বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালের দৌড়ে কার সামনে কী সমীকরণ?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৪৮, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে টেবিলের চার নম্বরে থাকা লাল-সবুজ জার্সিধারীদের সামনে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার দারুণ এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিরোপা লড়াইয়ের এই দৌড়ে অবশ্য এখনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে দলগুলোর মধ্যে। তবে ফাইনালের দৌড় থেকে ইতোমধ্যে ছিটকে গেছে—পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে গতবারের দুই ফাইনালিস্ট দল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯ ম্যাচে ৭টি জয় ও ২ হারে শতকরা ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে অজিরা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭৫ শতাংশ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ ম্যাচে ৪ জয় এবং একটি করে হার ও ড্রয়ে শতকরা ৭২.২২ শতাংশ জয় নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানো বাংলাদেশ অবস্থান করছে টেবিলের চার নম্বরে। এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্র নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট জয়ের হার শতকরা ৬৬.৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশের ঠিক নিচে রয়েছে ভারত, ৯ ম্যাচে সমান ৪টি করে জয়-হার এবং একটি ম্যাচ ড্রয়ে তাদের জয় ৪৮.১৫ শতাংশ। ছয় নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কা ৪ ম্যাচে ১টি করে জয়-হার ও ২ ড্রয়ে ৪১.৬৭ শতাংশ। আর ১৩ ম্যাচে ৪ জয়, ৮ হার ও ১ ড্রয়ে ইংল্যান্ডের জয় ২৪.৩৬ শতাংশ।
কাগজে-কলমে এই সাত দলেরই ফাইনালের উঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে রয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন দ্য ওভালে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। তবে ৬ ম্যাচে ২ জয় ও ৪ হারে ২২.২২ শতাংশ জয় নিয়ে আট নম্বরে থাকা পাকিস্তান ও ১২ ম্যাচে ২ জয়, ৮ হার ও ২ ড্রয়ে ২০.৮৩ শতাংশ জয় নিয়ে নয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে ফাইনালের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গেছে।
গত দুই চক্রের হিসাবে, ফাইনালে উঠতে ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট দরকার। সর্বশেষ চার ফাইনালিস্টের মধ্যে তিন দলই ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট পেয়েছে। ব্যতিক্রম ভারত, ২০২৩ সালে ৫৮.৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে উঠেছিল। আগের ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ছিল ৬৭ শতাংশের বেশি। বলে রাখা ভালো, প্রতিটি জয়ে ১২, ড্র হলে দুই দল ৪ ও টাই হলে ৬ পয়েন্ট করে পায়। তবে কোন দল কত পয়েন্ট পেয়েছে সেটি মুখ্য নয়।
ফাইনালে ওঠার কার সমীকরণ কেমন?
(১) অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশের কাছে হারলেও চলতি চক্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। দলটির হাতে আছে ১৩ টেস্ট। ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পর প্যাট কামিন্সরা যাবেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সবশেষে ভারত সফরে পাঁচ টেস্ট সিরিজ। ৬০ শতাংশ পয়েন্ট ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছয় জয় ও এক ড্র। আট জয় ও ছয় হার হলে শেষ করবে ৬৮.১৮ শতাংশে।
(২) দক্ষিণ আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকাও শক্ত অবস্থানে আছে। তাদের সামনে রয়েছে আরও ১০ টেস্ট। এর আটটিই ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ৬০ শতাংশে যেতে দরকার আরও ৬৫ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতেই তা হয়ে যাবে। ছয় জয় ও চার হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.২৮ শতাংশ। সাত জয় ও তিন হার হলে ৭১.৪৩ শতাংশ।
(৩) নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডও এখন সুবিধাজনক অবস্থানে। তাদেরও বাকি ১০ টেস্ট। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ অ্যাওয়েতে। ৬০ শতাংশে যেতে দরকার ৬৪ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। ছয় জয় ও তিন হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ। সাত জয় ও তিন হার হলে ৭০.৮৩ শতাংশে উঠবে নিউজিল্যান্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ায় চার টেস্টের সিরিজই হতে পারে তাদের বড় পরীক্ষা।
(৪) বাংলাদেশ: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের হারানোর পর বাংলাদেশের বাকি রয়েছে ৭টি টেস্ট। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডকে আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ। মাঝে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে। তিনটি সিরিজে হবে ছয়টি ম্যাচ। ফাইনালে উঠতে হলে সাত টেস্টের মধ্যে চারটা জিততে হবে। এমনকি তিনটিতে জয় এবং তিনটিতে ম্যাচ ড্র করলেও ফাইনাল যেতে পারে। তাহলে জয়ের হার ৬০ শতাংশের বেশি থাকবে।
(৫) ভারত: ভারতের এই মুহূর্তে ম্যাচ বাকি নয়টি। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচের সিরিজ অ্যাওয়েতে। ঘরের মাঠে পাঁচ টেস্টের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৬০ শতাংশে যেতে ভারতের দরকার আরও ৭৮ পয়েন্ট। ছয় জয় ও দুই ড্র হলে হবে ৮০ পয়েন্ট। সাত জয়ে ৮৪। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ভারত ভালো করতে পারছে না। বাকি নয় ম্যাচে সাত জয় ও দুই হার হলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। আট জয় ও এক হার হলে ৬৮.৫২ শতাংশ।
(৬) শ্রীলঙ্কা: শ্রীলঙ্কার হাতে আছে আট টেস্টে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬০ শতাংশে যেতে দরকার আরও ৬৭ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্র অথবা ছয় জয়েই তা সম্ভব। ছয় জয় ও দুই হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৩.৮৯ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে ৭২.২২ শতাংশ।
(৭) ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডের অবস্থা ভালো নয়। ১৩ টেস্টে চার জয়, আট হার ও এক ড্র। ধীর ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট কাটাও গেছে। বাকি আছে আট টেস্ট। সব টেস্ট জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম।
(৮) পাকিস্তান: ছয় টেস্টে দুই জয় ও চার হার পাকিস্তানের। এর সঙ্গে আছে আট পয়েন্টের শাস্তি। সামনে বাকি সাত টেস্ট। সবগুলো জিতলে সর্বোচ্চ ৬৪.১ শতাংশে উঠতে পারবে তারা। ছয় জয় ও এক ড্র হলে পয়েন্ট হবে ৫৮.৯৭ শতাংশ। ছয় জয় ও এক হার হলে ৫৬.৪১ শতাংশ।
(৯) ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে। ১২ টেস্টে মাত্র দুটি জয়। হার আটটি। ড্র দুটি। সামনে বাকি মাত্র দুই টেস্ট। দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফাইনালের দৌড় থেকে তাই তারা কার্যত ছিটকে গেছে।



