স্টার্কের কাছে শরীফুলের যেসব প্রশ্ন, অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের অর্জনে হাসানের তৃপ্তি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৩৪, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মেকাইয়ে ম্যাচ শেষে কথা বলে দুই বাঁহাতি মিচেল স্টার্ক ও শরীফুল ইসলাম। ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে ড্র-য়ে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। মেকাইতে স্বাগতিকরা নেয় প্রতিশোধ। বাংলাদেশের পেসারদের জন্য এই সফর ছিল নিজেদের সামর্থ্য জানান দেয়ার বড় সুযোগ। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়, মেকাইয়ে বোলাররা আগুন ঝরা বোলিংয়ে বাংলাদেশের পেসাররা ছিলেন দুর্দান্ত, দুরন্ত। সব মিলিয়ে পেসারদের পারফরম্যান্স এখন আকাশচুম্বি
মেকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে ৭ উইকেট নিয়ে দোদীপ্যমান ছিলেন শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার পেসার ১০ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক সমানতালে ছড়িয়েছেন আলো। এই দুই বাঁহাতি পেসারকে ম্যাচ শেষে কথা বলতে দেখা যায়। কী কথা হলো দুজনের? মেকাইতে অলস বিকেলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাঁহাতি পেসার করেছেন পরিস্কার।
ইনজুরির কারণে সিরিজের প্রথম টেস্টে ছিলেন না শরীফুল। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে শেষ ম্যাচের একাদশে জায়গা পান তিনি। সুযোগ পেয়েই করেন বাজিমাত। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৭ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। তার বোলিং নজর কাড়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সেরও।
স্টার্কের সঙ্গে নিজের কথোপকথন নিয়ে শরীফুল বলেন, ‘যখন খেলাটা শেষ হলো, তখন আমি স্টার্ককে বললাম, আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই, আপনি কি একটু সময় দেবেন? বলল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’
এরপর স্টার্কের কাছে ফিটনেস ও ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চান শরীফুল। তিনি বলেন, ‘স্টার্ককে জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে একটা সিরিজের আগে ফিটনেস নিয়ে কাজ করে বা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে। যেহেতু উনি বলতেছিল যে উনার বয়সটাও একটু বেশি, ৩৬, উনার ভিন্ন প্রস্তুতি থাকে, আমাদের হয়তো ভিন্ন। তারপরে কীভাবে ফিটনেস মেইনটেইন করে খেলার পরে-এগুলো নিয়েই কথা হয়েছে।’
দলের একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন শরীফুল। তার ভাষায়, ‘টিম কম্বিনেশনের কারণে একটু বাইরে থাকতে হয়, কিন্তু আমি তাও প্রস্তুত থাকি। যে কোনো সময় আমি প্রস্তুত খেলার জন্য।’
শরীফুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। এ প্রসঙ্গে শরীফুল বলেন, ‘সাকিব ভাইও আমাকে টেক্সট করে বললেন- ওয়েলডান অভিনন্দন।’
অন্যদিকে, সিরিজ ড্র হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ আছে হাসান মাহমুদের। তবে পুরো সফরকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন তিনি। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের জয়ে পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, আর দ্বিতীয় টেস্টেও বোলিং দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছিল বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং ইউনিট।
হাসান বলেন, ‘সব খেলোয়াড়রাই চেষ্টা করেছে তাদের সেরাটা দিয়ে খেলার। সেটার প্রতিফলন এখন পর্যন্ত আমরা অনুভব করতে পারছি যে আমরা আসলে একটা জিনিসের জন্য যে লড়াই করেছিলাম, সেটা প্রায় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সিরিজটা ড্র হয়।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ শুরুর আগে যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিল, সেটির বড় একটি অংশ পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আসার আগে যেই স্বপ্নটা দেখেছিলাম, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলব এবং আধিপত্য বিস্তার করব, আমার কাছে মনে হয় যে আমরা ১০০% না হলেও ৮০% পূরণ করতে পেরেছি। ডারউইনে ম্যাচ জেতা এবং মেকাইতে এসেও ওদেরকে টাফ টাইম দেয়া, বোলিংয়ে ডমিনেট করা। অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর থেকে এখানে ট্রেনিং করা, আমাদের চিন্তা ভাবনা, ডেডিকেশন, ফোকাস যতটুকু ছিলো অনুশীলনে সেটা ম্যাচেও পরিপূর্ণ এপ্লাই করতে পরেছি।’
সিরিজ ড্র হলেও এটিকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ডানহাতি এই পেসার। তার আশা, ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি আধিপত্য দেখাবে বাংলাদেশ।
হাসান বলেন, ‘সিরজিটা ড্র হলেও এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন বলে উল্লখ করেন ডানহাতি এই পেসার। আমরা ইনশাআল্লাহ যত সময় ধরে এসব পরিস্থিতিতে খেলব, আধিপত্য বিস্তার করব এবং বড় বড় দলের সঙ্গে খেলব। আশা করব যে সামনে আরও, আরও ম্যাচ জিতব এবং আরও আধিপত্য বিস্তার করব বিশ্ব ক্রিকেটে।’
ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ের পেছনে ফাস্ট বোলারদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন হাসান। তিনি বলেন, ‘এখানে ম্যাচ জেতার পেছনে আমাদের ফাস্ট বোলারদের অনেক অবদান রয়েছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই আমরা বোলিংয়ে অনেক উন্নতি করার চেষ্টা করছি। এই সিরিজটার জন্য আমাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট খুবই আত্নবিশ্বাসী ছিলাম।’



