ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসার জটিলতা মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপের পথে ইরান
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:১৫, ১৪ মে ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করল ইরান । ছবি: সংগৃহীত
'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের দিনক্ষণ গণনা চলছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন পর্দা উঠবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে মেগা এই আসর। এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বর্তমানে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং লজিস্টিক নিরাপত্তা।
বুধবার (১৩ মে) তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কোয়ারে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি জাতীয় দলকে বিদায় জানায় হাজারো সমর্থক। এই অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের জন্য অফিসিয়াল জার্সি এবং একটি বিশেষ থিম সং উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে মিশ্র আবেগ দেখা গেছে। কেউ কেউ এই সফরকে নিছক ফুটবল হিসেবে দেখলেও, অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের উপস্থিতিকেও এক ধরণের ‘প্রতীকী জয়’ হিসেবে দেখছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে আগামী সোমবার (১৮ মে) তুরস্কের আনতালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে ইরান দল। সেখানে তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মতে, টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ওপরও। গত ২৯ এপ্রিল কানাডায় ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে ভিসা জটিলতায় পড়েন ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ এবং মহাসচিব হেদায়াত মোমবেইনি। পরে ফিফা এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এবং জানায় যে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-কে তাজ বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি কারণ আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদের আয়োজক ফিফা, কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়।' তিনি আরও বলেন, ইরান আঙ্কারায় দলের সকল সদস্যের জন্য ভিসা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি চার্টার ফ্লাইটের অনুরোধ করার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ দেয়ার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি চাইছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে গ্রুপ ‘জি’-তে রাখা হয়েছে। ইরান ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রায় ৭০ হাজার ধারণক্ষমতার সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে এবং ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৮ হাজার।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে ইরানি ফুটবল সাংবাদিক ও বিশ্লেষক সালার আলিখাহ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তীব্র মনোযোগ ইরানের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ অনেক সময় ইরানি খেলোয়াড়দের আরও বেশি সংহতি ও সংকল্পবদ্ধ করে তোলে।
আলিখাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘরোয়া ফুটবল প্রস্তুতির ওপর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান-ভিত্তিক লিগের কিছু খেলোয়াড় বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থেকে দূরে ছিলেন এবং তারা হয়তো আদর্শ শারীরিক অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, 'এটি পুরো দলকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ ফুটবল সম্পূর্ণ দলগত খেলা। ইরানের বর্তমান প্রস্তুতি মূলত ফিটনেস এবং কন্ডিশনিংয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।'



