আর্জেন্টিনা ম্যাচের এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে ভুল স্বীকার আইএফএবির

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৪৮, ২৮ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা ম্যাচের এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে ভুল স্বীকার আইএফএবির

এম্বোলোকে দেয়া হয় লাল কার্ড। ছবি: এপি

বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত ছিল সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সিমুলেশন (ডাইভিং) করার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে তিনি লাল কার্ড দেখেন। তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় ভিএআর ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রতিবেদন স্প্যানিশ গণমাধ্যম এএস-এর। 

বিশ্বকাপে ফিফা নতুন ভিএআর প্রটোকল চালু করে, যেখানে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হলে ভিডিও রিভিউয়ের মাধ্যমে সেটি সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়। এম্বোলোর ঘটনায় রেফারি প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর জানায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি এবং ভুলে কারণে তাকে কার্ড দেখানো হয়েছে।

এরপর রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন এবং এম্বোলোকে সিমুলেশনের দায়ে হলুদ কার্ড দেন। যেহেতু এটি ছিল এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, তাই তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

তবে আইএফএবি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেই সময়ের ভিএআর প্রটোকল সিমুলেশন পর্যালোচনার অনুমতি দিত না। নিয়মের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ভুল খেলোয়াড়কে দেখানো হলুদ কার্ড সংশোধন করা, অপরাধের ধরন বা রেফারির মূল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা নয়।

আইএফএবি’র  সার্কুলার নং ৩৪-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ব্যতীত অন্য কোনো হলুদ কার্ড কেবল শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পর্যালোচনা করা যাবে; অপরাধটি নিজে পর্যালোচনা বা পরিবর্তন করা যাবে না।’

এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এম্বোলোর ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা, তবে সুইজারল্যান্ডের পক্ষে ফ্রি-কিক বহাল রাখা এবং এম্বোলোকে কোনো হলুদ কার্ড না দেখানো। অর্থাৎ, এম্বোলোর বহিষ্কার হওয়া উচিত ছিল না।

এ ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি প্রশ্নও উঠে এসেছে। যদি পারেদেস আগেই একটি হলুদ কার্ড পেয়ে থাকতেন এবং ভিএআর-এর মাধ্যমে ভুল পরিচয় সংশোধনের সময় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেতেন, তাহলে কী হতো?

আইএফএবি’র অবস্থান অনুযায়ী, ভিএআর ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর বিষয়টি সংশোধন করতে পারলেও মূল অপরাধটি নতুন করে বিচার করতে পারে না। অর্থাৎ, প্রটোকলের সীমাবদ্ধতার কারণেই এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আইএফএবি জানিয়েছে, বিশ্বকাপে সিমুলেশন সংক্রান্ত এমন ভিএআর ব্যবহার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হলেও এটি তখনকার নিয়মের আওতায় ছিল না। তাই নিয়ম সংশোধনের আগে সিমুলেশন পর্যালোচনায় এই পদ্ধতি ব্যবহার স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতিও ভিএআর-এর আওতায় আনা হতে পারে।

এদিকে, উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশের রেফারিং কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও ভিএআর ব্যবহারের মূল নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ভিএআর কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে যখন রেফারির সিদ্ধান্তে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ থাকবে অথবা রেফারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পূর্ণভাবে মিস করবেন।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বারবার ভিডিও রিভিউ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ ভিএআর-এর উদ্দেশ্য ম্যাচ পুনরায় পরিচালনা করা নয়; বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারিকে সহায়তা করা। মাঠের রেফারিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী থাকবেন; এ নীতিই আবারও জোর দিয়ে তুলে ধরেছে উয়েফা ও আইএফএবি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন