আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঘটনায় মিশরের বিরুদ্ধে ফিফার ব্যবস্থা
প্রকাশ: ১৫:০০, ২১ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে আপত্তি তুলেছিল মিসর। সেই ঘটনার জেরেই এবার ফিফার শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে দলটি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পরও থামেনি আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেশ। তবে মাঠের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় সেই ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান, ও দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার তাদের সেই বক্তব্যের জেরেই শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। গোল ডটকমের প্রতিবেদন।
মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোসাম, ইব্রাহিম ও জিকোর বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে তাদের দেয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইএফএ বলেছে, ফিফার নেওয়া এই পদক্ষেপ তারা পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তারা।
আর্জেন্টিনা ও মিসরের সেই ম্যাচটি হয়েছিল ৭ জুলাই আটলান্টায়। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। সেই অবস্থায় তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ ১৪ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
তবে হারের পর মিসরের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়েরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন জিকো। ম্যাচে একটি গোল করার পর উদযাপনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেয়ায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। পরে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে জিকো ও মিসরের অন্য সদস্যরা বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মাঠের সেই উত্তেজনার রেশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা করেন মিসরীয় সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একপর্যায়ে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন ফরাসি এই রেফারি।
শুধু রেফারিকে ঘিরেই থামেনি বিতর্ক। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিসরীয় সমর্থকেরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি বিতর্কিত ই-মেইলও পাঠিয়েছিল। এতে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
ফলে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি এখনো দুই দলের সমর্থকদের আলোচনায়। মিসরের জন্য ম্যাচটি ছিল নিশ্চিত জয়ের হাতছানি থেকে নাটকীয় বিদায়ের গল্প। আর আর্জেন্টিনার জন্য সেটি হয়ে আছে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ।
তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি স্কালোনির দল। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।



