ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা, বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৯, ৩১ জুলাই ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন । ছবি- এপি
ফিফা যদি তাদের টুর্নামেন্টগুলোর শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে তাহলে আর বিশ্বকাপে খেলবে না ইউরোপের ৫৫টি দেশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফিফা এই সপ্তাহের শুরুতে যে প্রস্তাব ঘোষণা করেছে, সেটি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিবিসির
এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ‘আমরা সর্বসম্মতভাবে এবং স্পষ্টভাবে ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি— বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয়। এটি ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খেলোয়াড়, জাতীয় দল ও সমর্থকদের দ্বারা গড়ে উঠেছে। এর কোনো অংশ কখনোই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
উয়েফা এর আগে দু’টি কঠোর বিবৃতিতে পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। এবার ভোটের মাধ্যমে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। বয়কট কার্যকর হলে ফিফার সব প্রতিযোগিতা—পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপ পর্যন্ত—এর আওতায় আসবে। তবে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে যদি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর ভোটে পাস হয়।
উল্লেখ্য, ফিফার ঘোষণা— তারা বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে চায়, এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীরা— যা ফুটবল সমর্থক, রাজনীতিবিদ ও আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপের দলগুলো মাঝে।
ইনফান্তিনোর বড় যুক্তি হলো, চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রতিটি ফিফা সদস্য দেশকে খেলার উন্নয়নের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার (৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) দেওয়া হবে। এর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিলে প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার (১৫ মিলিয়ন পাউন্ড) ১ জানুয়ারি থেকেই পাওয়া যাবে।
আর যারা এই পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দেবে, তারা অতিরিক্ত আরও ২০ মিলিয়ন ডলার এককালীন বোনাস হিসেবে পাবে। অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ চার বছরে মোট ৪০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবে। ২০৩৫ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে এই সহায়তার পরিমাণ ২৪০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা এবং তাদের ৫৫টি সদস্য সংস্থা ‘একতাবদ্ধ’। ‘আমরা বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য ফিফা প্রতিযোগিতার মালিকানা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের ফিফার প্রস্তাবকে সর্বসম্মতভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি,’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার ফিফার বিরুদ্ধে ফুটবলকে ‘নিজেদের এবং তাদের বন্ধুদের ধনী করার জন্য’ ব্যবহার করার অভিযোগ করেছিল উয়েফা। বৃহস্পতিবার তাদের বিবৃতিটি ছিল আরও বেশি কঠোর। এতে বলা হয়, যারা এই খেলাটি পরিচালনা করেন তাদের সাথে ‘কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই’ এবং গোপনে ফুটবলের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব তৈরি করা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অগ্রহণযোগ্য’।
যদিও ফিফার সদস্য সংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ উয়েফার, তবুও বিশ্বের সবচেয়ে সফল দলগুলোর বেশিরভাগই এর অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে বিজয়ী স্পেনসহ আটটি কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের মধ্যে ছয়টিই ছিল ইউরোপীয়। ২০২২ এবং ২০১৮ সালের আসরে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে পাঁচ ও ছয়। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৩টি বিশ্বকাপের মধ্যে ১৩টিতেই ইউরোপীয় দেশগুলো জয়ী হয়েছে।



