সমালোচকদের জবাব দিয়ে আবেগঘন পোস্ট আর্জেন্টাইন ম্যাক অ্যালিস্টারের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৪, ২৩ জুলাই ২০২৬
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার । ছবি: এপি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে রানার্সআপ হওয়ার বেদনা এখনও তাড়া করছে আর্জেন্টাইন শিবিরকে। ম্যাচ শেষে দলের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া জানানোর তালিকায় এবার যুক্ত হলেন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তায় সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হারে যারা আনন্দ বা ট্রল করেছেন, তাদেরও কড়া জবাব দিয়েছেন এই লিভারপুল তারকা।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ম্যাক অ্যালিস্টার লিখেছেন, ‘আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম... আর তাই কষ্টটাও এত বেশি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আমরা যা কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, তা আমাদের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনারা আমাদের যা অনুভব করিয়েছেন, তা ছিল অসাধারণ। আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে আমরা সবাই একত্রে তা অতিক্রম করেছি। দয়া করে এই জিনিসটি কখনো ভুলবেন না: একসঙ্গে আমরা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি শক্তিশালী।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের একটি ছবি যুক্ত করে এই পোস্টটি করেন। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার আটটি ম্যাচের ৭টিতেই মূল একাদশে খেলা এই মিডফিল্ডার এমন দুটি মুহূর্তের কথা উল্লেখ করেন, যা তার হৃদয়ে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের সেই দিনটির কথা আমি কখনো ভুলব না, যখন আমরা বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেছিলাম। ঠিক তেমনি এই টুর্নামেন্টও আমাদের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা সমর্থক ও জাতীয় দলের মধ্যকার অবিশ্বাস্য বন্ধনকে প্রকাশ করে।’
রানার্সআপ পদক গ্রহণের সময় স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গান গাওয়া এবং বুয়েনস আইরেসে বৃষ্টি ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা আজীবন মনে রাখার মতো বলে উল্লেখ করেন তিনি। সমর্থকদের ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই ভালোবাসাই তাদের দলের শক্তি। চিঠির শেষাংশে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, ভিনদেশি যারা আর্জেন্টিনার পরাজয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন কিংবা ট্রল করেছেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ। কারণ এই আচরণগুলোই প্রতিদিন তাদের একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আরও বেশি গর্বিত করে তোলে।’
ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, ‘আমাদের পরিবার, বন্ধু, জাতীয় দলের নেপথ্যে কাজ করা প্রতিটি কর্মী এবং ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠানো প্রতিটি আর্জেন্টাইনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমাদের কাছে আপনারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হয়তো আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না। আর হ্যাঁ, আমি অন্য দেশের সেই সব মানুষদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের নিয়ে ট্রোল করেছেন কিংবা আমাদের কষ্ট উপভোগ করেছেন। আপনারা হয়তো বুঝতেও পারছেন না, কিন্তু আপনাদের এই আচরণ প্রতিদিন আমাদের একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আরও বেশি গর্বিত করে তোলে।’
২৭ বছর বয়সি এই ফুটবলার তার মা মারিয়া সিলভিনা রিয়েলার একটি স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সমর্থকদের আশার আলোও দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আসুন আমরা কাঁদি, কারণ আমরা আর্জেন্টাইন এবং আমরা সবসময় জিততে চাই। কিন্তু কাঁদার পর চলুন আবার উঠে দাঁড়াই, ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং সামনে এগিয়ে যাই; কারণ এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়। আমার মা আমাকে একটি পুরনো প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন: যে খেলা আপনাকে পুনরায় সুযোগ (রিভেঞ্জ) দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাকে কখনো ভয় পেয়ো না।’



