নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে ফেরানোর আগে যেসব শর্ত দিয়েছেন আনচেলত্তি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:০৩, ২০ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ উৎকণ্ঠা আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেন নেইমার জুনিয়র। আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত সেলেসাওদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলে রাখা হবে কি-না, তা নিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বে যে তুমুল বিতর্ক চলছিল, তার যবনিকা টানলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত ‘মিউজিয়াম অব টুমোরো’-তে বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৮ মে) মধ্যরাতে ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। তবে কেবল জনপ্রিয়তার খাতিরে নয়, বরং সম্পূর্ণ ফিটনেস ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই নেইমারকে দলে নেয়া হয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই গুরু।
ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে। তারা জানায়, গত ১৪ মে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রদ্রিগো কাইতানো এক গোপন ভিডিও কলে কথা বলেন নেইমারের সাথে। সেখানেই চূড়ান্ত হয় তার দলে ফেরার রূপরেখা।
তবে দলে ফিরলেও নেইমারকে কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি। নতুন এই ব্রাজিল দলে নেইমারকে আর অধিনায়কত্ব দেয়া হচ্ছে না এবং আপাতত তিনি কোচের প্রথম একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়ও নন। এছাড়া আনচেলত্তির নতুন কঠোর শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে তাকে, যার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। গ্লোবো জানায়, নেইমার এই শর্তগুলো ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন এবং দলের স্বার্থে যেকোনো ভূমিকা (এমনকি বেঞ্চে বসে থাকতে হলেও) পালন করতে রাজি হয়েছেন।
দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা পুরো বছরজুড়ে নেইমারকে পর্যবেক্ষণ করেছি। তার শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। এই বিশ্বকাপের জন্য সে গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তবে অন্য ২৫ জনের মতোই তারও একই দায়িত্ব; সে খেলুক বা বেঞ্চে থাকুক। আমি পরিষ্কার, সরাসরি এবং সৎ থাকতে চাই—সে মাঠে নামবে, যদি সে খেলার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।”
কোচ আরও যোগ করেন, “নেইমারের মূল সমস্যা ছিল শারীরিক ফিটনেস নিয়ে। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে সে নিয়মিত খেলেছে এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই আরও ভালো অবস্থায় পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা এবং দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা দলীয় পরিবেশকে ইতিবাচক করতে সাহায্য করবে।”
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সেলেসাওদের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সান্তোসে ক্যারিয়ার শুরু করে বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে ইউরোপ কাঁপানোর পর, সৌদি ক্লাব আল হিলালে ইনজুরি জর্জরিত সময় কাটান তিনি। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের পুরোনো ক্লাব সান্তোসে ফিরে এসে আবারও চেনা ছন্দে ফেরেন এই ফরওয়ার্ড।
পেলের দেশের হয়ে এটি নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ঘরের মাঠের কন্ডিশনে আনচেলত্তির কৌশলে সুপার-সাব বা মেন্টর হিসেবে নেইমার ব্রাজিলকে হেক্সা শিরোপা এনে দিতে পারেন কি-না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



