ভিএআর নিয়ে বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে সুবিধার অভিযোগ মানছে না ফিফা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:২৪, ৩০ জুলাই ২০২৬
ভিএআরের ভুল প্রয়োগে সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা মানতে নারাজ ফিফা। ছবি- সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ব্যাখ্যার পর অনেকেই দাবি করেন, ভিএআরের ভুল প্রয়োগে সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের দাবি, রেফারি কিংবা ভিএআর কোথাও কোনো ভুল হয়নি; বরং সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার’ জন্যই।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানো থেকেই এই বিতর্কের শুরু। পরে আইএফএবি জানায়, ‘মিসটেকেন আইডিন্টেটি’ সংক্রান্ত ভিএআর নীতির এমন প্রয়োগ প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সেই ব্যাখ্যার পরই আর্জেন্টিনা সুবিধা পেয়েছে, এমন আলোচনা জোরালো হয়।
তবে ফিফা বলছে, পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা উচিত। সংস্থাটির মতে, ওই ম্যাচে রেফারি কিংবা ভিএআর কর্মকর্তারা কোনো ভুল করেননি। বরং একজন নির্দোষ খেলোয়াড়কে ভুল শাস্তি থেকে রক্ষা করতেই ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
একটি বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়েই ‘মিসটেকেন আইডিন্টেটি’ নীতিটি ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এটি প্রতিযোগিতার ন্যায়সংগত পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
উদাহরণ হিসেবে গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরোনকে ঘিরে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানায়, পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ঘটনায় প্রতিপক্ষের সিমুলেশন বা অভিনয়ের কারণে একজন খেলোয়াড় ভুল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। পরে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সেই তথ্যগত ভুল সংশোধন করেন।
বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘সিমুলেশন বা অভিনয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কারণে কোনো নির্দোষ খেলোয়াড়কে অযথা কার্ড দেখা বা পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।’
ফিফা আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘আমরা এটিকে রেফারি বা ভিএআরের ভুল বলে মনে করি না। এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। আইএফএবির সার্কুলারে দেয়া মন্তব্য আমরা বিবেচনায় নিয়েছি এবং পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তারা নিশ্চিত করেছে, এই ব্যাখ্যা বৈধ এবং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।’
সংস্থাটি জানিয়েছে, সর্বশেষ আইএফএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভিএআর প্রোটোকলে সম্ভাব্য পরিবর্তন আনা হলে এই ঘটনাও সেই আলোচনার অংশ হবে।
ফিফার এই অবস্থানের পর ভিএআর বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে আইএফএবির নিয়মগত ব্যাখ্যা, অন্যদিকে ফিফার ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার’ দাবি; দুই সংস্থার অবস্থান ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক যে এখনও থামছে না, তা স্পষ্ট।



