২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ: শান্তর রোমাঞ্চ, কামিন্সও চাইলেন আরও টেস্ট!

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:১৪, ১২ আগস্ট ২০২৬

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ: শান্তর রোমাঞ্চ, কামিন্সও চাইলেন আরও টেস্ট!

প্যাট কামিন্স ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরুর আগে তাই রোমাঞ্চের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জটাও বড়। তবে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগটাই বড় এক পাওয়া।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এসে টেস্ট খেলতে পারাটা তাদের জন্য দারুণ এক সুযোগ। সাদা পোশাকে মাঠে আসার অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে টেস্ট খেলতে পারব, এটা অবশ্যই রোমাঞ্চকর। আমার মনে হয়, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ।’

২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সফরের অভিজ্ঞতা এবারও আলোচনায় এসেছে। ম্যাচের আগের দিন উইকেট দেখার পর সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন শান্ত। সেই সময় ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদও জানিয়েছেন বাশার।

শান্তর মতে, দুই যুগ আগের বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান দলের বড় পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন সে ২৩ বছর আগের মতো টিমটা নাই। উনার বিশ্বাস আছে এই টিমটার ওপরে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। তবে সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, প্রস্তুতি পর্বে এমন খারাপ দিন আসতেই পারে। আসল পরীক্ষা শুরু হবে টেস্টে।

শান্ত বলেন, ‘এরকম একটা খারাপ দিন যেতেই পারে। আমি বিশ্বাস করি, এরকম দিন এই টেস্ট ম্যাচে আসবে না। ওটা একটা প্রিপারেশন ফেজ ছিল। এখন আমার মনে হয়, আগামীকাল থেকে একটা ব্যাটল শুরু হবে। আমরা কত ভালোভাবে ওই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করতে পারছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টকে মোটেও সহজ হিসেবে দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার মতে, বাংলাদেশের দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছেন এবং গত কয়েক বছরে তারা বড় দলগুলোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য জয়ও পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে প্রস্তুত হয়েই নামতে হবে।

কামিন্স বলেন, ‘আমি কখনো সহজ কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেছি বলে মনে হয় না। তাই নিশ্চিতভাবেই তারা শক্তিশালী দল হবে। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়কে আমরা আগে সেভাবে দেখিনি, ফলে কিছুটা অজানা বিষয় থাকছেই। তবে গত কয়েক বছরে তারা বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে এবং দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে।’

 

 

বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়মিত না হওয়ায় হতাশার কথাও জানিয়েছেন কামিন্স। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে নিয়মিত খেলা এবং প্রতিটি দলের ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।

অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘এখানে ততটা নিয়মিতভাবে খেলা হয়নি। বছরের এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের খেলতে আসাটা দারুণ ব্যাপার। আমি চাই, এমনটা আরও নিয়মিত হোক। টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, আপনি বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলবেন। প্রতিবারই চ্যালেঞ্জটা আলাদা।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট খেলার আগ্রহ প্রকাশ করে কামিন্স আরও বলেন, ‘প্রত্যেক দলই একটু ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলে। তাই হ্যাঁ, আমি অবশ্যই চাই তাদের বিপক্ষে আরও খেলতে।’

কয়েক মাস আগে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আত্মবিশ্বাসও কাজে লাগাতে চান শান্ত। তবে ওয়ানডে ও টেস্টের পার্থক্য মাথায় রেখে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত তার দল।

সব মিলিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সিরিজ নয়, দুই দলের কাছেই ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। শান্তর কাছে এটি বড় সুযোগ ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা, আর কামিন্সের কাছে বাংলাদেশকে আরও নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেটে দেখার দাবি। এখন দেখার বিষয়, ডারউইনের মাঠে সেই লড়াইয়ে কে কতটা নিজেদের সামর্থ্য মেলে ধরতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন