১৯৩০ সালের অভিষেক আসরে ১১টি দেশের প্রায় ৪০০ জন অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিলেন।
পরে ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত আন্তঃসাম্রাজ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বর্তমান কমনওয়েলথ গেমসের ভিত্তি তৈরি করে।
১৮৯১ সালে রেভারেন্ড অ্যাশলে কুপার প্রথম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রতি চার বছর পর একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের পরিবেশের কারণে এই আসরটি বিশ্বজুড়ে ‘ফ্রেন্ডলি গেমস’ নামেও পরিচিত।
১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টনে এই গেমসের যাত্রা শুরু হয়।
কমনওয়েলথ গেমস হলো কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
৪টি ইভেন্টে অংশ নেবেন তারা।
১৯৩০ সালে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশের ১৭ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন।
২৩ জুলাই শুরু হওয়া প্রতিযোগিতাটির পর্দা নামবে ২ আগস্ট।
এ ছাড়া ৬টি প্যারা ইভেন্টও আছে।
১০ ইভেন্টে অংশ নেবেন ক্রীড়াবিদরা।
এবারের আসরে ৭৪ দেশের ৩ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন।
তাতে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়ায় এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে গ্লাসগো।
দ্য রয়েল ফ্যামিলি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিয়ে গ্লাসগোয় শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী মুহূর্তকে ‘অবিশ্বাস্য সন্ধ্যা’ বলে সংবোধন করেছে।
২৩ জুলাই গ্লাসগোয় শুরু হওয়া গেমসের উদ্বোধন করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
সবমিলিয়ে ২৩তম আসরে আগামী ১১ দিন বুঁদ হয়ে থাকবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
চতুর্থবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক স্কটল্যান্ড।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একই সময়ে ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ ও ফিফা নারী বিশ্বকাপ, উভয় শিরোপার অধিকারী এখন স্পেন।
লাল-হলুদের উচ্ছ্বাসে রঙিন মাদ্রিদ, শহরের প্রতিটি প্রান্তে বিশ্বজয়ীদের স্বাগত জানান সমর্থকেরা।
মাদ্রিদজুড়ে উৎসবের ঢেউ, যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বন্দনা।
বিশ্বজয়ীদের একনজর দেখতে সর্বত্র উপচে পড়া ভিড়, উৎসবের নগরীতে পরিণত মাদ্রিদ।
উল্লাসে ভাসছে মাদ্রিদ; বাড়ির ছাদ থেকে রাজপথ, সবখানেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে উৎসবের আমেজ।
মাদ্রিদের রাজপথে অপেক্ষার প্রহর, বিশ্বকাপ ট্রফিতে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ছবি উঁচিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন এক সমর্থক।
ট্রফির ঝলক আর সমর্থকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সিবেলেস স্কয়ার।
ক্রিকেটার ডি. জে. ব্রাভোর সেই বিখ্যাত গান যেন আজ স্পেনের জন্যই- Champion! Champion!
মাদ্রিদের সিবেলেস স্কয়ারে সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন স্পেনের ফুটবলাররা।
রাজধানী মাদ্রিদের রাজপথজুড়ে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।
ওপেন-টপ বাসে চড়ে রাজধানীর পথে বিশ্বজয়ীরা, চারপাশে শুধু লাল-হলুদের ঢেউ।
মাদ্রিদে পা রাখতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উৎসব।
এতে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
স্পেনও বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি।
পরে আর্জেন্টিনা গোল শোধের চেষ্টা করলেও ১০ জনের দল নিয়ে পেরে ওঠেনি স্পেনের সাথে।
এরপরই তা আগুনে এক শটে জালে জড়ান তোরেস।
বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। সেটা অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান ফেররান তোরেস।
পরে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় ম্যাচ।
তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় স্কালোনির দলের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ।
এতে ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায় না স্পেন। আর আর্জেন্টিনা তো প্রতিপক্ষের গোলে তেমন শটই নিতে পারেনি।
তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করেন।
গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন।
বিপরীতে, আর্জেন্টিনাকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে মেসিদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে।
খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
এরপর ১২তম মিনিটে স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে।
বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে প্রতিপক্ষকে মাঠে কোণঠাসা করে ফেলে।
এর আগে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন।
বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল।
তবে, বিশ্বকাপ জয়ী কোচ দিদিয়ে দেশমের বিদায়টা জয়ে রাঙাতে না পারার খারাপ লাগা কিছুটা হলেও থাকল এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের।
এরপরই বাজে শেষের বাঁশি। অন্যান্য ম্যাচের মতো অবশ্য এখানে পরাজিত দলের মুখ হতাশায় ঢাকেনি।
এরপর দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেক টুকে দেন এজের বদলি নামা বেলিংহ্যাম। আসরে এই মিডফিল্ডারের গোল হলো সাতটি।
দেম্বেলে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে জালে বল পাঠালে আবার ব্যবধান নেমে আসে এক গোলে।
৮৭তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড এবং সফল স্পট কিকে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটিট্রিকের স্বাদ পান সাকা।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন ওলিসে, সাতটি। ভেঙে দিলেন ১৯৭০ আসরে কিংবদন্তি পেলের গড়া ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
চলতি আসরে ১০ গোল করে চূড়ায় উঠলেন এমবাপ্পে। আট গোল করে দুইয়ে মেসি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন করে লিখলেন এমবাপ্পে; তার গোল এখন ২২টি, মেসির ২১টি।
আর ৬৬তম মিনিটে রেকর্ড গোলটি করেন এমবাপ্পে।
ছয় মিনিট পর গোল উৎসবে যোগ দেন বাহকোলা।
প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ হারানোর পর, দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই জালের দেখা পান এমবাপ্পে।
বিরতির পর, ৯ মিনিটে দুটি গোল শোধ করে লড়াই জমিয়ে তোলে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও চার গোলে পিছিয়ে পড়েনি ফ্রান্স।
বিরতির আগেই আরেক গোল হজম করে ফ্রান্স। এবেরেচি এজের রক্ষণচোরা পাস ধরে, ডি-বক্সের মুখ থেকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সাকা।
৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের আরেকটি আক্রমণ রুখে, গতিময় প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। ১৮তম মিনিটে রাইসের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেন্টার-ব্যাক কন্সা।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের কীর্তি গড়লেন রাইস, দুই মিনিট ১৪ সেকেন্ডে।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় আক্রমণেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ইংলিশরা ১১টি আর ফরাসিরা ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
ম্যাচে ইংল্যান্ড বল দখলে একটু এগিয়ে থাকলেও, গোলের জন্য দুই দলই সমান ১৯টি করে শট নেয়।
তাদের বাকি দুই গোলদাতা বাহডলে বাহকোলা ও উসমান দেম্বেলে।
ফ্রান্সের হয়ে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের অন্য তিন গোলদাতা হলেন ডেক্লান রাইস, এজরি কন্সা ও জুড বেলিংহ্যাম।
আর ১৯৬৬ সালে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য এটি। আগে দুইবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরেছিল তারা- ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে ও ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এটি। পেছনে পড়ে গেল ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলে জেতা ম্যাচ।
চাপহীন ম্যাচের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬-৪ গোলে জিতল ইংল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি গার্ডেন্সে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হলো গোলের উৎসব।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ সংবাদ সম্মেলন হয়ে উঠেছিল তারকাখচিত। ফুটবল জাদুকরের পাশে হোস্টের ভূমিকায় ছিলেন সার্বিয়ান টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ।
ফাইনালে একটি গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলারের রেকর্ড নিজের করে নেবেন তিনি।
এই প্রথম কোনো ফুটবলার অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ার অপেক্ষায়।
স্কালোনির কৌশল, মেসির নেতৃত্ব! যে জুটিতে লেখা হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের ইতিহাস, শেষ প্রেস কনফারেন্সেও পাশাপাশি দুই নায়ক।
ফাইনালের আগে মেসির চিল মুড, কিন্তু ইতিহাস জানে তার মহত্ত্ব।
বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচে ৩৩ গোলে অবদান, ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্টে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড কেবলই মেসির।
মাইক্রোফোন হাতে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মেসি, এক ফ্রেমে ধরা পড়ল কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়।
২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১১ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা আর কারও নেই।
শেষ বিশ্বকাপের শেষ প্রেস কনফারেন্স, মেসিকে ঘিরে তৈরি হলো আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
মেসি যদি রোববারের ফাইনালে খেলেন, তবে কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন।
আর্জেন্টিনা ও স্পেন সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। সেই ম্যাচে লা রোহা ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে লা আলবিসেলেস্তেকে উড়িয়ে দেয়।
বিশ্বকাপে নিজের ৩৩ ম্যাচে মেসি ৩৩টি গোলে অবদান রেখেছেন (২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। এটিই সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান কিলিয়ান এমবাপ্পের (২৫টি)।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ১৩টি বড় টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা) মধ্যে ৮টিতেই ফাইনালে উঠলেন মেসি (৬১.৫%)।
২০২২ সাল থেকে শুরু করে মেসি টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে এটিই সর্বোচ্চ।
আর্জেন্টিনা টানা ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত ২টি বা তার বেশি গোল করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উরুগুয়ে, তারা ১১ ম্যাচে টানা দুটি বা এর চেয়ে বেশি গোল করেছিল।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল সপ্তমবারের মতো। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তারা টানা দুবার ফাইনালে উঠল। সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলেছে জার্মানি, ৮ বার। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সাতবার করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ছিল ১ নম্বরে আর স্পেন ২ নম্বরে। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শীর্ষ দুটি দল মুখোমুখি হচ্ছে।
ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর ইতিহাসের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ এখন আর্জেন্টিনার।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা–স্পেন ম্যাচ খেলেছে ১৪টি। দুই দলই জিতেছে ৬টি করে। বাকি দুটি ড্র।
৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইউরো ও কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে।
১৯৬৬ সালের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে স্পেনকে হারায়।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও স্পেন এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে, আর সেই ম্যাচে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম সেরা পারফর্মার। তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে স্প্যানিশ শিবির।
তবে দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার করে আরএফইএফ জানায়, ইয়ামালের ফিটনেস নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই।
অনুশীলনের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালের চোট নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
এটি ছিল ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর স্পেনের প্রথম অনুশীলন।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আলাদা অনুশীলন করানো হয়েছে।
তবে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) জানিয়েছে, উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
দলটির তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন না করায় তাকে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
কোথায় ইয়ামাল? বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন শিবিরে বড় দুশ্চিন্তা!
মেসির দলের টানে, টিএসসি আর বুয়েন্স এইরেস এক ফ্রেমে।
ম্যাচের দিন বুয়েন্স এইরেসের রাস্তাজুড়ে নীল-সাদা পতাকার ঢেউ।
ফুটবলের ভাষা এক, টিএসসি থেকে বুয়েন্স এইরেস।
দুই শহর, এক ভালোবাসা, আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা।
দেশ আলাদা, উল্লাস এক, টিএসসি থেকে বুয়েন্স এইরেস।
টিএসসি থেকে বুয়েন্স এইরেস, আর্জেন্টিনা জ্বরে দুই শহরের দুই গল্প
আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে টিএসসিতে সমর্থকদের ভিড়, নীল-সাদা জার্সিতে মুখর চারপাশ।
এবার ৬৪ বছর পর ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা ধরে জেতার পালা!
তার জোড়া অ্যাসিস্টেই ফাইনালে পৌঁছে যায় আলবিসেলেস্তারা।
এরপর সময় যখন একেবারেই ফুরিয়ে আসছিল, তখনই মেসি ম্যাজিক।
একের পর এক আক্রমণ করে যায় তারা। বল রেখে দেয় ইংল্যান্ডের গোলপোস্টের আশেপাশেই। তাতে সুযোগ তৈরি হতে থাকে বারবার। তবে সফলতা আসেনি।
পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা।
তবে হতাশা আরো বেড়ে যায় ৫৫ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণ থেকে মরগান রজার্সের ক্রসে গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
৪৭ মিনিটে প্রথম সুযোগটা আর্জেন্টিনাই তৈরি করে। যদিও সেই আক্রমণ থেকে গোল আসেনি। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ভালো সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের গতিপথ, মাঠে ফিরেই শুরু হয় আক্রমণ।
বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড।
গোলরক্ষকদেরও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি, পোস্টে একটি শটও কেউ নিতে পারেনি।
এর আগে, প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলশূন্য ছিল ম্যাচ, একে অপরকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ।
মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা।
এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, আবারো মেসির নিখুঁত ক্রস, এবার সেটিকে শক্তিশালী হেডে জালে পাঠান লাউতারো মার্তিনেজ।
১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক গোল-অবদানের রেকর্ড।
ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন ততক্ষণে মেসি, এই অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রাখলেন তিনি।
সেই মুহূর্তে মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।
এর আগে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট বাকি, ১-০ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড।
তার সৃষ্টিতে বদলে গেল ম্যাচের গল্প, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের রূপ দেখল বিশ্ব!
অথচ স্বপ্নটা যেন শেষ হয়ে যাচ্ছিল! সময় ফুরিয়ে আসছিল, ইংল্যান্ড তখন ফাইনালের খুব কাছাকাছি— ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে এলেন লিওনেল মেসি।
পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝলকে জয় তুলে নিল চ্যাম্পিয়নরা।
আগের কয়েক ম্যাচের চিত্রনাট্য ধরেই এগোলো ম্যাচ।
সময় বদলেছে, ভেন্যু বদলেছে, বদলেছে প্রতিপক্ষ, তবে বদলায়নি আর্জেন্টিনা আর তাদের চরিত্র।
যেখানে তাদের অপেক্ষায় স্পেন, আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল।
বুধবার থ্রি লায়ন্সদের ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপার শেষ মঞ্চে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ডের অপেক্ষা বাড়িয়ে আটলান্টায় শেষ হাসি আলবিসেলেস্তাদের।
লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে আবারো ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
এই আর্জেন্টিনাকে রুখবে সাধ্য কার? পারেনি ইংল্যান্ডও।
অন্তিম মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনার জয়। মেসির জয়ে মাতলেন বন্দিরা। লোহার গরাদের আড়ালেও থামেনি ফুটবল জ্বর।
ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। এমন দিনে একটু ভালো খাবারের আয়োজন থাকবে না?
অবশেষে গোল। মেসিরা সমতা ফেরাল। উৎকণ্ঠা রূপ পেল উল্লাসে।
লিওনেল মেসির পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছিল কারাগার। বেলুন-ফেস্টুনও শোভা পেয়েছিল।
একটুর জন্য গোল হলো না। আফসোসে পুড়ছিলেন কারাগারে থাকা সমর্থকরা।
কপালে চিন্তার ভাজ। আর্জেন্টিনা তখনও ১-০ গোলে পিছিয়ে।
মেসির জয়ে বন্দিদের উৎসব, কারাগারে ফুটবল জ্বর
অন্যদিকে ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স।
আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সেখানে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো স্পেন।
তবে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার উনাই সিমন।
শেষদিকে স্পেনের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স।
তিন মিনিট পর ইয়ামাল বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোর দারুণ বোঝাপড়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে লা রোজা।
বিরতির আগে কয়েকটি ভালো আক্রমণ গড়লেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্পেন, অন্যদিকে সমতায় ফিরতে পারেনি ফ্রান্সও।
আর তাতেই পেনাল্টি পায় স্পেন। ২২ মিনিট সফল স্পট কিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
২০তম মিনিটে ফাইলের শিকার হন লামিন ইয়ামাল।
ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বারবার ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
টুর্নামেন্টে আগের ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করা ফ্রান্সকে এদিন খুব বেশি সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি স্প্যানিশ রক্ষণ।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে।
শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখলো স্পেন।
তার মাস্টার মাইন্ডের সামনে ধোপে টেকেনি দিদিয়ের দেশমের ট্যাকটিস।
তবে কোচ দে লা ফুয়েন্তে সব হিসেবই যেন পাল্টে দিলেন।
স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগেও প্রশ্ন ওঠেছিল, এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসেদের আটকানোর সাধ্য আছে কী স্প্যানিশদের?
একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই ফ্রান্সকে আটকানোর সাধ্য কার!
এবারের বিশ্বকাপে যেন একরকম অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে ওঠেছিল ফ্রান্স।
জয়ের আশায় এক ক্ষুদে সমর্থকের ভাইকিং সেলিব্রেশন, যা বলে দেয় বিশ্বকাপ কেন এত বিশেষ।
মুখে নিজ দেশের পতাকা, চোখে জয়ের স্বপ্ন, আর মুখভরা উচ্ছ্বাস, এভাবেই গ্যালারিতে প্রাণ জোগায় এই ক্ষুদে সমর্থক।
নিজের দলকে জেতাতে স্টেডিয়ামে হাজির স্পাইডারম্যান।
প্রিয় দলের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে বিশ্বকাপ উপভোগ করছেন সমর্থকরা।
চোখে স্বপ্ন, মুখে হাসি, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভক্তের উচ্ছ্বাস।
বাবার কাঁধে ছোট্ট সমর্থকের একটাই স্বপ্ন, নিজেদের দলকে জিততে দেখা।
ফুটবল শুধু খেলা নয়, কোটি মানুষের আবেগের নাম।
পোশাক, মুখোশ আর পতাকায় প্রকাশ পেল ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা।
হাতে মেসি-ম্যারাডোনার ব্যানার, হৃদয়ে আর্জেন্টিনা, এক ভক্তের ফুটবল প্রেমের অনন্য নিদর্শন।
পতাকা উড়ছে, কণ্ঠে স্লোগান, বিশ্বকাপের রঙে রাঙা ভক্তরা।
গ্যালারির প্রতিটি মুখে লেখা ফুটবলের একেকটি গল্প।
পোশাকে, চোখে আর সাজে, সবখানেই ফুটবলপ্রেমের ছাপ।
একটি গোল, হাজারো মুখে উচ্ছ্বাসের ঝড়।
মাঠে লড়াই আর গ্যালারিতে আবেগের বিস্ফোরণ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ভক্তদের সাজেও থাকে নিজস্ব গল্প।
গ্যালারির গর্জনে শুরু হয় বিশ্বকাপের আসল উৎসব।
ফ্রেমে বন্দি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তুতি, নেই শুধু দলের প্রাণভোমরা মেসি।
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মেসিবিহীন অনুশীলনেও সতীর্থদের মাঝে দেখা গেল ফুরফুরে মেজাজ।
মাঠজুড়ে আর্জেন্টিনার ব্যস্ততা, নজর শুধু ইংলিশ মহারণে।
জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইংলিশ চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
সেমিফাইনালের আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্কালোনির দল।
অধিনায়ক অনুপস্থিত, তবে অনুশীলনে সতীর্থদের তীব্রতা একটুও কমেনি।
কানসাসে ঘাম ঝরাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, চোখ এখন ইংলিশ পরীক্ষায়।
মেসি নেই, তবু থেমে নেই আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল প্রস্তুতি।
সাহসী লড়াই করেও সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো শেষ আটেই।
সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের টানা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।
শেষ বাঁশি বাজার আগে লাউতারো মার্টিনেজও স্কোরশিটে নাম লেখান।
হুলিয়ান আলভারেজ দূর পাল্লার বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেন।
শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে লাতিন আমেরিকার দলটি।
একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ।
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময়ে সুইসরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অতিরিক্ত সময়ে সেই দেয়াল আর টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
এই সুবিধা কাজে লাগাতে শুরু করে আর্জেন্টিনা।
এরপর থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ইউরোপের দলটি।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭৮তম মিনিটে, ফাউলের শিকার হওয়ার অভিনয়ের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো।
৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ে গোল পরিশোধ করেন।
লিওনেল মেসির কর্নার কিক থেকে হেড করে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দশম মিনিটে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
দুই দলই একটি করে গোল করায় ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ আর আর্জেন্টিনার ধারালো আক্রমণের লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে।
এই জয়ে শিরোপার পথে আরেকটি কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
গত তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে ইংল্যান্ডের এটি দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার নরওয়ের স্বপ্নও ভেঙে যায়।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় ধরে রেখে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে যায় ইংল্যান্ড।
যা ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।
এবারের আসরে ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে চারবার গোল হজম করেছে।
৭ গোল করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিলেন আর্লিং হলান্ড।
এছাড়া বেলিংহাম এখন সাতটি গোল করে বিশ্বকাপে কিংবদন্তী পেলের সমান গোলদাতা হলেন।
জোড়া গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সাতটি গোল করলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো দল পায়নি জালের দেখা। তবে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে সেই বেলিংহামের গোলেই জেতে টমাস টুখেলের দল।
বিরতিতে যাওয়ার আগে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম।
৩৪ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে আগে লিড নেয় নরওয়ে।
শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
দারুণ জয়ে এক আসর পর আবারও সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল থ্রি লায়ন্সরা।
বিদায় নেওয়ার আগে এই রাউন্ডে তারা লড়াই করেছে, কিন্তু হার এড়াতে পারেনি।
কিন্তু তাদের রূপকথার জয়যাত্রা শেষ হলো এখানেই, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে স্টেল সোলবাকেনের দল।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নরওয়ে।
স্পেনের গোল দেয়ার মুহূর্ত। ছবি: এপি
ম্যাচ হেরে হতাশ রোমেলু লুকাকু। ছবি: এপি
যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। তার চোটে দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক নামায় বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত তার ভুলেই গোল হজম করে বেলজিয়াম এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যায়। ছবি: এপি
বরাবরের মতো বদলি নেমে গোল দিয়ে চমকে দিয়েছেন মিকেল মেরিনো। ছবি: এপি
স্পেনের আক্রমণভাগের সেরা ২ তারকা লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। ছবি: এপি
ফ্রান্স এখন সেই বিরল কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে।
১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর ১৯৯০ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ইউরোপের কেবল পশ্চিম জার্মানি টানা তিনটি ফাইনাল খেলেছে।
এবার সেমিফাইনালে জিততে পারলেই টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স।
২০২২ সালে ফাইনালে উঠে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়।
২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়।
এবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আফ্রিকার দলটিকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল 'লে ব্লু'রা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এমবাপ্পের তৈরি করা আক্রমণ থেকে ওসমান দেম্বেলে গোল করলে ম্যাচ কার্যত ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
কিন্তু ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মরক্কো।
প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের হতাশাও মুছে দেন এই গোলে।
বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ শটে বুনুকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে জট কাটান এমবাপ্পে।
বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ফ্রান্স।
ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
২৫তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
তবে প্রথমার্ধে গোলের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স।
হাজারো প্রত্যাশার ভারে নুয়ে পড়া এক সমর্থকের বেদনাময় মুহূর্ত।
গ্যালারির এই চোখের জলই বলে দেয় ফুটবল কতটা আবেগের।
শেষ আশাটুকুও যখন ফুরিয়ে যায়, তখন অশ্রুই হয়ে ওঠে সঙ্গী।
একটি পরাজয়, অথচ তার পেছনে লুকিয়ে থাকে কোটি মানুষের আবেগ।
মাঠে শেষ বাঁশি, গ্যালারিতে নেমে এলো হতাশার নীরবতা।
হার মেনে নেওয়া কঠিন, তাই অশ্রুতেই প্রকাশ পেল ভালোবাসার গভীরতা।
প্রিয় দলের বিদায়ে চোখের জলে ভিজে গেল ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন মঞ্চ।
জয়ের উল্লাসের ভিড়ে এই কান্নাও বিশ্বকাপের এক অবিচ্ছেদ্য ছবি।
হারের কষ্টে নীরব গ্যালারি, অশ্রুই হয়ে উঠল সমর্থনের শেষ ভাষা।
স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় অশ্রুসিক্ত মেক্সিকো সমর্থকরা, চোখের জলে লেখা হলো বিশ্বকাপের এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প।
এক আসরে দুই পেনাল্টি মিস: বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন মেসি। অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে ব্যর্থ হয়ে ছয় বিশ্বকাপে ৮ পেনাল্টির মধ্যে ৪টি মিস করেছেন তিনি।
অবিশ্বাস্য কামব্যাকের রেকর্ড: ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত দেরিতে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে না গিয়ে জয়ের নজির আর কোনো দলের ছিল না।
সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল ও অ্যাসিস্ট: মিশরের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই কীর্তি গড়ার রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ভেঙেছেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে নিলস লিডহোমের রেকর্ড।
৩৫-উর্ধ্ব ম্যাজিক: ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৫টি, যা আর কোনো ফুটবলারের নেই।
নকআউট পর্বে নতুন রেকর্ড: বিশ্বকাপের নকআউটে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ভেঙেছেন লিওনিদাস, ভাভা ও জর্জ সারোসির ৫ ম্যাচে গোলের পুরোনো রেকর্ড।
টানা ৯ ম্যাচে গোল: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষেও জালের দেখা পেয়েছেন তিনি।
স্বদেশি স্তাবিলের রেকর্ডে ভাগ: ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের এক আসরে ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি।
টানা পাঁচ জয়: বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছিল মেসিরা।
বিশ্বকাপে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ধাক্কা: ১৪ মিনিটে মিশরের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের পর প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে পিছিয়ে পড়ল মেসিরা। এর আগে টানা ১০ ম্যাচে এই অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড: দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও বিশ্বকাপে প্রথমবার জয় পেল আর্জেন্টিনা। ১৯৬৫ সালের পর এমন প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ল মেসির দল।
গোল্ডেন বুটের শীর্ষে: ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৮। শেষ ষোলোর পর ৭ গোল করা হালান্ড ও এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড: রোমেরোর গোলে সহায়তা করে বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট এখন ৯টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে।
সর্বোচ্চ গোলদাতা: মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন ২১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৯টি।
শেষ আটে মেসিদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, যারা ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ হয় মিশরের।
এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং সেই ব্যবধান ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দলটি।
কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
এরপর যোগ করা সময়ে আসে জয়সূচক গোল।
এরপর ৮৩ মিনিটের মাথায় আসে মেসির অবিশ্বাস্য এক গোল। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার শটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এই গোলে ফের ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা।
তবে বাতিল হওয়া গোলের পরও থেমে থাকেননি জিকো। ৬৭ মিনিটে ট্রানজিশন থেকে আবারও গোল করেন তিনি। এতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখায় মিশর। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মুস্তাফা জিকো। তবে কিছুক্ষণ পরই ভিএআর যাচাইয়ের পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে মিশরের এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
পাঁচ মিনিট পরই সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার, তবে শোবেইরের দুর্দান্ত সেভে ব্যর্থ মেসির পেনাল্টি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।
ম্যাচের শুরুতেই হোঁচট খায় আর্জেন্টিনা, ১৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ইয়াসির ইব্রাহিমের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় মিশর।
ম্যাচের শুরুতে কে-ই বা ভেবেছিল এমন এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হবে ফুটবল দুনিয়া!
অন্যদিকে দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের।
৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইউরোপের দলটি।
শেষ দিকে যোগ করা সময়ে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
৫৭তম মিনিটে বাঁকানো শটে ডান কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফানাকে।
গোল হজমের পরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। বক্সে ট্রোসাডের দারুণ ক্রস থেকে কাছাকাছি জায়গা থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সবশেষ নয় ম্যাচে এটি ষষ্ঠ গোল।
তবে আচমকাই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা, ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শট বেলজিয়ামের মানবদেয়ালে হন্স ফানাকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়।
প্রথম পানি পানের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল বেলজিয়ামের হাতেই।
নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকে দুই দলই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফোলারিন বালোগন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর তার লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।
যোগ করা সময়ে চতুর্থ গোলটি করেন অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু।
দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান বাড়ান হন্স ফানাকে।
সিয়াটল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের হয়ে জোড়া গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে।
বিশ্বকাপের সবুজ গালিচা থেকে বিদায় নিলেন ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা, থেকে গেল শুধু একজন নেতার গল্প।
চোখে ছিল জল, আর সেই জলে ভিজল কোটি সমর্থকের হৃদয়।
যে তারকার আলোয় আলোকিত ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চ, সেই আলোই এবার নিভে গেল এক বেদনাময় রাতে।
আর কোনো বিশ্বকাপে প্রেস কনফারেন্সে দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে, একটি যুগের ইতি।
জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন, আর হারের বেদনায় বিমর্ষ পর্তুগাল বিদায় জানাল টুর্নামেন্টকে।
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে বিশ্বকাপে রোনালদোর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হলো এক গোলের আঘাতেই।
একইসঙ্গে বিশ্বকাপ না জিতলেও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অর্জন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি।
তার দাবি, জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের সবটুকুই উজাড় করে দিয়েছেন।
বিশ্বকাপ থেকে শূন্য হাতে বিদায় নিলেও আক্ষেপের চেয়ে আত্মতৃপ্তির কথাই বেশি শোনা গেছে রোনালদোর কণ্ঠে।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রোনালদো নিশ্চিত করেন, এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তার বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।
রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপার দেখা পাননি পর্তুগালের এই মহাতারকা।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
এখন তাদের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে।
৩-২ গোলের এই জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
শেষ মুহূর্তে মেক্সিকো সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও ইংল্যান্ডের দৃঢ় রক্ষণ সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
বাজেভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা।
স্পট কিক থেকে রাউল হিমেনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৩-২-এ।
তবে ম্যাচের উত্তেজনা তখনও শেষ হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় মেক্সিকোকেও একটি পেনাল্টি দেন রেফারি।
স্পট কিক থেকে গোল করে দলের তৃতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের ভেতর অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড।
তবে চার মিনিট পরই হুলিয়ান কিনিওনেসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরে মেক্সিকো। ২-১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
৩৬ ও ৩৮ মিনিটে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম।
প্রথমার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে দর্শকরা পেয়েছেন রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে নাটকীয়তার পর নাটকীয়তা।
অন্যদিকে ভালো খেলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো সহআয়োজক মেক্সিকো।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
৫ গোলের থ্রিলারে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলো হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড।
১৯৯০ সালের পরে এই প্রথম শেষ আটে যাওয়ার আগেই ছিটকে গেল ব্রাজিল।
পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি।
শেষ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল নেইমারের।
দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল নরওয়ে।
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল।
নিউ জার্সিতে জোড়া গোল করে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করলেন তিনি।
তবে কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন আর্লিং হাল্যান্ড।
রবিবার রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নামার আগে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চর্চা চলছিল, সেই ছবি বদলাবে কি না।
এর আগে চারবারের সাক্ষাতে অপরাজিত ছিল নরওয়ে। রবিবারের ম্যাচ নিয়ে যা পাঁচে গিয়ে ঠেকল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে।
১০ জুলাই শেষ আটের ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পের করা একমাত্র গোলেই ম্যাচ জিতল ফরাসিরা।
প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেল ফ্রান্স।
প্যারাগুয়ের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ফ্রান্স।
বিপদে ত্রাতা এমবাপ্পে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে সেরা দশে থাকা মরক্কো কাগজে-কলমে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল।
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল আফ্রিকান দেশটিকে।
সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কো খেলবে ফ্রান্সের বিপক্ষে।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অনন্য নজির স্থাপন করলো মরক্কো।
আজেদিন ওনাহির জোড়া গোলে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলো মরক্কো।
প্রথমার্ধে সুবিধা করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
নীল-সাদার জাদুতে ভরা এক ভক্তের নিখাদ আবেগ।
গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে যেন নিজেই আর্জেন্টিনার প্রতিচ্ছবি।
গোঁফ-দাড়ি থেকে চশমা পর্যন্ত সবই ব্রাজিলের রঙে রাঙানো।
গ্যালারির মাঝে উজ্জ্বল এক প্রেমের বার্তা “Ronaldo, You are my hero”
ফুটবলের গ্যালারিতে ফলের উৎসব!
মাঠের লড়াইয়ের আগে, জীবনের লড়াইয়ে ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার আহ্বান।
গ্যালারিতে অপেক্ষা, ম্যাচের আগে একটাই বার্তা—ফুটবল হোক ভালোবাসার, বর্ণবাদের নয়
এক গালে ফ্রান্স, আরেক গালে সুইডেন- ফুটবলের প্রেমে দুই দলই আপন!
দুই শিং, দুই কাপ, আর একগাল হাসিতে সমর্থনেরও আছে আলাদা স্টাইল!
ভয়ংকর মুখোশ আর অদম্য উচ্ছ্বাসে সেনেগালের এই ভক্তের অপেক্ষার মুহূর্তটাও স্টেডিয়ামকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে আনন্দে।
বেলজিয়ামের পতাকার রঙে ঝলমলে হেয়ারস্টাইল আর আত্মবিশ্বাসী হাসিতে এই সমর্থকের অপেক্ষা যেন সিয়াটেল স্টেডিয়ামকে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে দিচ্ছে।
কলম্বিয়ার আবেগে ভেসে যাওয়া এই ভক্তের উল্লাসে কানসাস সিটির গ্যালারি যেন রঙের ঝড় তুলেছে।
ঝাঁকড়া চুল আর উচ্ছ্বাসে ভরা এই অবুঝ কলম্বিয়ান শিশুর উপস্থিতিতে কানসাস সিটি স্টেডিয়াম যেন এক রঙিন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মাতৃভূমির রঙে মুখ রাঙানো এই ক্ষুদে ভক্তের স্বপ্ন ভেঙে যায়, মরক্কোর কাছে হেরে কানাডা বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।
কানাডা ও মরক্কোর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে দেশের পতাকার রঙে নিজেকে সাজিয়ে উচ্ছ্বাসে ভরপুর এক কানাডীয় সমর্থক।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের আবদার মিটিয়ে তাদের সাথে ছবি তোলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।
ম্যাচশেষে ভোজিনিয়ার সঙ্গে আলিঙ্গন করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ।
এদিনও গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি ।
বিশ্বকাপে ২০তম গোলের পর মেসির উদযাপনে এমন দৃশ্যই ধরা পড়ে ।
এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি ।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে ঘাম ঝরেছে মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের।
আর্জেন্টাইন মহাতারকার দূরপাল্লার একটি ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়া ।
মেসিকে আজ ভালোই পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছিলেন ভোজিনিয়া।
আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? বহু প্রতীক্ষিত নকআউট পর্বের প্রথম গোলের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের দলকে নিয়ে গেলেন শেষ ১৬-র মঞ্চে।
আর অন্যদিকে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন লুকা মদরিচ ও তার সতীর্থরা।
শেষ বাঁশির সাথে সাথেই মাঠে শুরু হয় পর্তুগিজদের বুনো উল্লাস।
২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় পর্তুগাল।
খেলা যখন নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) রাফায়েল লিয়াওয়ের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে বসেন বদলি নামা স্ট্রাইকার গনসালো রামোস।
৮০ মিনিটে আবারও বল জালে জড়ায় ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু এবারও লাইন্সম্যানের অফসাইডের পতাকা তাদের আনন্দ কেড়ে নেয়।
আর এই গোলের মাধ্যমেই নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের দেখা পেলেন এই মহাতারকা।
৬৮ মিনিটে স্পটকিকে সোজাসুজি বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো।
এর মাত্র তিন মিনিট পরই ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার কর্তৃক ভেইগার জার্সি টেনে ধরার অপরাধে ভিএআর রিভিউ দেখে পর্তুগালকে পেনাল্টি উপহার দেন রেফারি।
কিন্তু অত্যন্ত সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে ভিএআর তার সেই গোলটি বাতিল করে দিলে হতাশায় ডোবে পর্তুগাল শিবির।
এরপরই শুরু হয় আসল ‘রোনালদো শো’। ৬১ মিনিটে কানসেলোর পাস ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন সিআরসেভেন।
সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই তিন মিনিট পর আবারও পর্তুগালের জালে বল জড়িয়েছিল ক্রোয়েশিয়া, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
তবে বিরতির পর মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ৫৩ মিনিটে স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচ।
বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে তেমন কোনো আগ্রাসী আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পর্তুগালের।
আর সেই সাথে শেষ হলো ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদরিচের বর্ণিল বিশ্বকাপ অধ্যায়।
ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের চরম নাটকীয়তায় হেরে বিশ্বকাপ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে।
ক্রোয়েশিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব সিক্সটিন নিশ্চিত করেছে পর্তুগিজরা।
৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের ১৯তম মিনিটে শেষ হওয়া এই ব্লকবাস্টার ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল।
জয় হাতছাড়া হতেই হতাশায় মুখ লুকালেন কঙ্গোর খেলোয়াড়রা।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অধিনায়কের গোল এখন ১৩ টি, যার মধ্যে ৫টি এবারের বিশ্বকাপে।
এই গোলের মাধ্যমে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন কেইন।
বক্সের ভেতরে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে যেভাবে গোলটি করেছেন, নিশ্চিতভাবেই এবারের আসরের সেরা গোলের তালিকায় থাকবে এটি।
তবে কেইনের জয়সূচক গোলটি ছিল দেখার মতো।
কিন্তু বারবার আটকে গেছে এমপাসির কঙ্গোর দেয়ালে।
গোল খেয়েই ম্যাচে ফেরার তুমুল চেষ্টা করেছে ইংল্যান্ড।
এর আগে ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় প্রতিআক্রমণ থেকে গোল হজম করে বসে ইংল্যান্ড।
এ দুই গোলে ইংল্যান্ড সমর্থকদের স্বস্তি এনে দিয়েছেন ইংলিশ তারকা।
এর পর যথাক্রমে ৭৫ ও ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেইন গোল করে দলকে জেতান।
ম্যাচের ৭৫ মিনিট এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দেশটি।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও হ্যারি কেনদের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছে লে লিওপার্ডসরা।
এ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিল দলটি।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে তারা যে শুধু নাম লেখাতে আসেনি তার প্রমাণ দিয়েছে কঙ্গো।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নক আউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন এমবাপ্পে (১০টি)। ৮ বার করে নক আউটে গোলের রেকর্ড আছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো ও লিওনিদাসের।
এদিকে এই ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বসে গেছেন লিওনেল মেসির পাশে। তার সমান ৬ গোল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আছেন এবারের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে।
এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিতের পর এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে পেল ফ্রান্স।
এই জয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে ৩ বা তার চেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স।
এই পর্বেও ফ্রান্সের আক্রমণের সামনে কোনো জবাবই দিতে পারল না প্রতিপক্ষ সুইডেন।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে সুপার ৩২ পর্বে পা রাখে ফ্রান্স।
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সতীর্থদের ভালোবাসায় ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
দলটির অন্য গোলদাতা ব্রাডলে বার্কোলা।
এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া সব গোলে সুইডেনকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স।
গ্যালারিজুড়ে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস যেন জানিয়ে দিল—৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে মেক্সিকো।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠে আজতেকা।
চার দশক পর তার হাত ধরেই নকআউটে জয়ের আনন্দে ভাসল মেক্সিকো।
১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান কোচ হাভিয়ের আগিরে।
গ্রুপ পর্বে একটি গোলও হজম করেনি মেক্সিকো। সেই দৃঢ় রক্ষণ আর আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের ধারাবাহিকতাই ধরে রাখল নকআউটেও।
সবশেষ ১৯৮৬ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে নকআউটে জয়ের দেখা পেয়েছিল মেক্সিকো। ৪০ বছর পর ফিরল সেই হাসি।
এদিন প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
আজতেকায় বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল মেক্সিকো। এই মাঠে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত দলটি।
বজ্রঝড়ের বাধা পেরিয়ে আজতেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা।
চার দশকের আক্ষেপের অবসান। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও জয়ের স্বাদ পেল মেক্সিকো।
গেল বারের সেমিফাইনালিস্টরা এবার চলে যায় প্রতিযোগিতার শেষ ষোলয়।
৩-২ গোলে পেনাল্টি শ্যুটআউট জিতে নেয় মরক্কো।
শেষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে গড়ায় খেলা। নাটকীয় টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে মরক্কো।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে ম্যাচের ফল আসেনি।
নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিল।
১৯৭৬ সালে ইউরোর ফাইনালে তাদের বিপক্ষে জিতেছিল চেকোস্লোভাকিয়া।
অর্ধ শতাব্দী আগে সবশেষ কোনো টুর্নামেন্টের টাইব্রেকারে হেরেছিল জার্মানি।
এর আগে জার্মানির একজনই বিশ্বকাপে টাইব্রেকার মিস করেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে উলি স্টেইলিক।
এ ম্যাচে টাইব্রেকারে গোল পাননি- কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডা ও ইয়োনাথান টাহ।
প্রথমবার টাইব্রেকারে হেরেছে জার্মানি। এর আগে চারবারই জিতেছিল তারা।
দুর্ভেদ্য জাপানি রক্ষণ ভেঙে শেষ পর্যন্ত দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
বাকি সময়ে জাপান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি।
আক্রমণের ধারাবাহিকতায় সুযোগ পেয়ে জাপানের রক্ষণ ভেদ করে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই আর্সেনাল তারকা।
শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মার্তিনেল্লিই জয়ের নায়ক হন।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ব্রাজিল।
ক্রমাগত আক্রমণের ফল পায় ব্রাজিল। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ক্যাসেমিরো।
এরপর ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনহার জায়গায় নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিরতির পর ম্যাচে পরিবর্তনের ছোঁয়া আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
প্রথমার্ধের ২৯তম মিনিটে বড় ভুল করে বসে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপানি মিডফিল্ডার কাইশু সানো প্রায় অর্ধেক মাঠ দৌড়ে এসে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান।
তবে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভর করে সেলেসাওদের চাপে রাখে জাপান।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল।
জাপান ব্রাজিল ম্যাচের দিন হিউস্টন যেন এক টুকরো টোকিও।
মাঠে ফুটবলের লড়াই। গ্যালারিতে সৌহার্দ্যের জয়।
ব্রাজিলের ক্ষুদে সমর্থক।
তিনি কোন দেশের সমর্থক, ব্রাজিল নাকি জাপান? নাকি ফুটবলের?
এই শিরোপার জন্যই ২০০২ সাল থেকে ব্রাজিলের অপেক্ষা...
গ্যালারিতে নজর কেড়েছে জাপানের সমর্থকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়া জয়ের পর গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো।
২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেসি-রোনালদোর জার্সি গায়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টিকার অ্যালবাম বিনিময় উৎসবে মেতে উঠেছে ক্ষুদে ফুটবলপ্রেমীরা।
এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে কানাডা।
দুই দলই এর আগে একাধিকবার বিশ্বকাপ খেললেও প্রথম পর্ব পার হতে পারেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা দুই দলের জন্য ছিল বিশ্বকাপে এটি ছিল প্রথম নকআউট ম্যাচ।
এই জয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব পেরিয়ে সেরা ষোলো নিশ্চিত করল কানাডা।
সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কানাডা।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কানাডাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক স্টিভেন ইউস্টাকিও।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে কানাডিয়ানরা।
নাটকীয় এক জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেরা ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা।
স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল ক্রোয়েশিয়ার ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভরপুর।
শেষ ষোলো নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাসে ভাসছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল দল।
এই জয়ের সুবাদে গ্রুপ পয়েন্ট টেবিলে তিন থেকে দুইয়ে উঠে আসে ক্রোয়েশিয়া।
তবে দলীয় নৈপুণ্যে ২-১ গোলে ঘানাকে হারিয়ে এল গ্রুপের রানারআপ হয়েছে দলটি।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া বেশ কষ্টেসৃষ্টেই জিতেছে।
শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
কেইন অবশ্য রেকর্ডই গড়ে ফেলেছেন। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে হেডে করা গোলটি বিশ্বকাপে কেইনের ১১তম। ইংল্যান্ডের হয়ে এটি সর্বোচ্চ।
একটি করে গোল করেছেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম।
পানামাকে ২–০ গোলে হারিয়ে ‘এল’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড।
জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিকের সেই অনবদ্য গোলেই পূর্ণতা পায় বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার ইতিহাস।
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জালেও জোড়া গোল করেন মেসি। এ নিয়ে তিন ম্যাচে তার গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ছয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটাও করেছেন দারুণভাবে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক।
ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে করেছিলেন জোড়া গোল। সেই ধারাবাহিকতাই এনে দিয়েছে টানা সাত ম্যাচে গোলের বিশ্বরেকর্ড
কাতার বিশ্বকাপের নকআউটে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন একটি করে গোল।
মেসির এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার শুরু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। চার বছর পরও সেই গোল করার ছন্দ অটুট রেখেছেন তিনি।
এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মাঠে নামার মাত্র ২০ মিনিট পরই ফ্রি-কিক থেকে চোখধাঁধানো গোল করেন মেসি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি।
জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি।
সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি।
নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিশ্চিত হয় ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ হয় জাপান।
শেষ পর্যন্ত ১–১ গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান ও সুইডেন।
এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোলের দেখা মেলেনি।
তবে খুব দ্রুতই সমতা ফেরায় সুইডেন।
চমৎকার দলীয় আক্রমণে এগিয়ে যায় জাপান।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ধীরে ধীরে জমে ওঠে ম্যাচ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আইভরি কোস্টের ইব্রাহিম সাঙ্গারে সিজদাহ দিয়ে কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ প্রকাশ করছেন।
ইতিহাস গড়ার দিনে আইভরি কোস্টের ফুটবলাররা আইভোরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসিন ইদ্রিস ডায়ালোকে কাঁধে তুলে আনন্দ-উল্লাস করছেন।
কুরাসাওকে বিদায় জানিয়ে ইতিহাস গড়ার আনন্দে মেতে ওঠে আইভরিকোস্ট শিবির।
একটি ড্রয়ের তৃপ্তি নিয়ে কুরাসাওয়ের রূপকথা থামল। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর, একুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছিল তারা।
এবারের আসরে এসে সেই ব্যর্থতার অধ্যায় বদলে নতুন ইতিহাস গড়ে আইভরিকোস্ট।
এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও তিনবারই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা।
এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (শেষ ৩২) জায়গা করে নেয় আফ্রিকান দলটি।
নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওকে ২–০ ব্যবধানে হারায় আইভরিকোস্ট।
পাশাপাশি বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারানো লাতিন আমেরিকার চতুর্থ দল এখন ইকুয়েডর।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতা ইউরোপের বাইরের মাত্র দ্বিতীয় দল হলো ইকুয়েডর।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হলুদ জার্সিধারী সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।
এই জয়ে ইকুয়েডর চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পায় ইকুয়েডর।
শেষ মুহূর্তে ভিতের কর্নার থেকে রদ্রিগেজের হেডে বল পেয়ে গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন গনজালো প্লাতা।
পুরো ম্যাচ জুড়েই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ইকুয়েডর প্রথমার্ধেই নিলসন অ্যাঙ্গুলোর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরায়।
গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানি ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায়।
সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে দুর্দান্ত লড়াইয়ে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ইকুয়েডর।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেয়ে বসনিয়ার নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।
ইনজুরিতে মাঠে লুটিয়ে পড়া কাতারের হাসান আলহাইদোসকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন বসনিয়ার নিকোলা কাটিচ। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও ফুটবলের মানবিক সৌন্দর্যের এক অনন্য দৃশ্য।
বিরতির পর কাতারের জালে তৃতীয়বারের মতো ৮০ মিনিটে বল জড়ায় বসনিয়া।
৩০তম মিনিটে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন কেরিম আলাজবেগোভিচ।
ম্যাচের শুরুতেই বসনিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।
কাতারের সঙ্গে ৩-১ গোলে জিতে নকআউটের স্বপ্ন দেখছে বসনিয়া।
সুইসদের হয়ে ৪৬ মিনিটে রুবেন ভারগাস ও ৫৪ মিনিটে ইয়োহান মানজাম্বি গোল করেন।
৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ কানাডা প্রথমবারের মতো উঠল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।
‘বি’ গ্রুপে সব দলের তিনটি করে ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সুইজারল্যান্ড।
স্বাগতিক কানাডাকে ২–১ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে (শেষ ৩২ দলের রাউন্ড) উঠেছে সুইজারল্যান্ড।
এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ ম্যাচে দলটির মোট পয়েন্ট ৪।
আগে তিন দফায় বিশ্বকাপ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকও ছিল ২০১০ আসরে। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব উতরাতে পারেনি তারা। এবার খুলে গেল ইতিহাসের দুয়ার।
যেখানে হলুদ জার্সিতে আনন্দের জোয়ার, সেখানে লাল জার্সিতে শুধুই হতাশার ছায়া। কারও মাথা নত, কারও চোখ ভেজা, কারও মুখে নীরব বেদনার গল্প।
ইতিহাস গড়ার রাতে আফ্রিকান নাচে মেতে ওঠেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলাররা। উল্লাসে তখন মিশে আছে গর্ব, সংস্কৃতি আর স্বপ্নপূরণের আনন্দ।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। ৬৩ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন মেসাকো।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস গড়া জয়ের নায়ক থাপেলো মেসাকো, তার একমাত্র গোলেই এলো ঐতিহাসিক সাফল্য।
তাঁর চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া জল যেন বলছিল সব বাধা জয় করে ফিরে আসার এক অনন্য উপাখ্যান।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের চারপাশে ঘুরে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দেওয়ার সময় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি নেইমার।
এই ম্যাচের মাধ্যমে নেইমার নিজের ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন।
ম্যাচের বাকি সময়টায় নেইমারের পায়ের প্রতিটি স্পর্শেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকার।
নেইমার মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক তুমুল করতালি ও উল্লাসে তাকে স্বাগত জানান।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের যখন ৭৬তম মিনিট, তখন মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে প্রবেশ করেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এক ম্যাচে সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন নেইমার।
৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে অঝোরে কাঁদলেন নেইমার।
তবে মাঠের সেই দাপুটে পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল নেইমারের এই আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
উড়ন্ত চুমুতে ভক্তদের ভালোবাসা এভাবেই ফিরিয়েছেন নেইমার।
মাটি ছুঁইয়ে মাঠে প্রবেশ নেইমারের। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরেছেন তিনি।
আলিসন বেকার ছিলেন দুর্দান্ত। পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে একাধিক কোচ সেভ করেছেন।
আনন্দ যেন থামছিলই না।
গোল করে কুনহার উদযাপন। সঙ্গে ছিলেন লুকাস পাকেতা।
ব্রাজিলের জার্সিতে ভালো না করার অপবাদ ছিল ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে। হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেটাও নিশ্চিতভাবে দূর করেছেন।
রক্ষণের ভুলে ভিনিসিয়ুসের গোল। মানতেই যেন পারছিলেন না স্কটিশ খেলোয়াড়।
পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে গোল করার অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
প্রাণপণ লড়াই করেও পরাজয় এড়াতে পারেনি কঙ্গো।
নকআউটের টিকিট হাতে পেয়েই উচ্ছ্বাসে ভাসেন কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে নিখুঁত এক স্পর্শে বল জালে জড়িয়ে দেন ডিফেন্ডার দানিয়েল মুনিয়োজ। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা।
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। তাতেই নিশ্চিত করেছে নক-আউট।
মদ্রিচের নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ক্রোয়েশিয়া। এছাড়া ২০২৩ উয়েফা নেশনস লিগেও রানার্সআপ হয়েছিল দলটি।
টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে এই জয় ক্রোয়েশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মদ্রিচের দল।
শেষ পর্যন্ত গোল শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে পানামার বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
অধিনায়ক লুকা মদ্রিচের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে রইল গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে।
টরেন্টো স্টেডিয়ামে স্নায়ুচাপের ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ক্রোয়েশিয়া।
ড্র-কে জয়ের মতো উদযাপন করে মাঠ ছাড়ল ঘানা।
ইংল্যান্ড ফুটবলারদের মুখে-মুখে ফুটে উঠল হতাশা।
ম্যাচে আলো ছড়াতে পারেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ছবির মতোই জমে উঠেছিল ম্যাচ, লড়াই হয়েছে সমানে সমান।
ম্যাচে প্রায় ৭৯ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে কেবল তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইংল্যান্ড। ঘানার গোলরক্ষকের খুব একটা পরীক্ষাই নিতে পারেনি তারা।
বস্টন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।
জমাট রক্ষণে ইংল্যান্ডকে আটকে রেখে মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নিল আফ্রিকার দলটি।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকার সবচেয়ে বড় শক্তি একটাই, হাল না ছাড়া, লড়ে যাওয়া, আর বারবার ফিরে আসা।
এই গোলের মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে যান। ইউসেবিওর ৯ গোল ছাড়িয়ে এখন রোনালদোর গোল সংখ্যা ১০।
এরপর আসে ৩৯তম মিনিটের মুহূর্ত। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন রোনালদো।
আরেকটি রেকর্ডও তখনই নিজের করে নেন তিনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার এখন তিনিই।
এটি ছিল পর্তুগালের জার্সিতে তার ১৪৪তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন।
মঙ্গলবার সেই জবাব দিতে দেরি করেননি তিনি। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই গোল উদযাপনে মাতেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
কিন্তু রোনালদো অপেক্ষায় ছিলেন একটাই জবাবের- মাঠের পারফরম্যান্স।
ডি. আর. কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি বললে ভুল হবে না। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বগুণ ও ফর্ম নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
কয়েকদিন আগ পর্যন্ত সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছিল না রোনালদোর। চলতি টুর্নামেন্টে শুরুটাও হয়েছিল হতাশাজনকভাবে।
জয়ের বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন আলজেরিয়ার ফুটবলাররা।
এই নাটকীয় জয়ে গ্রুপ জে এর নকআউটের সমীকরণ আরও জমিয়ে তুলল আলজেরিয়া।
তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে জর্ডানকে স্তব্ধ করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন নিজার আল–রাশদান।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফেভারিট আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল জর্ডানের কাউন্টার অ্যাটাকগুলো।
লড়াকু ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের ডিফেন্সিভ ভুলে বুক ভাঙা হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বিশ্বমঞ্চের নবাগত জর্ডানকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে আলজেরিয়া।
সান ফ্রান্সিসকোর বে স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জে'-র ম্যাচে মরুর দুই দেশের লড়াকু ফুটবলে ছড়ালো চরম উত্তেজনা।
নরওয়ের জার্সিতে টানা ১২ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ছবি- এপি
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই একাধিক গোল করা ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার হলেন হালান্ড। ছবি- এপি
শেষ বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের সঙ্গে নকআউট নিশ্চিতের আনন্দে মাতেন নরওয়ের গোলমেশিন। ছবি- এপি
সেনেগালের ডিফেন্ডাররা পুরো ম্যাচেই খুঁজে ফিরেছেন হালান্ডকে থামানোর উপায়। ছবি- এপি
চলতি বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই চার গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন হালান্ড। ছবি- এপি
৫৮তম মিনিটে বক্সের ভেতর জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল পূর্ণ করেন নরওয়ের তারকা। ছবি- এপি
৪৮তম মিনিটে দলের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম গোলটি করেন হালান্ড। ছবি- এপি
সেনেগালকে হারিয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার অর্থাৎ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল নরওয়ে। ছবি- এপি
গুরু-শিষ্যের মুহূর্ত, ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন দেশম। ছবি-এপি
এর আগে সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। ছবি-এপি
১৬ গোল করে বিশ্বকাপে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নেন এমবাপ্পে (ক্লোসার সমান ১৬)। ছবি-এপি
চলতি আসরে এটি তাঁর ৪র্থ গোল, গোল্ডেন বুট দৌড়ে আরও শক্ত অবস্থানে তিনি। ছবি-এপি
এমবাপ্পের জোড়া আঘাতের সঙ্গে দেম্বেলের এক গোল, তাতেই ইরাকের বিপক্ষে সহজ জয় ফ্রান্সের। ছবি-এপি
৫৪তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি, জোড়া গোল পূর্ণ করে ইরাককে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকে। ছবি-এপি
ইরাকের বিপক্ষে শততম ম্যাচ রাঙাতে দেরি করেননি এমবাপ্পে, ১৪তম মিনিটেই জ্বলে ওঠেন তিনি। ছবি-এপি
শো শেষে পর মঞ্চ থেকে বের হওয়ার সময়ও দর্শকদের অভিবাদনে সাড়া দেন জাদুকর। ছবি- এপি
তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ মিশনে এগিয়ে চলছে আর্জেন্টিনা-আর সামনে আলো হয়ে আছেন সেই “জাদুকর”। ছবি- এপি
৩৯ বছর বয়সেও যেন আরও বেশি ক্ষুধার্ত মেসি। সময় থেমে গেলেও থামছে না তার জাদু। ছবি- এপি
এ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই মুহুর্তে তিনিই। ছবি- এপি
যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি, দ্বিতীয় গোল করে পূর্ণ করেন জোড়া গোলের রাত। ছবি- এপি
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭। ভেঙে দেন মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। ছবি- এপি
৩৮তম মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল কাঁপান মেসি। সেই গোলেই খুলে যায় ইতিহাসের নতুন দরজা। ছবি- এপি
এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রথম আট ম্যাচে কোনো জয় পায়নি মিশর।
এর আগে, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর।
৬৭ মিনিটে নিজের প্রথম ও দলের হয়ের দ্বিতীয় গোল করেন মোহাম্মদ সালাহ।
মোহাম্মদ সালাহ-ওমর মারমুশদের হাত ধরে এলো কাঙ্ক্ষিত সেই জয়। নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল লাল জার্সিধারীরা।
৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় পেল মিশর।
গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে জয়হীন উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ। প্রত্যাশার ভার যেন আরও বেড়ে গেল তাদের ওপর।
বিশ্বকাপে এর আগে কখনো সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল হজম করেনি উরুগুয়ে। কেভিন পিনার শটে সেই রেকর্ডও ভেঙে যায়।
উরুগুয়ে দুইবার গোল করলেও কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। রক্ষণভাগও ছিল দারুণ সংগঠিত।
জয় না পেলেও কেপ ভার্দের এই পারফরম্যান্স অনেক দলের জন্যই ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খুব কম দলই দেখাতে পারে।
স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকা কেপ ভার্দের জন্য কোনো স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।
স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এবার উরুগুয়ের বিপক্ষেও পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নবাগত দলটির এই লড়াই ইতোমধ্যেই নজর কাড়ছে ফুটবলবিশ্বের।
ম্যাচের ২১ মিনিটেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের উল্লাসে ভাসে কেপ ভার্দে। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে জাল খুঁজে নেন কেভিন পিনা।
ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদ অঞ্চলে জন্ম বেইরানভান্দের। তিনি একটি যাযাবর (নোমাডিক) কুর্দি লাক পরিবারে বড় হয়েছেন।ছোটবেলায় ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবারের পশুপালনের কাজে সাহায্য করতেন আলিরেজা। একজন রাখাল হিসেবেই শুরু হয়েছিল তার জীবনযুদ্ধ। ছবি- এপি
ম্যাচ শেষে সতীর্থদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই নায়ক। স্মরণীয় মুহূর্তটি ফ্রেমবন্দী করে রাখেন তারাও। ছবি- এপি
ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় বেলজিয়াম। গোলের উদ্দেশে নেয় ২৩টি শট। কিন্তু ইরানের রক্ষণদুর্গ আর বেইরানভান্দকে ভেদ করতে পারেনি কেউ। ছবি- এপি
কয়েক দিন আগে যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া জবাব দেয়া ইরান সেই একই স্পিরিট যেন খেলার মাঠেও ফিরিয়ে এনেছে। ছবি- এপি
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করেছিল ইরান। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বেইরানভান্দের অনবদ্য পারফরম্যান্সে থামিয়ে দেয় বেলজিয়ামকেও। ছবি- এপি
বেলজিয়ামের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য ইরানকে দুর্ভেদ্য করে তোলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ইরানের এই মানবপ্রাচীর একাই ৭টি সেভ করেছেন। কোনো কোনো সেভ ছিল স্রেফ অবিশ্বাস্য। ছবি- এপি
ম্যাচটি তাই ইয়ামালের কাছে শুধুই গোল করার নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেয়ার গল্পও।
গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। এর আগে এই মাইলফলক ছুঁতে পেরেছিলেন কেবল ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।
এই গোলের সুবাদে স্পেনের ইতিহাসে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেও জায়গা করে নেন ইয়ামাল।
মেসির চেয়ে মাত্র ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার কীর্তি গড়েন স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার।
ম্যাচে করা একমাত্র গোলেই মেসিকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান ইয়ামাল।
সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফিরেই ইতিহাস গড়েন লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচের ১০ মিনিটেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান এই তরুণ তারকা। এরপরই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে মাঠে সিজদাহ দিতে দেখা যায়।
রঙিন মুখে জাপানকে সমর্থন জানাতে গ্যালারিতে ভক্তদের উল্লাস।
শেষ বাঁশির পর হতাশায় ডুবে যান তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়রা।
তিউনিসিয়ার জালে গুনে গুনে এক হালি গোল দিয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে জাপান।
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের এটি ১০০০তম ম্যাচ। তাতে জিতে ইতিহাসে নাম লেখালো জাপান। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে 'সামুরাই ব্লু'রা নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ল।
এফ গ্রুপের ম্যাচ জাপান জিতেছে ৪-০ গোলে। দাইচি কামাদা ৪ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর জোড়া গোল পান আয়াসে উয়েদা, বাকি গোল আসে জুনিয়া ইতোর পা থেকে।
তিউনিসিয়াকে গুঁড়িয়ে জাপানের রেকর্ডগড়া জয়।
ম্যাচ শেষ হতেই সতীর্থদের উষ্ণ আলিঙ্গনে ভেসে যান কুরাসাওর গোলরক্ষক ইলোই রুম।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদন জানাচ্ছেন কুরাসাওর গোলরক্ষক।
ইকুয়েডরের জন্যও এই ম্যাচটি ছিল চরম হতাশার প্রতিচ্ছবি। ১৫টি শট অন টার্গেটে নিয়েও তারা কোনো গোল করতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা, মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে দলকে এনে দিলেন বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট, আর সেই নায়ক ইলোই রুম।
এ ম্যাচে রুম আরও একটি অনন্য রেকর্ড নিজের করে নেন। বিশ্বকাপে ক্লিন শিট রেখে এক ম্যাচে এত বেশি সেভ করার নজির আর কেউ গড়তে পারেননি। অর্থাৎ গোল না খেয়েও এত চাপ সামলানোর এমন কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপে সেভ গণনা শুরু হওয়ার পর এক ম্যাচে এটি সর্বোচ্চ সেভের সমান রেকর্ড।
গোলরক্ষক ইলোই রুমের বীরত্বে এবার আর গোল হজম করতে হয়নি কুরাসাওকে। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দেশটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট এনে দেন তিনি।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নেমে বিশ্বকাপে গোলরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ ২১ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন জার্মান কিংবদন্তি ম্যানুয়েল নয়্যার।
প্রথমার্ধে জার্মানিকে চাপে ফেলে গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন আইভরি কোস্টের ফুটবলাররা।
আইভরি কোস্ট অধিনায়ক কেসির গোলে পিছিয়ে পড়ে জার্মানি। সমতায় ফিরতে ম্যাচে পরিবর্তন আনেন কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। বদলি হিসেবে নামা দেনিজ উনদাভ জোড়া গোল করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেন।
৬৮ মিনিটে উনদাভের প্রথম গোলে সমতায় ছিল দুই দল। ম্যাচটি সেভাবে শেষ হলে এক পয়েন্ট পেতে পারত আইভরিকোস্ট। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ (৯৪) মিনিটে উনদাভের দ্বিতীয় গোলে সেই আশাও শেষ হয়ে যায় তাদের।
১২ বছর আগের সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। তারপর পরপর দুটি বিশ্বকাপে জার্মানি বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন দেনিজ উনদাভ। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে তার জোড়া গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পায় জার্মানি। সেই সঙ্গে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার টিকিটও নিশ্চিত করে তারা।
সুইডেনকে হারিয়ে রেকর্ডবুকেও নাম লিখিয়েছে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে তারা ছাড়িয়ে গেছে পেলের ব্রাজিলকে, যারা ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে টানা ১৩ ম্যাচ হারেনি।
পরিসংখ্যানে কিন্তু আক্রমণে সুইডেনই এগিয়ে। ডাচরা ১০টি শট নিয়ে যেখানে পোস্টে রাখতে পেরেছে ৭ শট, সুইডেন সেখানে ১৬টি শট নিয়ে পোস্টে রেখেছে ৮টি।
শেষ দিকে ডাচ গোলকিপার বার্ট ভারব্রুগেনের রীতিমতো পরীক্ষা নিয়েছে সুইডিশ আক্রমণভাগ। গোটা ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেন ভারব্রুগেন।
ম্যাচের শেষ দিকে আধিপত্য ছিল সুইডেনের।
স্কোরলাইন দেখে সুইডেনের পারফরম্যান্সকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, ম্যাচের শুরুতে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলেছিল তারা। তবে ৫ ও ১৭ মিনিটে দুই গোল করে এগিয়ে যায় ডাচরা।
দুদল সর্বশেষ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল ৫২ বছর আগে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও দেখা, আর সেই ম্যাচেই হিউস্টনে সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত গ্যালারি
মুখে রঙের উৎসব, মনে দলের আবেগ
রঙিন চুলে বিশ্বকাপ জ্বর
নেদারল্যান্ডসের কমলা উৎসব...
গ্যালারিজুড়ে রঙিন উন্মাদনা
অস্ট্রেলিয়ার পর প্যারাগুয়ের কাছেও হার। টানা দুই পরাজয়ে দুই যুগ পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের বিদায় নিশ্চিত হলো এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। এবারের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়া দ্বিতীয় দল তারা। ছবি- এপি
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তুরস্কের মের্ত মুলদুরের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলায় প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। নতুন নিয়মে এটিই প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। ছবি- এপি
তুরস্কের গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উগুরজান চাকির। তাঁর দুর্দান্ত সেভে আরও বড় ব্যবধানে হার এড়ায় দলটি। ছবি-এপি
আক্রমণের পর আক্রমণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তুরস্ক। অটুট ছিল প্যারাগুয়ের রক্ষণদুর্গ। ছবি- এপি
ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। সেই আনন্দে মেতে ওঠেন লাতিন আমেরিকার দেশটির খেলোয়াড়রা। ছবি: এপি।
খেলা শুরুর ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় হুলিও এনসিসোর বাড়ানো বল থেকে গোল করেন মাতিয়াস গালারজা। সেই এক গোলেই তুরস্ককে হারিয়ে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। ছবি: এপি
এ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় পা রাখেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনহো। প্রিয় দলের জয় উদযাপন করতে মাঠে নেমে ভক্তদেরও আনন্দে ভাসান তিনি। ছবি-এপি
ম্যাচ শেষে মাঠে নেমে নিজের শিষ্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন দলটির হেড কোচ। জয়ের পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে মুহূর্তটি ভাগ করে নেন তিনি। ছবি-এপি
ম্যাচজুড়ে ডাগআউটে বেশ সিরিয়াস ও মনোযোগী দেখা গেছে ব্রাজিলের মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তিকে। ছবি-এপি
এদিন গোলের পর দর্শকদের কাছে গিয়ে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ছবি-এপি
গোলের পর ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে ব্রাজিলের সতীর্থদের উচ্ছ্বাস। বেঞ্চ থেকে ছুটে এসে তাকে কোলে তুলে উদযাপন করেন তারা। ছবি-এপি
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত ফিনিশিং। হাইতির গোলরক্ষকের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ছবি- এপি
৩৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন ম্যাথিউস কুনহা। গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে ‘হ্যাং টেন’ (Hang Ten) উদযাপনে মেতে ওঠেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। ছবি- এপি
ভিনিসিয়ুসের শট ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি হাইতির। ফিরতি বলে ম্যাথিউস কুনহার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে প্রথম গোল পায় ব্রাজিল। ছবি- এপি
ম্যাচের ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। সেক্ষেত্রে স্কোরলাইন হতো ৪-০। ছবি- এপি
জয়ের পর আবেগঘন মুহূর্ত। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মরক্কোর গোলরক্ষককে জড়িয়ে ধরেন দলের অধিনায়ক। ছবি- এপি
জয়ের আনন্দে মাঠেই কোচিং স্টাফদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠে মরক্কো। এ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পাওয়ার পর উচ্ছ্বাসে ভাসে দলটি। ছবি- এপি
হারলেও ম্যাচ শেষে স্বস্তির ছাপ ছিল স্কটিশদের মুখে। লড়াইয়ের তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ছবি- এপি
বিরতির পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্কটল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো খেললেও মরক্কোর রক্ষণ ভেদ করে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। ছবি- এপি
গোলের পর মরক্কো তারকা ইসমাইল সাইবারির উদযাপনে যোগ দিতে ছুটে যাচ্ছেন দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ছবি- এপি
৭১ সেকেন্ডেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ইসমাইল সাইবারি। তার একমাত্র গোলেই স্কটল্যান্ডকে হারায় মরক্কো। ছবি- এপি
ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালে বসে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ম্যাচ উপভোগ করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ছবি- এপি
যুক্তরাষ্ট্রের দুই সমর্থকের গায়ে লেখা- ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা জিতব’। প্রিয় দলের প্রতি অগাধ আস্থা নিয়েই গ্যালারিতে হাজির তারা। ছবি- এপি
গ্যালারিতে সমর্থকদের জোরালো সমর্থন পেয়ে ম্যাচজুড়ে হোম ভেন্যুর স্বাদ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি-এপি
মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে দুর্দান্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দুই জয়ে নকআউট পর্বে দলটির সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিনরা। ‘ডি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষস্থান দখল করে আছে তারা।
ম্যাচে ফেরার জন্য অস্ট্রেলিয়া একাধিক আক্রমণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ছবি- এপি
হেডে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। ছবি- এপি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচ জিতল মরিসিও পচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র। ছবি- এপি
৯৬ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি- এপি
কাতারের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতে উঠেছিল কানাডা! একের পর এক আক্রমণে কাতারের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে গুনে গুনে ৬ গোল দিয়েছে কানাডা।
ম্যাচ শেষে সতীর্থের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন কলম্বিয়ার ছোট দলের বড় তারকা খ্যাত হামেস রদ্রিগেজ। ছবি- এপি
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে উজবেকিস্তান। ছবি- এপি
বিশ্বকাপের প্রথম গোল, প্রথম উচ্ছ্বাস- স্মরণীয় মুহূর্তে মেতে ওঠেন উজবেকিস্তানের খেলোয়াড়রা। ছবি-এপি
একই ফ্রেমে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার সমর্থকরা। ফুটবল যে মানুষকে এক করে, তারই এক সুন্দর উদাহরণ। ছবি-এপি
অভিষিক্ত উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কলম্বিয়া। ছবি-এপি
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে মাঠে নেমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে এশিয়ার নবাগত উজবেকিস্তান। ছবি-এপি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলীয় ছবিতে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা। ছবি-এপি
বিশ্বকাপের রঙিন আবহে স্টেডিয়ামের বাইরে উচ্ছ্বাসে ভাসেন ক্রোয়েশিয়ার দুই যুগল সমর্থক । ছবি- এপি
পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও উত্তেজনা। ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে দারুণ এক ম্যাচ। ছবি- এপি
ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ছবি-এপি
প্রথমার্ধে ২-২ সমতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল দিয়ে লুকা মদরিচদের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এই জয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের কিছুটা প্রতিশোধও নিল তারা। ছবি-এপি
রোনালদোদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ডি আর কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল।
১-১ গোলে ড্রয়ে পর্তুগালকে রুখে দিয়েছে ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গো। দলটির জন্য এই ড্র’টা তাই হার জয় সমতূল্য।
পানামার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ঘানা জাতীয় ফুটবল দল। ছবি-এপি
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ঘানা। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ক্যালেব ইয়েরেঙ্কির গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। ছবি: এপি
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স ছিল ৪১ বছর ১৩২ দিন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েন।
ম্যাচে বেশিরভাগ সময় দর্শক হয়েই ছিলেন সিআরসেভেন।
শুধু রোনালদোই না ম্যাচ ড্র করে হতাশ পুরো পর্তুগাল শিবির।
ম্যাচে মেজাজ হারাতেও দেখা যায় এই পর্তুগিজ সুপারস্টারকে।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করে হতাশ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে একা মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
সান ফ্রান্সিসকোর কাছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ গ্রুপ জে-এর অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান ফুটবল ম্যাচে জর্ডানের মোহাম্মদ আলদাউদ, অস্ট্রিয়ার মার্সেল সাবিৎজারের বিরুদ্ধে বল নিয়ন্ত্রণ করছেন।
ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দেন। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দিকে এগিয়ে গিয়ে সমর্থকদের অভিনন্দনের জবাব দেন মেসি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই মহাতারকার প্রতি ভালোবাসা যেন দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে। ছবি- এপি
হ্যাটট্রিকের পর সবার মধ্যমণি কিংবদন্তি মেসি। শেষ বাঁশি বাজার আগেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। হ্যাটট্রিকের নায়ককে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন সতীর্থরা। ছবি- এপি
সব চোখ, সব ক্যামেরা এক মানুষে। মাঠে, গ্যালারিতে কিংবা সাইডলাইনে সবার দৃষ্টি ছিল একজনকে ঘিরে। দর্শক থেকে আলোকচিত্রী, সকলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ছবি- এপি
প্রথম গোলের পরই মেসির দিকে ছুটে আসেন সতীর্থরা। যেন তারা সবাই ইতিহাসের জন্মমুহূর্তের সাক্ষী হতে চাইছিলেন। ছবি- এপি
ছবিতে মেসির মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিক