ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ঘিরে প্রকাশ্যে এলো বড় বিতর্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০২, ৫ আগস্ট ২০২৬

ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ঘিরে প্রকাশ্যে এলো বড় বিতর্ক

১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ১৯৯৮ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সে সময়ের ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারি-জর্জ বুফে স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগে জাতীয় দলের ওপর আকস্মিক (সারপ্রাইজ) ডোপিং পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার।

বিতর্কের সূত্রপাত করেন ফরাসি চিকিৎসক আলাঁ গার্নিয়ে। তিনি জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে জাতীয় দলের ডোপিং পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে তাকে জানানো হয়, ফ্রান্স দলের ওপর আর কোনো আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষা চালানো হবে না। প্রতিবেদন গ্লোবো এস্পোর্তের। 

গার্নিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএম টিভির প্রামাণ্যচিত্রে বলেন, ‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপ পর্যন্ত যেন ফ্রান্স জাতীয় দলকে আর বিরক্ত না করা হয়। অর্থাৎ, আর কোনো সারপ্রাইজ ডোপিং টেস্ট হবে না।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে টিন শহরে জাতীয় দলের একটি প্রস্তুতি ক্যাম্পে ডোপিং পরীক্ষা পরিচালনার পর তৎকালীন প্রধান কোচ আইমে জাকে এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এ ধরনের আকস্মিক পরীক্ষা দলের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল।

গার্নিয়ের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মারি-জর্জ বুফে বলেন, তিনি ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল তা স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হয়েছিল।

বুফের ভাষায়, ‘তিনি (গার্নিয়ে) যদি এমনটা বলে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই সেদটাই সত্য। আমরা হয়তো ঠিক ওই ভাষায় বলিনি, কিন্তু বিষয়টি কার্যত একই ছিল। সম্ভবত মন্ত্রণালয়ের দপ্তর থেকেই নির্দেশনা এসেছিল। এটি ছিল ডোপিংবিরোধী লড়াইয়ের জন্য বড় একটি ধাক্কা। তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আমরা আবারও ডোপিংবিরোধী কার্যক্রম শুরু করি।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ফরাসি সিনেটের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেয়ার সময় বুফে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে নানা চাপ থাকলেও তিনি কখনোই ডোপিং পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেননি।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে স্বাগতিক ফ্রান্স, জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। ফাইনালে তারা ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন