গোলের উদযাপন করতে গিয়ে গর্তে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, পরে বাতিল গোল

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০৯, ১১ আগস্ট ২০২৬

গোলের উদযাপন করতে গিয়ে গর্তে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, পরে বাতিল গোল

গোলের উদযাপন করতে গিয়ে গর্তে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

ফুটবলে গোল মানেই উদ্‌যাপন। আর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য সেই আনন্দ যেন আরও একটু বেশি। কারণ সেন্টারব্যাকদের পা থেকে গোল খুব একটা আসে না। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার পর গোলের দেখা পেলে অনেক সময় উদ্‌যাপনের লাগাম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের একটি ম্যাচে এমনই এক উদ্‌যাপন করতে গিয়ে অদ্ভুত বিপদে পড়েছেন করিতিবার সেন্টারব্যাক জেসি মারানহাও।

পরশু রাতে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচে করিতিবার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন মারানহাও। ম্যাচের ৪১ মিনিটে নেয়ার মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ায়। দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি। কিন্তু গোলের আনন্দে পরের মুহূর্তে যা ঘটল, সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে।

গোল উদ্‌যাপন করতে মারানহাও ছুটে যান মাঠের সীমানায় থাকা বিজ্ঞাপন বোর্ডের দিকে। এরপর বোর্ড টপকে দর্শকদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বোর্ডের ঠিক ওপাশেই যে বিপজ্জনক একটি সুড়ঙ্গপথ রয়েছে, সেটি হয়তো নেয়ার খেয়াল ছিল না। বিপক্ষ দলের ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়া ওই সুড়ঙ্গের গর্তে হঠাৎ করেই পড়ে যান তিনি।

দর্শকেরা তখন গোলের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন, আর মারানহাওকে গর্ত থেকে তুলে আনার চেষ্টা চলছে। শেষ পর্যন্ত নেয়াকে টেনেটুনে সেখান থেকে বের করা হয়। তবে পড়ে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান এই ডিফেন্ডার। বিরতির পর আর মাঠে ফিরতে পারেননি তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নেয়াকে তুলে নিতে হয়।

তবে মারানহাওয়ের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশা অপেক্ষা করছিল আরও পরে। যে গোলটি উদ্‌যাপন করতে গিয়ে তিনি চোট পেলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত বৈধ থাকেনি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করে দেয়া হয়। অর্থাৎ গোলের আনন্দের জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই গোলের কোনো অস্তিত্বই থাকল না স্কোরবোর্ডে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে হতাশার রাত হলেও দলের ফল নেয়াকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত শাপেকোয়েন্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে করিতিবা।

ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়েও খুব একটা উদ্বেগ দেখাননি মারানহাও। হাসতে হাসতেই জানিয়েছেন, পায়ে সামান্য টান লেগেছে, তবে তিনি ঠিক আছেন। গোলের পর এমন উদ্‌যাপনের কারণও লুকাননি এই সেন্টারব্যাক। নেয়ার ভাষায়, সেন্টারব্যাকদের গোল পাওয়ার সুযোগ খুবই কম। তাই অনেক দিন পর গোল পেলে মাথা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায়।

 

কোতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে মারানহাওয়ের এই বিপত্তি অবশ্য প্রথমবারের ঘটনা নয়। একই জায়গায় অতীতেও একজন ফুটবলার গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন। ২০১৪ সালে সাও পাওলোর বিপক্ষে করিতিবার ৩-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড জোয়েলও একই সুড়ঙ্গপথে পড়ে গিয়েছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন