ছবিতে ১০ গোলের উৎসব, ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৩৬, ১৯ জুলাই ২০২৬

ছবিতে ১০ গোলের উৎসব, ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

হাফ ডজন গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড। ছবি- এপি

সেমিফাইনালের হতাশা পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার কাছে হারের ক্ষত আর স্পেনের কাছে ফ্রান্সের হতাশাজনক বিদায়ের পর দুই দলই নেমেছিল সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে। কিন্তু সেই ম্যাচই হয়ে উঠল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। গোলের বন্যায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গড়ল সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। ছবিতে দেখে নেওয়া যাক রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচের সেরা মুহূর্তগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি গার্ডেন্সে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হলো গোলের উৎসব। 

চাপহীন ম্যাচের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬-৪ গোলে জিতল ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এটি। পেছনে পড়ে গেল ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলে জেতা ম্যাচ।

আর ১৯৬৬ সালে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য এটি। আগে দুইবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরেছিল তারা- ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে ও ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের অন্য তিন গোলদাতা হলেন ডেক্লান রাইস, এজরি কন্সা ও জুড বেলিংহ্যাম। 

ফ্রান্সের হয়ে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

তাদের বাকি দুই গোলদাতা বাহডলে বাহকোলা ও উসমান দেম্বেলে।

ম্যাচে ইংল্যান্ড বল দখলে একটু এগিয়ে থাকলেও, গোলের জন্য দুই দলই সমান ১৯টি করে শট নেয়।

 ইংলিশরা ১১টি আর ফরাসিরা ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় আক্রমণেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। 

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের কীর্তি গড়লেন রাইস, দুই মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। 

দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। ১৮তম মিনিটে রাইসের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেন্টার-ব্যাক কন্সা।

৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের আরেকটি আক্রমণ রুখে, গতিময় প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইংল্যান্ড। 

বিরতির আগেই আরেক গোল হজম করে ফ্রান্স। এবেরেচি এজের রক্ষণচোরা পাস ধরে, ডি-বক্সের মুখ থেকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সাকা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও চার গোলে পিছিয়ে পড়েনি ফ্রান্স।

বিরতির পর, ৯ মিনিটে দুটি গোল শোধ করে লড়াই জমিয়ে তোলে ফ্রান্স।

প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ হারানোর পর, দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই জালের দেখা পান এমবাপ্পে।

ছয় মিনিট পর গোল উৎসবে যোগ দেন বাহকোলা। 

আর ৬৬তম মিনিটে  রেকর্ড গোলটি করেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন করে লিখলেন এমবাপ্পে; তার গোল এখন ২২টি, মেসির ২১টি।

চলতি আসরে ১০ গোল করে চূড়ায় উঠলেন এমবাপ্পে। আট গোল করে দুইয়ে মেসি।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন ওলিসে, সাতটি। ভেঙে দিলেন ১৯৭০ আসরে কিংবদন্তি পেলের গড়া ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

৮৭তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড এবং সফল স্পট কিকে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটিট্রিকের স্বাদ পান সাকা।

 দেম্বেলে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে জালে বল পাঠালে আবার ব্যবধান নেমে আসে এক গোলে। 

এরপর দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেক টুকে দেন এজের বদলি নামা বেলিংহ্যাম। আসরে এই মিডফিল্ডারের গোল হলো সাতটি।

এরপরই বাজে শেষের বাঁশি। অন্যান্য ম্যাচের মতো অবশ্য এখানে পরাজিত দলের মুখ হতাশায় ঢাকেনি।

তবে, বিশ্বকাপ জয়ী কোচ দিদিয়ে দেশমের বিদায়টা জয়ে রাঙাতে না পারার খারাপ লাগা কিছুটা হলেও থাকল এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন