১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৯ বার ঠিকানা বদল, এবার কি থামছেন ফুটবলের ‘যাযাবর’?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৫০, ৮ আগস্ট ২০২৬
২০০৮ সালে রদারহ্যাম ইউনাইটেড ছাড়ার পর থেকে জেফ থমাস খেলেছেন ২৯টি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে। ছবি- বিবিসি
একটি ক্লাবে থিতু হওয়া যেন কখনোই তার স্বভাবে ছিল না। ইংল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেলজিয়াম; ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ২৯টি ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলেছেন, দল বদলেছেন অবিশ্বাস্য ৩৯ বার। এমন ঘটনা ফুটবল ইতিহাসেই বিরল। তাই ইংলিশ উইঙ্গার জেফানিয়া জোসেফ থমাসের গল্প শুধু একজন ফুটবলারের নয়, বরং এক ‘যাযাবরের’ গল্প।
৩৬ বছর বয়সী থমাস সম্প্রতি বিবিসিকে জানিয়েছেন, বারবার ক্লাব বদলের পেছনে বড় কারণ ছিল অর্থ। তিনি বলেন, ‘আমার যতটা প্রাপ্য বলে মনে হতো, সেই পারিশ্রমিক না পেলে আমি অন্য কোথাও চলে যেতাম।’
এখন অবশ্য সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন পরিচয়ে নিজেকে গড়ে তুলছেন তিনি। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের নবম স্তরের ক্লাব ডিয়ার্ন অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের খেলোয়াড়-কোচ হওয়ার পর বদলে গেছে ক্লাবটির ভাগ্যও। তার নেতৃত্বেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের দলটি।
শনিবার প্রাক-প্রাথমিক পর্বে রানকর্ন টাউনের বিপক্ষে খেলবে ডিয়ার্ন অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট। এই অর্জন নিয়ে থমাসের উচ্ছ্বাস, ‘মাত্র কয়েক বছর আগে আমরা স্থানীয় লিগে খেলতাম। এখন এফএ কাপে। এই এলাকার মানুষের জন্য এটা বিশাল গর্বের মুহূর্ত।’
থমাসের ক্লাব-তালিকা যেন শেষই হতে চায় না। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন নন-লিগ ক্লাবের পাশাপাশি খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গার্ডেন সিটি ব্রঙ্কবাস্টার্স, কানাডার থান্ডার বে চিল, বেলজিয়ামের মন্তেনি এবং স্কটল্যান্ডের কাউডেনবিথেও। একই ক্লাবে একাধিকবার ফেরার ঘটনাও কম নয়; রসিংটন মেইনে পাঁচবার, মিকলওভার স্পোর্টসে চারবার, ফ্রিকলি অ্যাথলেটিকে তিনবার এবং ব্রিগহাউজ টাউনে দুই দফা খেলেছেন।
রদারহ্যাম ইউনাইটেডের একাডেমিতেই শুরু হয়েছিল তার পথচলা। তখন যুব দলের কোচ ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড মার্ক রবিন্স। কিন্তু সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার আগেই ২০০৮ সালে ক্লাব ছাড়তে হয় তাকে।
এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য নিজের আচরণকেই দায়ী করেন থমাস। তার স্বীকারোক্তি, ‘তখন আমি অপরিণত ছিলাম। মনোভাব আরও ভালো হলে হয়তো ক্যারিয়ারটা অন্য রকম হতে পারত।’
২০১৩ সালে উরুর চোটে প্রায় ফুটবলই ছেড়ে দিচ্ছিলেন তিনি। রদারহ্যামের একটি কল সেন্টারে চাকরি শুরু করেছিলেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার কথাও ভেবেছিলেন। ঠিক সেই সময় কানাডার ক্লাব থান্ডার বে চিল নতুন সুযোগ এনে দেয় তার জীবনে।
এত ক্লাবে খেলার হিসাব তিনি নিজেও রাখেননি। তবে বিভিন্ন দেশে খেলার অভিজ্ঞতাকে নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন। থমাস বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের ফুটবল, ভিন্ন দর্শনের কোচদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। সুযোগ পেলে তরুণদেরও আমি এমন অভিজ্ঞতা নিতে বলব।’
ইংল্যান্ডে জন্ম হলেও পারিবারিক সূত্রে ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ম্যারি ও দুই সন্তানকে নিয়ে ডিয়ার্ন অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মাঠের কাছেই বসবাস করেন থমাস। ক্লাবটিতে খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেও এখন তার প্রধান পরিচয় কোচ। পাশাপাশি ডার্বি কাউন্টির অনূর্ধ্ব-১২ দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করছেন।
অতীতের দিকে তাকিয়ে আজ নিজের দর্শন বদলে গেছে বলে মনে করেন থমাস। হাসতে হাসতেই বলেন, ‘মাঝেমধ্যে নিজেকেই কপট মনে হয়। কারণ আমি একসময় বেশি টাকার জন্য ক্লাব বদলাতাম। আর এখন নিজের খেলোয়াড়দের বলি, কাজ করে যাও, টাকাটা একদিন ঠিকই আসবে।’



