শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও স্বর্ণের মুকুট ভারতের
প্রকাশ: ১৪:৪৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০২৩ সালের পর এবারও ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনার পদক নিজেদের কাছেই রাখল ভারত।
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে ভারতের সোনার দাপট অব্যাহত। আগের আসরের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনার পদক নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। তবে এবার জয়টা ছিল আরও দাপুটে, ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান তোলে ভারত। জবাবে ভারতের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
ভারতের বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ব্যাটাররা। ২০ ওভারের ইনিংসে ১৩টি ছক্কা মেরেছে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে তাদের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২১৬ রানও ভারতের এই সংস্করণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। গত ডিসেম্বরে তিরুবনন্তপুরমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই করা ২২১ রান এখনো তাদের সর্বোচ্চ।
ভারতের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। ৪৫ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মাত্র ৩০ বলেই পূর্ণ করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ৩৭তম ফিফটি।
মান্ধানাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন শেফালি ভার্মা। ২৯ বলে ৪৮ রান করেন এই ওপেনার। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে ভারতের রান দ্রুত এগিয়ে যায়। প্রথম ১০ ওভারে দুজনের উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৯৯ রান। শেষ পর্যন্ত চামুদি প্রাবোদার বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শেফালি।
তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেলেন। প্রথম ১৩ বলে তার রান ছিল ১০। পরে দুটি বাউন্ডারিতে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ১৯ রানেই থামতে হয় তাকে।
হারমানপ্রীত ফেরার পরও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। এক প্রান্তে মান্ধানা সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দিয়ে ৭৯ রানেই থেমে যায় তার ইনিংস।
শেষ দিকে রিচা ঘোষের ব্যাটে আরও বড় হয় ভারতের সংগ্রহ। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসের সবচেয়ে বড় ঝড় আসে শেষ ওভারে। সেই ওভারেই ২৫ রান তুলে ভারতকে দুইশ পেরিয়ে দেন রিচা।
২১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে নিয়ে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্থু ২৯ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বাকিদের কেউই ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। ভারতের স্পিনারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা।
দীপ্তি শর্মা মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শ্রী চরণী ও শেফালি ভার্মা নেন দুটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে ৬৯ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ১৪৭ রানের এই বিশাল জয় ভারতকে এনে দিয়েছে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয় সোনা। ২০২৩ সালের পর এবারও ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনার পদক নিজেদের কাছেই রাখল ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ৩/২১৬ (স্মৃতি মান্ধানা ৭৯, রিচা ঘোষ ৪৯*, শেফালি ভার্মা ৪৮; চামুদি প্রাবোদা ১/৩৪)
শ্রীলঙ্কা: ১৫.৪ ওভারে ৬৯ (দীপ্তি শর্মা ৩/৬, শ্রী চরণী ২/১৩, শেফালি ভার্মা ২/৩)



