Worldcup Countdown

00

DAYS

00

HOURS

00

MINUTES

00

SECONDS

বসনিয়া হার্জেগোভিনা

বসনিয়া হার্জেগোভিনা

গ্রুপ বি

রাঙ্কিং: ৬৫

অংশগ্রহণ: ১

দলের পরিচিতি

জেনিকার রাত তখন উৎসবের আগুনে জ্বলছে। গ্যালারিতে সমর্থকদের কণ্ঠে ভেসে আসছে একটি গান ‘আমি বসনিয়া থেকে এসেছি, আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাও’। সমর্থকদের সেই গানই যেন পরিণত হলো বাস্তবতায়। কারণ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সত্যিই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে বলকান দেশের এই দলটিকে।

সেমিফাইনালে ওয়েলসকে পেনাল্টিতে হারানোর পর তারা একই কীর্তি ইতালির (আজ্জুরি) বিপক্ষে। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১-১ সমতা, এরপর পেনাল্টিতে জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ে। প্রথমবার খেলেছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলে।

১৯৯৩ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত এই জাতীয় দলটি এর আগে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে পৌঁছেছিল, যেখানে তারা পর্তুগালের কাছে হেরে যায়। তবে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে তারা সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে এবং তখন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান পর্যন্ত উঠেছিল।

কোচ বারবারেজের নতুন দিগন্ত
এই নতুন সাফল্যের নেপথ্যে আছেন কোচ সের্গেজ বারবারেজ। যিনি তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন মোস্তারে, তবে সাবেক এই তারকা মিডফিল্ডার খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন জার্মান বুন্দেসলিগার পরিচিত মুখ। সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী একজন ‘নম্বর ১০’ হিসেবে তিনি ইউনিয়ন বার্লিন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, হামবুর্গ ও বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে খেলেছেন। বারবারেজ জাতীয় দলে ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ৪৭ ম্যাচে ১৭ গোল করেন।

২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নতুন বসনিয়া। ৪-৪-২ ফরমেশনে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে তিনি দলকে এনে দেন ভারসাম্য। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে গ্রুপ এইচ-এ ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দলটি শেষ করে দ্বিতীয় স্থানে। মাঠের বাইরে তিনি একজন পেশাদার পোকার খেলোয়াড়ও।

এডিন জেকো: নেতৃত্বের প্রতীক, সময়ের বাইরে দাঁড়ানো এক কিংবদন্তি
বসনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে এডিন জেকো। ৪০ বছর বয়সেও তিনি দলের প্রাণভোমরা। বাছাইপর্ব ও প্লে-অফ মিলিয়ে ৬ গোল করে আবারও প্রমাণ করেছেন নিজের ধার। ম্যানচেস্টার সিটি ও ইন্টার মিলানের সাবেক এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১৪৮ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন, যা জাতীয় রেকর্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপে দেশের প্রথম অধিনায়ক ও গোলদাতা এই ‘বসনিয়ান ডায়মন্ড’ এবার নিজের শেষটা রাঙাবেন বিশ্বকাপের ছোঁয়া দিয়ে। 

ওয়েলসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের হেডার এবং ইতালির বিপক্ষে নেতৃত্ব সব মিলিয়ে আবারও ইতিহাসের কেন্দ্রে জেকো। বয়সকে জয় করে জেকোর এই এগিয়ে চলা মুগ্ধ করার মতোই। 

বিশ্বকাপ ২০২৬ এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার গ্রপ পর্বের সূচি

তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু সময় (বাংলাদেশ অনুযায়ী)
১২ জুন কানাডা টরন্টো রাত ১টা
১৮ জুন সুইজারল্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা
২৪ জুন কাতার সিয়াটল রাত ১টা

যেভাবে যোগ্যতা অর্জন করল বসনিয়া
অভিজ্ঞ এডিন জেকোর ছয় গোলের অনুপ্রেরণায় দলটি দুর্দান্ত বাছাইপর্ব খেলেছে। শুরুটা হয় রোমানিয়ার মাঠে জয় দিয়ে, এরপর সাইপ্রাস ও সান মারিনোর বিপক্ষে হোম ম্যাচে জয়। তারা অস্ট্রিয়ার চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে শেষ করে, আর রোমানিয়া ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়। দলের আক্রমণভাগ বিশেষভাবে শক্তিশালী ছিল, যেখানে এসমির বাজরাক্তারেভিচ ও কেরিম আলাজবেগোভিচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্লে-অফে তারা ওয়েলসকে নাটকীয় ম্যাচে হারায়। শেষ মুহূর্তে জেকোর হেডে ম্যাচে সমতা ফেরে এবং পরে টাইব্রেকারে জয় আসে। ফাইনালে ইতালির বিপক্ষেও একই নাটকীয়তা ৯০ ও ১২০ মিনিট শেষে ১-১। হারিস তাবাকোভিচ গোল করেন। পেনাল্টিতে পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে মিস করলে বাজরাক্তারেভিচ জয়সূচক শটটি নেন এবং জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন।

বিশ্বকাপে বসনিয়ার ইতিহাস
* কনফেডারেশন: উয়েফা
* ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৬৫
* ডাকনাম: দ্য ড্রাগনস
* সেরা ফল: গ্রুপ পর্ব (২০১৪ ব্রাজিল)
* শেষ বিশ্বকাপ: ২০১৪
* প্রথম বিশ্বকাপ: ২০১৪
* মোট অংশগ্রহণ: ১ (২০১৪)
* বর্তমান ধারাবাহিক অংশগ্রহণ: ১ (২০২৬)

প্রথম বিশ্বকাপ (২০১৪)
২০১৪ সালে বসনিয়া প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়। সেই দলে ছিলেন মিরালেম পিয়ানিচ, সিড কোলাসিনাক, আসমির বেজোভিচ, এডিন জেকো ও অন্যান্যরা। কোচ ছিলেন সাফেট সুসিচ। 

তারা লিথুয়ানিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। বিশ্বকাপে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হারে, তবে তাদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন ইবিসেভিচ। পরে নাইজেরিয়ার কাছে হেরে তারা বিদায় নিশ্চিত করে। শেষ ম্যাচে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে।

স্মরণীয় মুহূর্ত
ইরানের বিপক্ষে ৩-১ জয়ই তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ। চাপমুক্ত হয়ে তারা দারুণ ফুটবল খেলেছিল। পিয়ানিচের সৃজনশীলতা ও জেকোর নেতৃত্বে দলটি জয় পায়।

বিশ্বকাপ গোলদাতারা
২০১৪ বিশ্বকাপে চারজন খেলোয়াড় গোল করেন-
* ইবিসেভিচ (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে)
* পিয়ানিচ
* জেকো
* ভ্রশায়েভিচ

সর্বাধিক ম্যাচ খেলোয়াড়
তিনটি ম্যাচেই খেলেছিলেন ছয়জন
* বেজোভিচ
* মুহামেদ বেসিচ
* এমির স্পাহিচ
* পিয়ানিচ
* ইবিসেভিচ
* জেকো

মূল খেলোয়াড়রা