ট্রিপল সেঞ্চুরিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিদেশের মাটিতে হৃদয়ের মহাকাব্য (ভিডিও)

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪:৩৫, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রিপল সেঞ্চুরিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিদেশের মাটিতে হৃদয়ের মহাকাব্য (ভিডিও)

জাতীয় দলেও এমন ইনিংস খেলার প্রত্যয় তাওহীদের। ছবি- সংগৃহীত

ছয় বছর আগে যে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের যুব ক্রিকেট লিখেছিল বিশ্বজয়ের ইতিহাস, একই মাঠে এবার ব্যাট হাতে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়লেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একই সঙ্গে ভেঙেছেন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।

২০২০ সালে এই মাঠেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই দলের সদস্য ছিলেন হৃদয়ও। ছয় বছর পর সেই একই মাঠে ফিরে এবার যুব দলের হয়ে নয়, নিজের ব্যাটেই লিখলেন নতুন ইতিহাস।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন হৃদয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন তিনি। ১৬৬ বলে শতরান পূর্ণ করার পর এগিয়ে যান দ্বিশতকের দিকে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ভেঙে দেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। ২০০৩ সালে করাচিতে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের ২১৮ রান এত দিন ছিল এই তালিকার শীর্ষে। হৃদয়ের ব্যাটে সেটি ছাড়িয়ে যায় নতুন উচ্চতায়।

তবে রেকর্ড ভাঙার পরও থামার কোনো ইচ্ছা ছিল না তার। একের পর এক মাইলফলক পেরিয়ে ৪৫০ বলের বেশি খেলে পৌঁছে যান ট্রিপল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে। শেষ পর্যন্ত ৪৮১ বল মোকাবিলা করে ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন হৃদয়।

এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়ে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে তিন শতাধিক রানের দুটি ইনিংস ছিল—তামিম ইকবালের ৩৩৪ ও রাকিবুল হাসানের ৩১৩। তবে দুটিই এসেছিল দেশের মাটিতে।

সেদিক থেকে হৃদয়ের ৩৫০ আলাদা হয়ে থাকছে আরও একটি কারণে। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’, ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পচেফস্ট্রুম—সব মিলিয়ে ইনিংসটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ক্যারিয়ারের এমন বড় অর্জনের পর স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসী হৃদয়। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের আনন্দকে ছাপিয়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষা আরও বড়—বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সিতেও এমন ইনিংস খেলা। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই স্বপ্নের কথাই জানিয়েছেন তিনি।

সাদা বলের ক্রিকেটে এরই মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হৃদয়। চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়েছে তাঁর। সাদা পোশাকে প্রথম সুযোগটি অবশ্য প্রত্যাশামতো কাজে লাগাতে পারেননি। তবে পচেফস্ট্রুমে ৩৫০ রানের এই ইনিংস যেন নতুন করে জানান দিল, দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটেও বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

আর সেই পারফরম্যান্স এসেছে ঠিক এমন এক সময়ে, যখন চলতি বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। সিরিজের আগে হৃদয়ের এই ইনিংস তাই নির্বাচকদের জন্যও হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

ছয় বছর আগে পচেফস্ট্রুমে বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছিলেন হৃদয়। এবার একই মাঠে দাঁড়িয়ে গড়লেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রেকর্ডগুলোর একটি। যুব বিশ্বকাপের সেই মাঠেই যেন নতুন পরিচয়ে ফিরে এলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার—এবার ইতিহাসের পাতায় তার নাম ৩৫০ রানের পাশে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন