বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে কোটিপতি সিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:৫৬, ২২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে কোটিপতি সিটি

বিশ্বকাপে নিজ দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। ছবি- সংগৃহীত

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ২৩তম আসর থেকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাব থেকে খেলোয়াড় পাঠানোর বিনিময়ে ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রামের (সিবিপি) অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটির ঘরে। তালিকায় সিটির পরেই রয়েছে বার্সেলোনা।

বিশ্বকাপ কেবলই  দেশের গৌরব, ট্রফি আর মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশাল অঙ্কের অর্থও। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবলারদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ক্লাবগুলোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে ফিফা। সেই অর্থের সবচেয়ে বড় ভাগীদার হতে যাচ্ছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি।

ফুটবলবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের হিসাব বলছে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলোয়াড় ছাড়ার জন্য বরাদ্দ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অংশ থেকে প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন ডলার পাবে এনজো মারেস্কার দল। বাংলা টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৪ কোটি ৫৪ লাখ। 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক রিলিজ ডে থেকে শুরু করে তার জাতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পরদিন পর্যন্ত যতদিন টুর্নামেন্টে থাকবেন, সেই প্রতিটি দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে খেলোয়াড়প্রতি প্রায় ৫ হাজার ডলার করে দেয়া হয়।

এবার সিটির ছয়জন ফুটবলার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। রায়ান শেরকি, মার্ক গেহি, নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস ও জেমস ট্রাফোর্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছিলেন। আর রদ্রি স্পেনের হয়ে খেলেছেন ফাইনাল পর্যন্ত। খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপে থাকার কারণেই আর্থিক তালিকায় সবার ওপরে উঠে এসেছে সিটি।

অর্থ পাওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। এরপর রয়েছে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস। ১২ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশ নেয়ায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ২.৭ মিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে তারা। সদ্য প্রিমিয়ার লিগে ফেরা সান্ডারল্যান্ডও প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার পেতে পারে, যা ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার এই তহবিল আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে মূল পর্বের খেলোয়াড়দের জন্য রাখা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। বাছাইপর্বে খেলোয়াড় ছাড়ার জন্য বরাদ্দ আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার। বাকি ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে ক্লাব ফুটবলের উন্নয়নে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়ের প্রায় ১৩ শতাংশই এসেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে। তাই অর্থ পাওয়ার তালিকাতেও এগিয়ে ব্রিটিশ ক্লাবগুলো। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো সম্মিলিতভাবে পেতে পারে প্রায় ৩৪.২ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলোর সম্ভাব্য আয় প্রায় ১৮.৮ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্বকাপের অর্থ শুধু ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় এবার আগের চেয়ে বেশি ক্লাব এই সুবিধার আওতায় আসছে। প্রায় ৪৫১টি ক্লাব এই তহবিল থেকে অর্থ পাবে, যার মধ্যে ১৭৫টি ক্লাব ইউরোপের বাইরের।

ছোট ক্লাবগুলোর জন্যও এই অর্থ বড় সহায়তা হয়ে উঠছে। ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ স্তরের ক্লাব ব্রেইনট্রি টাউন শুধু নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টমি স্মিথের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের কারণে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ডলার পেতে যাচ্ছে। আর্থিক সংকটে থাকা ক্লাবটির জন্য এই অর্থ হতে পারে বড় স্বস্তি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন