ট্রফি চুরি থেকে ম্যাচ ফিক্সিং, বিশ্বকাপের ১০ বিতর্কিত অধ্যায়
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০৯, ১৫ মে ২০২৬
বিশ্বকাপের ১০ বিতর্কিত অধ্যায়
বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়, একটি দেশের সম্মান, সমৃদ্ধি ও মর্যাদার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তাই এই স্বর্ণালী ট্রফি জিততে কত কিছুই না ঘটে। খুন, ঘুষ, হুমকি, অর্থ, নারী, প্রলোভন, পক্ষপাত কোনো কিছুই বাদ যায় না। দেখে নেয়া যাক বিতর্কিত দশটি ঘটনা।
বিশ্বকাপ বিতর্কে সবার উপরে জায়গা করে নেয় দিয়াগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে করা গোল একই ম্যাচে তার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র জনপ্রিয়তাকেও ছাপিয়ে যায়।
বিশ্বকাপ ম্যাচ কখনও কখনও রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। ১৯৬২ সালের আসরে চিলি-ইতালি ম্যাচ শুরুর মাত্র ১২ সেকেন্ডেই দুইটি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফুটবলের চেয়ে ওই ম্যাচে কিল, ঘুষি ও লাথির প্রদর্শনীই বেশি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। স্বাগতিক চিলির ২-০ গোলের জয়টি ‘ব্যাটল অব সান্তিয়াগো’ নামে পরিচিত।
ট্রফি চুরি বিশ্বকাপের আরেকটি বড় ট্র্যাজেডি। ১৯৬৬ সালের আসরের কয়েক মাস আগে ইংল্যান্ডের একটি প্রদর্শনী থেকে জুলেরিমে ট্রফি চুরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ‘পিকলস’ নামে একটি কুকুর তা উদ্ধার করে। তবে ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল থেকে ট্রফিটি আবারও চুরি হয়, যা আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ডাচ পুল পার্টি নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ না জেতার একটি কারণ হিসেবে ধরা হয়। ১৯৭৪ সালের ফাইনালের আগের দিন পশ্চিম জার্মানির নারী গুপ্তচরদের ফাঁদে পা দেয় পুরো দল এমন দাবি করা হয়। পরিকল্পিতভাবে এটি জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ড এ প্রচারিত হয়। পরদিন ফাইনালে হেরে যায় ‘টোটাল ফুটবলের’ দেশ।
১৯৭৮ সালের আসরে ফাইনালে উঠতে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলের প্রয়োজন ছিল। তবে ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৬-০ গোলে জয় পায়। স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আজও অমীমাংসিত।
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে দিবালোকে ম্যাচ পাতানোর একটি নজির দেখা যায় পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানির ১-০ গোলের জয়েই দু’দলই দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যায়, আর বাদ পড়ে আলজেরিয়া। ম্যাচের শেষ দিকে দু’দলের নিষ্প্রভ খেলা গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি আনে। এটি ‘ডিসগ্রেস অব হিহন’ নামে পরিচিত। এরপর থেকে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে আয়োজন শুরু করে ফিফা।
ফুটবলে আত্মঘাতী গোল অস্বাভাবিক নয়, তবে কলম্বিয়ান ফুটবলার আন্দ্রেস এস্কোবারের ক্ষেত্রে সেই গোলের মূল্য দিতে হয়েছিল জীবন দিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলটি তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। তবে রাউন্ড অব সিক্সটিনে ইতালি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তাদের পক্ষে দেয়া পেনাল্টি ও প্রতিপক্ষের গোল বাতিল নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনায় রেফারি বাইরন মোরেনোর লাইসেন্স ফিফা স্থগিত করে।
জিনেদিন জিদানের হেডবাট বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে রয়েছে। ২০০৬ সালের ফাইনালে মেজাজ হারিয়ে তিনি ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ফ্রান্স হেরে যায়।
একই আসরে পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডসের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচটি রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। সেখানে চারটি লাল কার্ড ও ১৬টি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এটি ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ নামে পরিচিত।



