Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়া

গ্রুপ এফ

রাঙ্কিং: ৪৪

অংশগ্রহণ: ৬

দলের পরিচিতি

তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকার ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের একটি পরিচিত নাম। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে তারা একবিংশ শতাব্দীতে সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে পাঁচটিতেই অংশ নিচ্ছে, যা তাদের নিয়মিত বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতিরই প্রমাণ। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে এবার কি তারা শুধু অংশগ্রহণ করবে, নাকি গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারবে?

বাছাইপর্বে তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ১০ ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার মতো অসাধারণ রেকর্ড গড়ে তারা ৯ জয় ও ১ ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের আধিপত্য স্পষ্ট করেছে। ফাওজি বেনজারতি এবং পরে সামি ত্রাবেলসির অধীনে গড়ে ওঠা এই রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিপক্ষে মোহাম্মদ আলী বেন রোমধানের নাটকীয় জয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।

তবে ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস থেকে শেষ ষোলোতেই বিদায় নেওয়ার পর কোচ পরিবর্তন হয় এবং দায়িত্ব নেন সাব্রি লামুচি। অভিজ্ঞ এই ফরাসি কোচ দলকে পুনর্গঠন করে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করছেন, যদিও নেদারল্যান্ডস, জাপান বা সুইডেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না।

তিউনিসিয়ার ইতিহাস বলছে, তারা ১৯৭৮ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল এবং ২০২২ সালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ছয়টি আসরে তারা কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি; মোট ১৮ ম্যাচে মাত্র ৩ জয় তাদের সীমাবদ্ধতাও দেখিয়ে দেয়।

এবার তাই তাদের লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং রক্ষণাত্মক শক্তির পাশাপাশি আক্রমণে কার্যকারিতা বাড়িয়ে ইতিহাস বদলানো। অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে ‘কার্থেজের ঈগলরা’ এবার সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচাতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

তিউনিসিয়ার কোচ: সাব্রি লামুচি
তিউনিসিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাব্রি লামুচি, যিনি সামি ত্রাবেলসির বিদায়ের পর আফ্রিকান কাপ অব নেশনস ২০২৫-এর ব্যর্থতার পর এই পদে আসেন। ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক ফরাসি জাতীয় দলের মিডফিল্ডার আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোচ হিসেবে নতুন নন; তিনি ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোট দিভোয়ারের কোচ ছিলেন।

ফ্রান্স ও ইতালির ফুটবলে সমৃদ্ধ খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে তিনি কোচিংয়ে মনোযোগ দেন এবং আইভরি কোস্ট ও নটিংহাম ফরেস্টের মতো দলেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন তার মূল লক্ষ্য তিউনিসিয়াকে পুনর্গঠন করা এবং দলের মধ্যে লড়াকু মানসিকতা তৈরি করা। হানিবাল মেজব্রি ও এলিয়েস সখিরির মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে তিনি তিউনিসিয়াকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিতে চান, যা অনেকটাই মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগির সফল মডেলের সঙ্গে তুলনীয়।

তারকা: হানিবাল মেজব্রি
হানিবাল মেজব্রি তিউনিসিয়ার এক উদীয়মান তারকা মিডফিল্ডার, যিনি চাপের মধ্যেও বল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আক্রমণভাগে নিখুঁত পাস দেওয়ার দক্ষতার জন্য পরিচিত। মূলত প্লে-মেকার হিসেবে খেললেও তিনি মাঝমাঠের বিভিন্ন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারেন, যা রক্ষণ থেকে আক্রমণ গঠনে তিউনিসিয়াকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ২০২১ সালে তিউনিসিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এর আগে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তিনি ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বেড়ে ওঠা মেজব্রি বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব বার্নলিতে খেলছেন এবং ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ তিউনিসিয়ার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ সূচি

তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী)
১৪ জুন সুইডেন এস্তাদিও মন্টেরে সকাল ৮টা
২০ জুন জাপান এস্তাদিও মন্টেরে সকাল ১০টা
২৫ জুন নেদারল্যান্ডস কানসাস সিটি ভোর ৫টা

যেভাবে তিউনিসিয়া বিশ্বকাপ ২০২৬-এ যোগ্যতা অর্জন করেছে
শুরু থেকেই তিউনিসিয়া বাছাইপর্বে আধিপত্য দেখায়। ফাওজি বেনজার্তির অধীনে তিন জয় ও এক ড্র নিয়ে তারা অভিযান শুরু করে। এরপর কোচ সামি ত্রাবেলসি দায়িত্ব নেওয়ার পর দল আরও শক্তিশালী হয় এবং টানা ছয়টি জয় পায়। তারা CAF গ্রুপে ৩০-এর মধ্যে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সহজেই শীর্ষে থেকে যোগ্যতা অর্জন করে।

সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ১০ ম্যাচে তারা কোনো গোল হজম করেনি, যা তাদের রক্ষণভাগের অসাধারণ শৃঙ্খলা ও সংগঠনের প্রমাণ।

তাদের যোগ্যতা নিশ্চিত হয় সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিরতিতে, যখন মোহামেদ আলী বেন রোমধানে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেন।

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: আফ্রিকা
* ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৪৪
* সেরা ফলাফল: গ্রুপ পর্ব
* শেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)
* প্রথম বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ (গ্রুপ পর্ব)
* মোট অংশগ্রহণ: ৭ (১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
* টানা অংশগ্রহণ: ৩
* সামগ্রিক রেকর্ড: ১৮ ম্যাচে ৩ জয়, ৫ ড্র, ১০ হার; গোল ১৪, হজম ২৬

তিউনিসিয়ার সেরা বিশ্বকাপ
তাদের প্রথম বিশ্বকাপই ছিল সেরা, আর্জেন্টিনা ১৯৭৮। তখন তারা আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি ছিল। রোজারিওতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় দিয়ে তারা ইতিহাস গড়ে। প্রথমে পেনাল্টি থেকে গোল খাওয়ার পর তারা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে; আলি কাবি, নেজিব ঘমিধ এবং মুখতার ধৌইব গোল করেন।

এরপর পোল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ভালো খেললেও ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়। শেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ০-০ ড্র করে সাহসী পারফরম্যান্স দেখায়। তারা গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায় নিলেও আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে জয় পাওয়া দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

তিউনিসিয়ার শেষ বিশ্বকাপ (কাতার ২০২২)
তারা কঠিন গ্রুপে ছিল- ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে।

প্রথম ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে ০-০ ড্র করে তারা চমক দেখায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-০ হারে। তবে শেষ ম্যাচে তারা বড় চমক দেখিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারায়, যেখানে গোল করেন ওয়াহবি খাজরি। তবুও অন্য ম্যাচের ফলের কারণে তারা গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায় নেয়, কিন্তু শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শেষ করে।

তিউনিসিয়ার শীর্ষ গোলদাতা
বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার মোট ১৪ গোলের মধ্যে ওয়াহবি খাজরি সর্বোচ্চ ৩ গোল করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গোলগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল (২০১৮), পানামার বিপক্ষে জয়সূচক গোল এবং কাতার ২০২২-এ ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়া গোল।

সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
কাইয়েস ঘোধবানে ও রিয়াধ বোয়াজিজি, দুজনই বিশ্বকাপে ৮টি করে ম্যাচ খেলে শীর্ষে আছেন। তাদের পরেই আছেন হাতেম ত্রাবেলসি।

তিউনিসিয়ার স্মরণীয় মুহূর্ত
তারা এখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারলেও বহু স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে। ১৯৭৮ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় আফ্রিকার ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক ছিল। আর সাম্প্রতিক সময়ে ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।

তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় জয়
১৯৭৮ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-১ জয়ই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। এটি এখনও তাদের একমাত্র ২ গোল ব্যবধানের জয় এবং এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩ গোল করার রেকর্ড।

মূল খেলোয়াড়রা