৬৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৬, ১৯ জুলাই ২০২৬
ম্যাচে হ্যাট্ট্রিক করেছেন সাকা। ছবি- এপি
বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে এতটা উত্তেজনায় ঠাসা হতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি কেউই। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ১০ গোলের এক মহাকাব্যিক থ্রিলারে। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড।
মায়ামির এই ম্যাচটি কেবল জয়ের জন্যই নয়, জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচটিতে মোট ১০টি গোল হওয়ায় এটি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত হলো। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ৭-৩ গোলের ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ১০ গোলের কোনো ম্যাচ দেখা গেল। অর্থাৎ, দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ফুটবল বিশ্ব দেখল গোলের এমন এক মহোৎসব।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১২ গোল হয়েছিল ১৯৫৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে অস্ট্রিয়া ৭-৫ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডকে। এরপর বিশ্বকাপে ১১ গোলের ম্যাচ হয়েছে তিনটি। ১৯৩৮ সালে ব্রাজিল অতিরিক্ত সময়ে ৬-৫ গোলে পোল্যান্ডকে হারায়। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি ৮-৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে এবং ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ১০-১ গোলে এল সালভাদরকে বিধ্বস্ত করে।
এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৯ গোলের ম্যাচও রয়েছে একাধিক। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৬-৩ গোলে মেক্সিকোকে হারায়। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি ৯-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে এবং পশ্চিম জার্মানি ৭-২ গোলে তুরস্ককে পরাজিত করে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স ৬-৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে এবং ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়া ৯-০ গোলে জায়ারকে (বর্তমান ডিআর কঙ্গো) হারিয়েছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড ছিল অপ্রতিরোধ্য। ডেক্লান রাইস, এজরি কনসা এবং বুকায়ো সাকার (দুটি) নৈপুণ্যে বিরতির আগেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং উসমান দেম্বেলের একটি করে গোল ব্যবধান কমিয়ে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক এবং যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহামের গোলে ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয় নিশ্চিত হয়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেক সময় কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হলেও, মায়ামির এই লড়াই ছিল তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের রুদ্ধশ্বাস নাটক; সব মিলিয়ে ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ১০ গোলের ম্যাচ উপহার দিয়ে এটি ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী জায়গা করে নিল।



