‘হুমকির’ মুখে আলভারেজ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩:৪০, ২৬ আগস্ট ২০২৬

‘হুমকির’ মুখে আলভারেজ

হুলিয়ান আলভারেজ ও অ্যাটলেটিকোর কোচ সিমিওনি। ছবি- সংগৃহীত

বার্সেলোনায় যাওয়ার স্বপ্নের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। সেই স্বপ্নই এখন যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে  অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের জন্য। নিজের ক্লাবের সমর্থকদের দুয়োধ্বনি, বাড়তি প্রত্যাশা আর মানসিক চাপ, সব মিলিয়ে মাঠে তার জন্য তৈরি হয়েছে কঠিন এক পরিস্থিতি। ক্রীড়া মনস্তত্ত্ববিদ মারি কার্টরাইটের ভাষায়, আলভারেজ এখন রয়েছেন ‘থ্রেট স্টেট’ বা হুমকির অনুভূতির মধ্যে

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আলভারেজ জানিয়েছিলেন, বার্সেলোনায় যাওয়া তার স্বপ্ন এবং সেটিই সবার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু  অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ তাকে ছাড়তে নারাজ। এরপরই নতুন মৌসুমের শুরুতে নিজেদের মাঠ রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিতানোতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের তীব্র দুয়োধ্বনি শুনতে হয় তাকে।

এই পরিস্থিতি একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন ক্রীড়া মনস্তত্ত্ববিদ মারি কার্টরাইট। গোল ডটকমে প্রকাশিত বিবিসি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘরের মাঠ একজন খেলোয়াড়ের জন্য যেমন বাড়তি শক্তির উৎস হতে পারে, তেমনি নেতিবাচক পরিবেশে সেটিই হয়ে উঠতে পারে মানসিক চাপের কারণ।

কার্টরাইটের ব্যাখ্যায়, সমর্থকদের ইতিবাচক উপস্থিতি খেলোয়াড়দের শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পারফরম্যান্সে গতি ও তীক্ষ্ণতা আনতে পারে। কিন্তু প্রত্যাশার চাপ কিংবা সমর্থকদের অসন্তোষ থাকলে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো হয়ে যায়। তখন একজন খেলোয়াড়ের ছোট ভুলও বড় করে ধরা পড়ে।

এই অবস্থাকেই ‘থ্রেট স্টেট’ বা ‘হুমকির অনুভূতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কার্টরাইট। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়েরা নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে সংশয়ে পড়তে পারেন। মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে, অতিরিক্ত চিন্তা মাথায় ভিড় করে এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

আলভারেজের ক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটা শুধু বার্সেলোনায় যাওয়া-না যাওয়ার নয়। নিজের ক্লাবের সমর্থকদের বিরূপ মনোভাব সামলে তিনি কতটা দ্রুত মাঠের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেন, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন