ফুটবলের অদ্ভুত থ্রো-ইন, ডিগবাজি খেয়ে বল ছুড়ে করালেন গোল
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:০৬, ১১ আগস্ট ২০২৬
ফুটবলের অদ্ভুত থ্রো-ইন, ডিগবাজি খেয়ে বল ছুড়ে করালেন গোল
ফুটবলে থ্রো-ইন সাধারণত আক্রমণ শুরুর একটি উপায়। কিন্তু ইরানের ডিফেন্ডার নাদের মোহাম্মাদির কাছে এটি যেন গোলের সুযোগ তৈরির বিশেষ অস্ত্র। রাশিয়ার ফুটবলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই অস্ত্রের কার্যকারিতা দেখালেন তিনি। টাচলাইনের পাশে বল হাতে নিয়ে সামনে ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন করলেন, আর তার ছোড়া বল হেডে জালে পাঠিয়ে দিলেন সতীর্থ সের্গেই বুগরিয়ভ। হিন্দুস্তান টাইমস
গত রোববার রাশিয়ান ফার্স্ট লিগে এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মাদির এই ব্যতিক্রমী থ্রো-ইন থেকে গোল পায় স্পার্তাক কোস্ত্রোমা। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জেতে তারা। ৮৩ মিনিটে টাচলাইনের কাছ থেকে মোহাম্মাদি বলটি পেনাল্টি এলাকার দিকে পাঠান। তার ছোড়া বলটি সাধারণ থ্রো-ইনের মতো মাটির কাছ দিয়ে না গিয়ে অনেকটা ক্রসের গতিতে উড়ে যায়। পেনাল্টি বক্সে অপেক্ষায় থাকা বুগরিয়ভ মাথা ছুঁইয়ে বলটি জালে পাঠান।
গোলটির আগে মোহাম্মাদিকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন ফুটবল মাঠে হঠাৎ কোনো জিমন্যাস্টিকসের কসরত শুরু করেছেন। বলটি হাতে নিয়ে তিনি সামনের দিকে ডিগবাজি দেন। এরপর টাচলাইনের কাছেই পা রেখে ভারসাম্য ফিরে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত দিয়ে বল ছুড়ে দেন বক্সের দিকে। ডিগবাজির মাধ্যমে তৈরি হওয়া বাড়তি গতি তার থ্রো-ইনকে পৌঁছে দেয় প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এলাকার গভীরে। সেখানেই বুগরিয়ভের হেড থেকে আসে গোল।
রাশিয়ান ফুটবলে মোহাম্মাদির যাত্রা অবশ্য খুব বেশি দিনের নয়। ২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জুলাইয়ের শেষ দিকে স্পার্তাক কোস্ত্রোমায় যোগ দেন। এর আগে তার পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার কেটেছে ইরানে। এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে তার মাত্র দ্বিতীয় লিগ ম্যাচ। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ১ আগস্ট ইয়েনিসেইয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেও নিজের বিশেষ থ্রো-ইন কৌশল দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলেও এবার সরাসরি গোল করিয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন মোহাম্মাদি।
ফুটবলে লং থ্রো নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেক ডিফেন্ডারই দূর থেকে বল ছুড়ে প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ তৈরি করেন। কিন্তু মোহাম্মাদির কৌশল আলাদা। বল ছোড়ার আগে তিনি সামনে ডিগবাজি দেন। এতে শরীরের গতি ব্যবহার করে বলকে আরও দূরে এবং দ্রুত পাঠাতে পারেন তিনি। তার এই কৌশল এসেছে ফুটবলের বাইরের আরেকটি খেলা থেকে।
পেশাদার ফুটবলে আসার আগে প্রায় এক দশক জিমন্যাস্টিকস অনুশীলন করেছেন মোহাম্মাদি। সেই সময়ের শারীরিক সক্ষমতা ও ভারসাম্যই পরে তাকে এই অদ্ভুত থ্রো-ইন কৌশল আয়ত্ত করতে সাহায্য করেছে। সময়ের সঙ্গে এটি তার খেলার অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। মোহাম্মাদি নিজেই জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারে এই কৌশল ব্যবহার করে তিনি ১০টির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন।
ইরানের ফুটবলে এরই মধ্যে তার এই থ্রো-ইন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ২০২০ সালে পেইকানের হয়ে খেলার সময় এমনই একটি থ্রো-ইন থেকে ঘটে যায় আরও অবিশ্বাস্য ঘটনা। তার ছোড়া বল সরাসরি গোলের দিকে চলে যায় এবং গোলরক্ষক আলিরেজা হাঘিগির গায়ে লেগে শেষ পর্যন্ত জালে ঢুকে পড়ে। গোলটি কীভাবে হলো, সেটি নিয়ে তখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
আরেকবার পার্সেপোলিসের বিপক্ষে নিজের অর্ধ থেকেই বল ছুড়েছিলেন মোহাম্মাদি। তার থ্রো-ইন এতটাই দূরত্ব অতিক্রম করেছিল যে সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমন সব ঘটনা তাকে ইরানের ফুটবলে ‘ফ্লিপ থ্রো’য়ের জন্য আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
মোহাম্মাদির এই বিশেষ অস্ত্রকে ঘিরে একসময় বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে পেইকানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফুলাদ ক্লাবের বিরুদ্ধে মাঠের আকার পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, মোহাম্মাদির দীর্ঘ থ্রো-ইনের কার্যকারিতা কমিয়ে আনতেই মাঠের দৈর্ঘ্য-প্রস্থে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি ম্যাচ শুরুর আগেই ম্যাচ কমিশনারের নজরে আসে এবং তিনি এতে হস্তক্ষেপ করেন।
রাশিয়ায় আসার পরও মোহাম্মাদির এই কৌশল যে ক্লাবের পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে, সেটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার খেলোয়াড়দের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে এমনভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায়, যাতে মোহাম্মাদির থ্রো-ইন থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করা যায়। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি সফলও হয়েছে।
ম্যাচ শেষে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার কোচ রোমান বেরেজভস্কিও মোহাম্মাদির থ্রো-ইনকে শুধু দর্শকদের বিনোদনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং দলটির আক্রমণাত্মক কৌশলে এটি কার্যকর একটি অস্ত্র হতে পারে এমনটাই বোঝা গেছে তার বক্তব্যে।
মোহাম্মাদির জন্য রাশিয়ায় এটি অবশ্য কেবল শুরু। ইরানের বাইরে পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে মাত্র দুই ম্যাচেই তিনি নিজের বিশেষত্ব দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি স্পার্তাক কোস্ত্রোমা যখন থ্রো-ইন পাবে, তখন সেটি আর সাধারণ থ্রো-ইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বল হাতে নাদের মোহাম্মাদি যদি টাচলাইনের পাশে দাঁড়ান, পরের মুহূর্তেই ডিগবাজি খেয়ে ছোড়া সেই বল হয়ে উঠতে পারে সরাসরি গোলের সুযোগ।



