুপের সমীকরণ আবার জটিল হয়ে যায়। পরে সাইপ্রাসকে হারিয়ে শেষ ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে শুধু একটি পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল অস্ট্রিয়ার। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ৭৮ মিনিটে মাইকেল গ্রেগোরিচ গোল করে সমতা ফেরান এবং বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেন।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার ইতিহাস
অস্ট্রিয়া প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৩৪ সালে ইতালিতে। এখন পর্যন্ত তারা খেলেছে ১৯৩৪, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৮ ও ২০২৬ আসরে।
বিশ্বকাপে তাদের মোট রেকর্ড:
ম্যাচ: ২৯
জয়: ১২
ড্র: ৪
হার: ১৩
গোল করেছে: ৪৩
গোল হজম: ৪৭
১৯৫৪: অস্ট্রিয়ার সোনালি অধ্যায়
১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপেই আসে অস্ট্রিয়ার সেরা সাফল্য। ওয়াল্টার নাউশের অধীনে দলটি স্কটল্যান্ডকে ১-০ এবং চেকোস্লোভাকিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এরপর স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে ৭-৫ গোলে জয় পায় অস্ট্রিয়া। এখনো সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। প্রচণ্ড গরমে গোলরক্ষক কুর্ট শ্মিড সানস্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও বদলি না থাকায় ম্যাচ শেষ পর্যন্ত খেলেন।
সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ৬-১ গোলে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে অস্ট্রিয়া। পুরো টুর্নামেন্টে তারা করেছিল ১৭ গোল।
১৯৯৮: শেষ বিশ্বকাপ অভিযান
সবশেষ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলেছিল অস্ট্রিয়া। ইতালি, ক্যামেরুন ও চিলির সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল তারা। তিন ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করেছিল দলটি। তবে দুটি ড্র ও ইতালির কাছে ২-১ গোলে হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়।


