গার্দিওলার উত্তরসূরি হতে পেরে গর্বিত মারেস্কা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:২৫, ২৫ জুলাই ২০২৬

গার্দিওলার উত্তরসূরি হতে পেরে গর্বিত মারেস্কা

গার্দিওলার উত্তরসূরি হতে পেরে গর্বিত মারেস্কা। ছবি- সংগৃহীত

পেপ গার্দিওলার এক দশকের সোনালি অধ্যায়ের পর ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে শুরু হচ্ছে নতুন যুগ। সেই যুগের নেতৃত্বে এনজো মারেস্কা। ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল কোচের উত্তরসূরি হওয়ার চাপকে ভয় নয়, বরং ‘বিরাট এক সম্মান’ হিসেবেই দেখছেন ইতালিয়ান এই কোচ। একই সঙ্গে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। মারেস্কার বিশ্বাস, রদ্রি আবারও সিটির হয়ে মাঠে ফিরবেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন ৪৬ বছর বয়সী মারেস্কা। সেখানে গার্দিওলাকে গত দুই দশকের সেরা কোচ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি বহুবার বলেছি, গত ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পেপ সম্ভবত বিশ্বের সেরা কোচ। তার উত্তরসূরি হওয়া নিঃসন্দেহে বড় একটি চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে এটি আমার জন্য বিরাট এক সম্মান।”

গত মৌসুম শেষে সিটির সঙ্গে ১০ বছরের গৌরবময় অধ্যায়ের ইতি টানেন গার্দিওলা। তার অধীনে ক্লাবটি জিতেছে ২০টি বড় শিরোপা, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও অন্যান্য ঘরোয়া ট্রফি। এমন একজন কোচের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেয়া যে সহজ নয়, সেটি স্বীকার করেছেন মারেস্কাও।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সফল কোনো কোচের বিদায়ের পর বড় বড় ক্লাবকেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং আর্সেনালে আর্সেন ওয়েঙ্গারের বিদায়-পরবর্তী সময়ের কথা তুলে ধরেন।

“স্যার অ্যালেক্স কিংবা আর্সেনের পর ক্লাবগুলো কিছুটা সংগ্রাম করেছে। তাই আমাদের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুরু থেকেই ক্লাব, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,” বলে মনে করছেন মারেস্কা।

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে মারেস্কার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। এটি তার তৃতীয় অধ্যায়। এর আগে তিনি ক্লাবের এলিট ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের কোচ ছিলেন। পরে ২০২২–২৩ মৌসুমে ট্রেবলজয়ী দলে গার্দিওলার সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। 

এদিকে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘিরে সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের খবর ইউরোপীয় গণমাধ্যমে বেশ আলোচনায় রয়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদও শেষ হবে চলতি মৌসুমে। তবে এসব গুঞ্জনে মোটেও বিচলিত নন মারেস্কা।

তিনি বলেন, “বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের ঘিরে গুঞ্জন থাকবেই। আমি এটি নিয়ে চিন্তিত নই, কারণ এটাই স্বাভাবিক। রদ্রি বিশ্বকাপ জিতেছে, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিল। তাই বিশ্বের প্রতিটি কোচই তাকে নিজের দলে চাইবে।”

এর আগে চেলসি অধ্যায় নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মারেস্কা। নতুন বছরের শুরুতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ছেড়ে সিটিতে যোগ দেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সে বিতর্কে যেতে চাননি তিনি।

বরং সাবেক দুই ক্লাব লেস্টার সিটি ও চেলসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মারেস্কা বলেন, “আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। লেস্টার ও চেলসি দুই ক্লাবেই আমরা ভালো কাজ করেছি, দলের একটি পরিচয় গড়ে তুলতে পেরেছি। তবে এখন আমার পুরো মনোযোগ ম্যানচেস্টার সিটিকে ঘিরেই।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন