আর্জেন্টিনা-উরুগুয়েসহ বিশ্বকাপ বয়কটের ইতিহাস
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৪২, ১ আগস্ট ২০২৬
সর্বপ্রথম উরুগুয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল। ছবি- সংগৃহীত
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বাইরের বিনিয়োগ আনার ফিফার প্রস্তাব ঘিরে বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে উয়েফা। পরে সেই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কনকাকাফও। যদিও শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা, তবু বিশ্বকাপ বর্জনের এই আলোচনা নতুন নয়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে কেন্দ্র করে এর আগেও রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও ক্রীড়াগত নানা কারণে বিশ্বকাপ বয়কটের একাধিক নজির রয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম উল্লেখযোগ্য বর্জনের ঘটনা ঘটে ১৯৩৪ সালে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে অংশ নেয়নি। কারণ, প্রথম বিশ্বকাপে অনেক ইউরোপীয় দেশ উরুগুয়েতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তারই প্রতিবাদে চার বছর পর উরুগুয়েও ইতালির বিশ্বকাপ বর্জন করে।
এরপর ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ আমেরিকায় হওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু আয়োজক হিসেবে ফ্রান্সকে বেছে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ বর্জনের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালের বাছাইপর্বে। ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় ইসরায়েল। পরে বিশেষ প্লে-অফে ওয়েলসের কাছে হেরে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারায় তারা।
১৯৬৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফ্রিকার দেশগুলোও বড় ধরনের প্রতিবাদ গড়ে তোলে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) ১৫ সদস্য দেশ বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, ইউরোপের জন্য ১০টি স্থান বরাদ্দ থাকলেও আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়ার জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র একটি জায়গা; যা ছিল স্পষ্ট বৈষম্যমূলক।
১৯৭৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দেখা যায় আরেকটি রাজনৈতিক বয়কট। চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সান্তিয়াগোয় প্লে-অফ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফিফা ম্যাচের সূচি পরিবর্তন না করায় চিলির খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষ ছাড়াই মাঠে নামে। কিক-অফের পর ফাঁকা জালে গোল করার আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিলিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এসব ঘটনা দেখিয়েছে, ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের বাইরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সাংগঠনিক বিরোধ কিংবা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও অনেক সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরকে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক বিতর্ক মিটে গেলেও সেই ইতিহাস আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।



