মেসি আর খেলবে না, ভাবতেই মন খারাপ হয়: লিওনেল স্কালোনি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:০১, ১৬ মে ২০২৬
লিওনেল মেসির সঙ্গে লিওনেল স্কালোনি। ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মিশন এখন শিরোপা ধরে রাখার। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন কেবল অপেক্ষা কোচ লিওনেল স্কালোনির চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণার। এর মাঝেই শুক্রবার (১৫ মে) দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা, গত বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগঘন কথা বলেছেন আলবিসেলেস্তেদের মাস্টারমাইন্ড স্কালোনি।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির এটিই হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মতো স্কালোনিও এই রূঢ় সত্যটি এখনই মাথায় নিতে চান না। মেসির অবসর প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, 'তাকে (মেসি) মাঠে খেলতে দেখা সবসময়ই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, তা নিয়ে আমি এখন ভাবতে চাই না। আমি শুধু বর্তমানটা উপভোগ করতে চাই। কারণ দুনিয়ার সব ফুটবলপ্রেমীই তাকে মাঠের সবুজ ঘাসে দেখতে চায়।'
ফুটবল থেকে বিদায় নেয়ার পর কিংবদন্তিদের যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা ম্যারাডোনার উদাহরণ টেনে ফুটিয়ে তোলেন এই সফল কোচ। স্কালোনি যোগ করেন, 'আমি চাই সে খেলা চালিয়ে যাক। কারণ এই ধরনের কিংবদন্তিরা যখন আর মাঠে থাকে না, তখন সত্যিই মন খারাপ হয়ে যায়; যেমনটা দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে হয়েছিল। তারা ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেসি আর খেলবে না, এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়। তাই আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।'
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ডাগআউটে দুটি কোপা আমেরিকা ও লা ফিনালিসিমার শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন স্কালোনি। তবে অতীত সাফল্যকে পেছনে ফেলে সামনে তাকানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। আসন্ন আসর নিয়ে স্কালোনি বলেন, 'বিশ্বকাপ ভীষণ কঠিন এবং জটিল একটি প্রতিযোগিতা। এখানে শুধু ভালো খেললেই হয় না, আরও অনেক সমীকরণ ঠিকঠাক মিলতে হয়। তবে আমরা আমাদের চেনা ছন্দেই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ আর্জেন্টিনা প্রতিবার বিশ্বকাপে শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে। কাজটা কঠিন, তবে আমাদের পক্ষে অসম্ভব নয়।'
দলের তারকাখচিত স্কোয়াড সামলানোর পেছনের গোপন কৌশলও ফাঁস করেছেন স্কালোনি। ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা মাঠের কোনো কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। তবে আমরা যখন খেলোয়াড়দের ব্রিফ করি, তখন খুব সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই শুধু বলি। অতিরিক্ত তথ্য দিলে অনেক সময় খেলোয়াড়রা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আমরা নিজেরাও তো একসময় ফুটবলার ছিলাম, তাই খুব ভালো করেই জানি তাদের কখন কী দরকার। আমরা সবসময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখি।'



