ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে ইতিবাচক রিয়াল মাদ্রিদ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:১৩, ২৬ জুলাই ২০২৬
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদে একের পর এক বড় ঘটনা ঘটছে। রাতারাতি খবর এসেছে, ক্লাবটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম তারকা ডিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর এই ট্রান্সফারকে ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে জল্পনা। কারণ, ডিওমান্দে ও ভিনিসিয়ুস; দুজনেরই এজেন্ট ফ্রেদেরিকো পেনা। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ব্রাজিলিয়ান তারকার বিদায়ের পথ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি। তাই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাছে এটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাইলে তিনি এখনই ট্রান্সফার হতে পারেন, অথবা ২০২৭ সালে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অন্য ক্লাবে যোগ দিতে পারবেন।
সর্বশেষ মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল ভিনিসিয়ুসকে দলে নেয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। এর আগে লিভারপুলও ২০২৭ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে তাকে দলে ভেড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে সব আগ্রহের মাঝেও ভিনিসিয়ুসের ইচ্ছা একটাই; রিয়াল মাদ্রিদে থাকা।
ছুটি শেষে আগামী সপ্তাহে মাদ্রিদে ফিরেই ক্লাবের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসবেন ভিনিসিয়ুস। নতুন কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে গড়ে ওঠা প্রকল্পে নিজের ভূমিকা কী হবে, সেটি জানতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলে নিজের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনও নিশ্চিত করতে চান।
মরিনহোও মনে করেন, ভিনিসিয়ুসের মতো খেলোয়াড়কে কোনোভাবেই হারানো উচিত নয়। ইতোমধ্যেই তিনি ডিওমান্দে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে সম্ভাব্য দুর্দান্ত আক্রমণভাগ গড়ার পরিকল্পনা করছেন, যার পেছনে থাকবেন জুড বেলিংহ্যাম।
ক্লাব বিশ্বকাপের পর দুই পক্ষের আলোচনা অনেক দূর এগোলেও শেষ মুহূর্তে তা থেমে যায়। শুরুতে ভিনিসিয়ুসের আর্থিক দাবি ছিল অনেক বেশি, পরে তিনি তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনেন। অন্যদিকে রিয়ালও নিজেদের প্রস্তাব বাড়ায়। ফলে দুই পক্ষের ব্যবধান খুবই কমে আসে এবং চুক্তি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে কেউই আর ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এখনও সেই অবস্থাই বহাল রয়েছে।
কত বেতন চাইছেন ভিনিসিয়ুস?
বর্তমানে ভিনিসিয়ুস বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো (নেট) বেতন দাবি করছেন। ২০২২ সালে করা তার আগের চুক্তিতে পাঁচ বছরে মোট ৭৫ মিলিয়ন ইউরো (নেট) পাওয়ার কথা ছিল, যেখানে গড়ে বছরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো করে আয় হতো।
সেই চুক্তি অনুযায়ী শুরুতে তিনি বছরে প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো পেতেন এবং ধাপে ধাপে তা বেড়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এছাড়া দ্য বেস্ট ফিফা মেন্স প্লেয়ার পুরস্কার জেতার জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ইউরো বোনাসও পেয়েছেন।
গত কয়েক মাসের বিভিন্ন ঘটনায় ভিনিসিয়ুস মনে করছেন, ক্লাবে তার গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে হুলিয়ান আলভারেজ ও মাইকেল অলিসেকে নিয়ে আগ্রহ, এরপর বেলিংহ্যাম ও পরে এমবাপ্পের আগমন তাকে এমন অনুভূতি দিয়েছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার গুরুত্ব কখনোই কমেনি। রিয়ালের সর্বশেষ দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নায়ক এবং এখনও দলের অপরিহার্য সদস্য।



