বিশ্বকাপের ট্রফির সঙ্গে স্পেনের ঝুলিতে ৬১৬ কোটি টাকা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:১৬, ২০ জুলাই ২০২৬
স্পেনের উল্লাস। ছবি: এপি
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিশ্বজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ শুধু সোনালি ট্রফি আর ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাইজমানি নিয়ে ঘরে ফিরছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পুরস্কার হিসেবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় কোটি টাকা পেতে যাচ্ছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে এই বিশ্বমঞ্চে। ফলে ম্যাচের সংখ্যাও একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪টিতে। দল ও ম্যাচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ফিফা পুরস্কারের অঙ্কও বাড়িয়েছে রেকর্ড পরিমাণে।
ফিফা এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেন পাচ্ছে সরাসরি ৫০ মিলিয়ন ডলার। শুধু পারফরম্যান্স নয়, বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রতিটি দল পায় ১২.৫ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা (যোগ্যতা অর্জন বাবদ ১০ মিলিয়ন এবং প্রস্তুতি খরচ ২.৫ মিলিয়ন)। ফলে সব মিলিয়ে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে জমা হচ্ছে বিশাল অংকের অর্থ।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার। এবার সেই অংক এক লাফে ৮ মিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণ এবং মোট ১০৪টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে দর্শক ও বাণিজ্যিক সাফল্য ছিল আকাশচুম্বী। আর সেই সাফল্যের অংশ হিসেবে ফিফা পুরস্কারের অংক বাড়িয়েছে রেকর্ড পরিমাণে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত রানার্সআপ আর্জেন্টিনা পাচ্ছে ৩ কোটি ৩ লাখ (৩৩ মিলিয়ন) ডলার। তৃতীয় স্থান অধিকারী ইংল্যান্ড ২৯ মিলিয়ন ডলার (৩৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা) এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল ফ্রান্স পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার (৩৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা)।
কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া দলগুলো ১২.৫ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি পাবে আরও ১৯ মিলিয়ন ডলার (২৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া ৪টি দল (মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড) পাচ্ছে ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়া শেষ ষোলোয় বাদ পড়া দলগুলো পাচ্ছে ১৫ মিলিয়ন ডলার (১৮৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা) করে। এ পর্বে বাদ পড়া দলগুলো হলো-ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কলম্বিয়া, কানাডা ও প্যারাগুয়ে। এসব দল পাবে মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার করে।
রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য প্রাইজমানি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ মিলিয়ন ডলার (১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, জাপান, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আলজেরিয়া, আইভরিকোস্ট, ইকুয়েডর, ডিআর কঙ্গো, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, অস্ট্রিয়া, কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া ও ঘানা কোয়ালিফাই ও প্রস্তুতি খরচের ১২.৫ মিলিয়ন ছাড়াও প্রাইজমানি হিসেবে পাচ্ছে আরও ১১ মিলিয়ন ডলার অর্থ্যাৎ ১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা করে।
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও কোনো দল খালি হাতে ফিরবে না। এ পর্যায়ে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে আরও ৯ মিলিয়ন ডলার (১১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা)। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দল ১৬টি দল হলো দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, স্কটল্যান্ড, হাইতি, তুরস্ক, কুরাসাও, তিউনিসিয়া, ইরান, নিউজিল্যান্ড, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান ও পানামা।
ফুটবল মাঠে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে স্পেনের জয় যেমন দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি এই বিপুল অংকের প্রাইজমানি স্প্যানিশ ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের বিস্তারে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



